Image description
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ঘনিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।  ভোটের আগে সময় মাত্র ৩০ দিন। ইতিমধ্যে সারা দেশে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আগামী ২১শে জানুয়ারি প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাবেন। এরপর থেকেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা। ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু না হলেও ভোটারের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা।

নানা অনুষ্ঠান, কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। ভোটের লড়াইয়ে জিততে নানা কৌশল সাজাচ্ছেন। প্রার্থিতা চূড়ান্তের পর দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করবে। দলীয় প্রধানসহ শীর্ষ নেতারা ছুটবেন সারাদেশে। ভোটের প্রচারের পাশাপাশি দলের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন তারা। এবারের নির্বাচনটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর এবার সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছেন। আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে নেই। সঙ্গে দলটির ফ্যাসিবাদী শাসনের সহযোগী কয়েকটি দলও নির্বাচনের বাইরে। এছাড়া দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ভোটে লড়তে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো বড় দুই শিবিরে জোটবদ্ধ হয়েছে। 

বিএনপি’র ও সমমনা দলগুলোর জোট একসঙ্গে নির্র্বাচনে লড়ছে। এই জোটের আসন বণ্টনও চূড়ান্ত হয়েছে। বিএনপি সমমনা দলের নেতাদের জন্য ১৪টি আসন ছাড় দিয়েছে। এসব আসনে বিভিন্ন দলের নেতারা নিজ নিজ দলীয় প্রতীক বা বিএনপি’র হয়ে ধানের শীষে নির্বাচন করবেন। এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের জোট নির্বাচনে লড়বে। নির্বাচনে এই দুই জোটের প্রার্থীদের মধ্যেই লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের সহযোগী হওয়া জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে আছে। নানা কারণে বিপর্যস্ত জাপা নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে। এছাড়া অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য অনেক নেতা এলাকামুখী হতে পারছেন না। এমন অবস্থায় দলটি নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুতি নিলেও ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান কেমন হবে তা নিয়ে অনেকে সন্দিহান। শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা এ নিয়ে কারো কারো সন্দেহ রয়েছে। দলটির সিনিয়র অনেক নেতা দল ছেড়ে আলাদা জাতীয় পার্টি করেছেন। তাদের নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক জোটও হয়েছে। এই জোটের নেতাদের কেউ নির্বাচন করছেন আবার কেউ নির্বাচনে নেই। এসব দল ও জোটের বাইরে নির্বাচনে অংশ নেয়া দলগুলোর উল্লেখযোগ্য অবস্থান নেই। এককভাবে নির্বাচনে থাকা দলগুলোর কোনো কোনোটি বড় দুই জোটের অংশ হওয়ার চেষ্টা এখনও জারি রেখেছে। 

আওয়ামী লীগের সময়ে হওয়া নির্বাচনগুলো ছিল বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য। এর মধ্যে বিনাভোট, রাতের ভোট, ডামি ভোটের মাধ্যমে তিনবার ক্ষমতা ধরে রাখে আওয়ামী লীগ। এসব নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি। নতুন প্রজন্মের ভোটার অনেকে জীবনের প্রথম ভোটটি দিতে অপেক্ষায় আছেন দীর্ঘদিন থেকে। এছাড়া এবার প্রবাসীরাও ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠা হবে- এমনটা প্রত্যাশা করছে মানুষ। এবার জাতীয় নির্বাচনের ভোটের সঙ্গে গণভোটও আয়োজন করা হয়েছে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের শাসনকাঠামোর সংস্কার ও রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে এই ভোট হবে। জুলাই সনদের প্রতি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ এ সিল দিয়ে ম্যান্ডেট দেবেন ভোটাররা। গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াত, এনসিপিসহ সমমনা দলগুলো। বিএনপি জুলাই সনদে সই করেছে। গণভোটেও দলটি আগে থেকেই সমর্থন দিয়ে আসছে। 

নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকে নানা সংশয় থাকলেও তা অনেকটাই কেটে গেছে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। তফসিল অনুযায়ী এখন মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল শুনানি চলছে। ২১শে জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। এরপরই শুরু হবে নির্বাচনের প্রচারণা। প্রচারণা চলবে ১০ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত।

নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৪২ জন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সারা দেশে ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ৩ হাজার ৪০৬ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ২ হাজার ৫৬৮ জন। বাতিল করা মনোনয়নপত্রের সংখ্যা ৭২৩টি। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ এবং ফেনী-১ আসনের ৩টি মনোনয়নপত্র কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই কার্যক্রম সমাপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া আদালতের নির্দেশে পাবনার দুটি আসনে নির্বাচন স্থগিত করেছে কমিশন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ৪৭৮ জন।