Image description
 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়টির এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্ত তাসমিম মাহিদ চঞ্চল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, গত বছরের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডি মডেল থানা ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় এই এজাহার দায়ের করে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। যার একটি কপি শীর্ষ নিউজের হাতেও এসেছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রায় এক বছর আগে অভিযুক্ত তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর এক পর্যায়ে খেতে যাওয়ার নাম করে জোরপূর্বক রেস্টুরেন্টে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে। ভুক্তভোগী সম্পর্ক রাখতে না চাইলে গোপনে ধারণকৃত স্পর্শকাতর ভিডিও দেখিয়ে বারবার ব্ল্যাকমেইল এবং বিয়ের প্রলোভনে বারবার শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে ওই ছাত্রীকে সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করে ওই ছাত্র।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে ওই ছাত্র ভুক্তভোগীকে বিয়ে না করে এড়ানোর চেষ্টা করলে, ভুক্তভোগী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হন। বিষয়টি মীমাংসা করতে বলা হলেও বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানো হয় অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে। এছাড়া যোগাযোগ না রাখার জন্য হুমকি দেওয়া হয়।

মামলার পর ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল প্রশাসন এক জরুরি সভায় অভিযুক্ত তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করে তাকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়।

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো আসামিকে হলে রাখার সুযোগ নেই। তাই আবাসিক শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে তার সিট বাতিল করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্যে তার ব্যবহৃত নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোন সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে ধানমন্ডি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শীর্ষনিউজ