Image description

ফরিদপুরে বস্তির সামনে পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে যৌথবাহিনীর উদ্ধারকৃত বোমাটি ২৪ ঘণ্টা পর শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় শহরের গোয়ালচামট প্রতিমা বিসর্জন ঘাটে বিশেষ ব্যবস্থায় সেটি নিষ্ক্রিয় করেন পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।

বোমাটি শক্তিশালী আইডি (ইম্প্রোভাইস এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) এবং রিমোর্ট কন্ট্রোল যুক্ত নিয়ন্ত্রিত ছিল। এটি সাধারণ বোমার চেয়ে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী বলে জানিয়েছে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। এটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করতে চেয়েছিল দুর্বৃত্তরা।

বোমাটি নিষ্ক্রিয়ের পর শহরজুড়ে জনগণের মধ্যে যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল তা দূর হয়েছে। তবে শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কয়েকটি টিম শহরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে।

এর আগে শনিবার সকালে উদ্ধার করার পর সারা রাত বোমাটি বিশেষ নিরাপত্তার মাঝে ঘিরে রাখে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। রোববার সকালে বোমাটি নিষ্ক্রিয়করণে পুলিশের এ ইউনিটটির দশজন সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

প্রথমে তারা বিশেষ নিরাপত্তা পোশাক পরিধান করে বালুর বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা বোমাটির কাছে গিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এছাড়া বুলেটপ্রুভ সরঞ্জাম দিয়ে সেটি ঢেকে রাখেন। এরপর প্রায় ১০০ মিটার দূর থেকে তার যুক্ত যন্ত্রের মাধ্যমে বোমাটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় ধোঁয়া ও প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতায় স্প্লিন্টার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিটকে যায়। পরে তারা বিস্ফোরিত বোমাটির আলমত সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।

এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম এলাকা ও প্রধান সড়কের আলীপুর আলীমুজ্জামান সেতুর পূর্ব-দক্ষিণ প্রান্তে একটি নীল রংয়ের ব্যাগের ভেতরে রাখা বোমা রয়েছে- এমন সন্দেহে স্থানটি ঘিরে রাখে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টা শেষে দুপুর ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ একজন সদস্য সেটি উদ্ধার করে প্রায় ৩০০ গজ দূরে সেতুর নিচে কুমার নদের পাড়ে বালুর বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখে। এরপর রাতভর সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়।

পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজালের পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ বলেন, বোমাটি শক্তিশালী আইডি এবং রিমোর্ট কন্ট্রোলযুক্ত। এটি সাধারণ বোমা থেকে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিকভাবে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যে বা যারা এটি রেখেছে তাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।