Image description
♦ রাবার দিয়ে মুড়িয়ে আলাদা যত্নে রাখা হয় ডলার ♦ টাকায় পিন, সেলাই ও লাল কালির দৌরাত্ম্য

ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নোট সংরক্ষণে অবহেলার কারণে বাড়ছে গ্রাহক ভোগান্তি। টাকায় পিন মারা, সেলাই করা এবং লাল কালি দিয়ে লেখা এমন নানা কারণে নতুন নোটও অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পিন খোলার সময় টাকায় ফুটো তৈরি হচ্ছে, যার ফলে সিআরএম (ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন) এসব টাকা গ্রহণ করছে না।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নতুন নোট হলেও সামান্য ফুটো, সেলাইয়ের দাগ বা লাল কালির লেখা থাকলে সিআরএম মেশিন তা বাতিল করে দিচ্ছে। এতে টাকা জমা দিতে না পেরে গ্রাহককে বারবার ব্যাংক শাখায় যেতে হচ্ছে। কিন্তু শাখায় গিয়েও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

বাংলাদেশ ব্যাংক নোটের ওপর লাল কালিতে লেখা বন্ধ করার নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এখনো নোটে লাল কালি দিয়ে লেখা হচ্ছে, পিন মারা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে সেলাই করা হচ্ছে। এর ফলে নোটের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে এবং দ্রুত ছিঁড়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অনিয়ম শুধু নোটের ক্ষতিই করছে না, বরং ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর গ্রাহকের আস্থাও কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে ডলার সংরক্ষণ ও লেনদেনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো ডলারের ওপর কোনো ধরনের লেখা থেকে বিরত থাকছে। পিন মারা তো দূরের কথা, ডলার নোটগুলো রাবার দিয়ে মুড়িয়ে আলাদা যত্নে রাখা হচ্ছে। ডলারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হলেও দেশীয় মুদ্রা টাকার ক্ষেত্রে সেই মনোযোগ অনুপস্থিত এমন অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, নতুন টাকা নিয়েও যদি সিআরএম মেশিনে জমা দেওয়া না যায়, তাহলে আমাদের দুর্ভোগ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? তারা দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং ব্যাংকগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। অর্থনীতিবিদদের মতে, নোট সংরক্ষণ ও ব্যবহারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

একই সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সচেতনতা বাড়ানো এবং গ্রাহকদের ক্ষতিগ্রস্ত নোট দ্রুত বদলে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে পিন, সেলাই ও লাল কালির দৌরাত্ম্যে দেশের কাগুজে মুদ্রার ওপর আস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হবে।