বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক কৃষি, সঞ্চয়পত্র ও টকশো থেকে বছরে আয় করেন ৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
সাইফুল হকের স্ত্রী বহ্নি শিখা জামালী দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য। তিনি একটি পাক্ষিক ও একটি মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশ; স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে কোটি টাকার সম্পদ আছে তার।
স্ত্রীর অর্ধেকেরও কম সম্পদের মালিক সাইফুল হক। তার ৪১ ভরি স্বর্ণ আছে, যা ‘উপহার সূত্রে’ পাওয়া। অপরদিকে স্ত্রীর আছে ৭০ ভরি স্বর্ণ, পেয়েছেন ‘উপহার সূত্রে’।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দীর্ঘদিন বামপন্থি রাজনীতিতে যুক্ত থাকা এই নেতা।
হলফনামায় সাইফুল তার নিজের ও স্ত্রীর আয় ছাড়াও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় সাইফুল হক নিজের বয়স ‘৩৫ বছর’ দেখিয়েছিলেন। আর শিক্ষাগত যোগ্যতা ঘরে লিখেছিলেন ‘এইচএসসি’।
হলফনামায় বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা কম দেখানোর বিষয়ে মঙ্গলবার সাইফুল হকের সঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কথা বলেছে। তিনি বলেছিলেন, “এটা টাইপ করতে গিয়ে ভুল হয়েছে, পরে যাচাই-বাছাইয়ের দিন এটা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।”
বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা তিনি ঠিক করে নতুন যে কপি জমা দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে তা ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে সাইফুল হকের বয়স ৬৭ বছর এবং সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক লেখা হয়েছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি জোটের এই প্রার্থীর স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার নিউ ইস্কাটন রোডে, বাড়ির নাম ‘ম্যাপল রিজ’।
তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। নগদ টাকা আছে ২ লাখ ৯৮ হাজার। তবে সাইফুল হকের নগদ আছে ৫১ হাজার টাকা।
এই নেতা কৃষি খাত থেকে বছরে ১৮ হাজার টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং টকশো থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আয়ের তথ্য দিয়েছেন।
বহ্নি শিখা সঞ্চয়পত্র থেকে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৯৯ টাকা এবং অন্য উৎস থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বছরে আয় করেন বলে হলফনামা বলা হয়েছে।
গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদকের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আরও রয়েছে, ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, সাড়ে ১১ লাখ টাকা দামের গাড়ি, ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দামের টেলিভিশন, ফ্যান, ফ্রিজ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন। আসবাব আছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৫৫ লাখ ৯১ হাজার ৮৮ টাকা, আর বর্তমান মূল্য ১ কোটি ৩২ লাখ ৯১ হাজার ৮৮ টাকা।
অন্যদিকে বহ্নি শিখার স্বর্ণ ছাড়াও ৪৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ২৬ হাজার টাকা দামের মোবাইল ফোনসেট আছে। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৪৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৮ টাকা, যার বর্তমান মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ১ কোটি ৮৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৮ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে সাইফুল হক এক একর কৃষি জমি আছে। মোট ৩৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ থাকার তথ্য দিয়েছেন তিনি।
সাইফুল হকের স্ত্রীর আছে ৮০-৯০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ, যেখানে ৬৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থাকার তথ্য রয়েছে।
হলফনামায় আয়কর রিটার্নের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেখানে সাইফুল হকের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪৭ লাখ ২১ হাজার ৮৮ টাকা, বহ্নি শিখার ১ কোটি ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮ টাকা।
তিনি ২০২৫-২৬ করবর্ষে ৭৭ হাজার ৫৩০ টাকা কর পরিশোধের উল্লেখ রয়েছে। অপরদিকে তার স্ত্রী একই করবর্ষে কর দিয়েছেন ৪৬ হাজার ৭৮০ টাকা।
কয়েক দশকের রাজনৈতিক জীবনে কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হননি বলে হলফনামায় বলেছেন সাইফুল হক।
যুগপৎ আন্দোলনে সঙ্গী হিসেবে ঢাকা-১২ আসন থেকে বিএনপি সাইফুল হককে জোট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে আসনটিতে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বিএনপির নেতা সাইফুল আলম নীরব। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল আলম খান মিলন।