দীর্ঘ দেড় বছর পর প্রিয় সন্তানের কবরের ওপর কান্নায় ভেঙে পড়েন উত্তরায় নিহত ফয়সাল সরকারের মা হাজেরা বেগম, যাত্রাবাড়ীতে নিহত সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম, মাহিমের মা জোসনা বেগম ও স্ত্রী। এ সময় রায়েরবাজার কবরস্থানে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
যাত্রাবাড়ীর কাজলায় আন্দোলনে শহীদ সোহেল রানার মা ছেলের কবরের সামনে গিয়ে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। ছেলের নানা স্মৃতি তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, বাবা তুই আমাকে কিছুই বলে গেলি না। আমার পায়ে তেল মালিশ করে ঘুমিয়ে রেখে গেলি। বাবা, আর তোরে পাইলাম না।
মা রাশেদাসহ ৮ শহীদের স্বজনদের আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনের কবর পেয়ে কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউ মাটি ছুঁচ্ছেন, কেউ কবরে লাগানো গাছে হাত বুলাচ্ছেন। সবার চোখের পানিতে ভাসছিল নানা স্মৃতি।
এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এক মাসের চেষ্টায় রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা অজ্ঞাত শহীদদের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। সোমবার সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ ও অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে স্বজনদের কবর বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
শনাক্ত হওয়া জুলাই যোদ্ধারা
মাদারটেক এলাকায় নিহত কাবিল হোসেন (৫৮), বাবা : মৃত বুলু মিয়া, মা: ছামেনা বেগম; যাত্রাবাড়ীর মোহাম্মদবাগ এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী সোহেল রানা (৩৮), বাবা : মো. লাল মিয়া, মা: রাশেদা বেগম; উত্তরায় নিহত আসাদুল্লাহ (৩১); বাড্ডায় নিহত পারভেজ ব্যাপারী (২৩), বাবা : সবুজ ব্যাপারী, মা: শামসুন্নাহার; যাত্রাবাড়ী এলাকায় নিহত রফিকুল ইসলাম (২৯), বাবা : মৃত খোরশেদ আলম, মা: আলেয়া বেগম; মোহাম্মদপুরে নিহত মাহিম (৩২), বাবা : গাজী মাহমুদ, মা: জোসনা বেগম; উত্তরায় নিহত ফয়সাল সরকার (২৬), বাবা : শফিকুল ইসলাম, মা: হাজেরা বেগম এবং রফিকুল ইসলাম (৫২), বাবা : মৃত আব্দুল জব্বার শিকদার, মা: জাহানারা বেগম।
এদিকে অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় শনাক্তের পর কবর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সিআইডি প্রধান বলেন, জুলাই ১৫ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১১৪টি কবরের লাশ উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে প্রোফাইলিং করা হয়েছে। অজ্ঞাত শহীদদের ৯টি পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা সোমবার ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছি। আর একজন শহীদের নাম জিলানি।
২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর বিশেষ প্রস্তুতি শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় শনাক্তে লাশ উত্তোলন শুরু করে সিআইডি। এই কাজে আর্জেন্টাইন নাগরিক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফরেনসিক অ্যানথ্রোপোলজিস্ট ও ফরেনসিক কনসালটেন্ট ড. লুইস ফনডেরিডার-এর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় নমুনা সংগ্রহের কাজ চলে।