Ali Ahmad Mabrur (আলী আহমেদ মাবরুর)
শেখ হাসিনার আমলের শেষ সময়ের ঘটনা। বাহিরে গুলি করে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হচ্ছে। অগ্নিসংযোগ, কার্ফু চলমান। এরকম সময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের নিমন্ত্রণ করে নিয়ে যাওয়া হলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। কঠোর হস্তে কেন আন্দোলন দমন করছেন শেখ হাসিনা তা ব্যবসায়ীদের বোঝালেন। তাদের সমর্থন কামনা করলেন। ব্যবসায়ীরাও তাকে মন ভরে সমর্থন করলেন। উন্নয়নের দোহাই দিয়ে তার মানুষ হত্যা সমর্থন করলেন। প্রথমত আমি তোমাকে চাই, দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই গান গয়ে তার স্তুতি করলেন।
এই ব্যবসায়ীরা দুদিন আগে বিএনপির এ্যাকটিং চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করে তার প্রশংসা করলেন। তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে যারা একসময় চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছিলেন, যারা দাবি করতেন, হাওয়া ভবনের যন্ত্রণায় তারা ব্যবসা করতে পারছেন না; তারাই এখন আবার তারেক রহমানের বন্দনায় ভাসছেন। ‘দেশকে কেবল তারেক রহমান বাঁচাতে পারেন’- এমনটাই বলছেন।
আসা যাক মিডিয়া প্রসঙ্গে। যে মিডিয়াগুলো খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার জন্য সর্বশক্তি ব্যয় করেছিল; তারেক রহমানের চরিত্র হনন করেছিল। Khaleda failed by saving Corrupt Son কিংবা Crown to Crime শিরোনামে সিরিজ প্রতিবেদন করেছিল; খাম্বা ইস্যু বা জিয়া ওরফ্যানেজ ট্রাস্ট ইস্যুর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে জিয়া পরিবারের ইমেজ ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করেছিল; তারাই এখন জিয়া পরিবারের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ দেখতে চাইছেন। পুরনো সময়ে রিপোর্টের কাফফারা হিসেবে এরই মধ্যে তারা তারেক রহমানকে নিয়ে করা পুরনো সব নেগেটিভ সব নিউজ ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নিয়েছেন ও নিচ্ছেন।
প্রশাসনের ক্ষেত্রেও বলি। হাসিনা ১৫ বছর টিকে ছিল প্রশাসন দিয়ে। তাদেরকে সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বলে বেড়াতেন, আওয়ামী আমলেই তারা সবচেয়ে ভালো ছিল। আর ঠিক এ কারণে জুলাই পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর তাদের ক্ষোভ ছিল। অনেক উপদেষ্টাই প্রশাসন থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাননি বলে নানা সময়ে অভিযোগ তুলেছেন। সচিবালয়ে একাধিকবার আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনাও গত দেড় বছরে ঘটেছে। কয়েকবার একাধিক উপদেষ্টা সচিবালয়ে জিম্মি হয়ে ছিলেন এরকম খবরও আমরা দেখেছি। এখন এই প্রশাসন আবার ভোল পাল্টে বিএনপিকে পাওয়ারে নিয়ে আসার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের এই বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায়ও নেই। আপনি ব্যবসায়ী, মিডিয়া বা প্রশাসন ছাড়া দেশ চালাতেও পারবেন না। কিন্তু সত্যি কথা হলো, পল্টি দেয়ার এই বিষয়টি যতদিন জারি থাকবে, আর পল্টিবাজদের সহজে বরণ করে নেয়ার সিলসিলা যতদিন অব্যহত থাকবে; ততদিন যতই অভ্যুত্থান হোক, যতই মানুষের জীবন যাক; কিছুদিন পর ঘুরে ফিরে একই বাস্তবতা ফিরে আসবে। আজকে যা বিএনপির সাথে হচ্ছে, আগামীতে হয়তো অন্য কারো সাথেও তাই ঘটবে। মানুষের সুবিধাবাদী ও দাসত্বমূলক মাইন্ডসেট পরিবর্তন করা না গেলে এখানে ভালো কিছু হওয়া আসলেই কঠিন।