Image description

লক্ষ্মীপুর সদরে দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া শিশু আয়েশার বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। দ্বিতীয় থেকে এবার তৃতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে আয়েশা আক্তার বিনতি, তার রোল নম্বর ২২ থেকে হয়েছে ২। কিন্তু এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার জন্য নেই আয়েশা নিজে। তার বড় বোন সালমা আক্তারও নেই। আনন্দ নেই পরিবারের অন্য সদস্যদের মাঝেও।

গত ১৯ ডিসেম্বর গভীর রাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সূতারগোপ্টা এলাকায় তাদের বাড়িতে আগুন লাগে। বাবা বেলাল হোসেন ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। সূতারগোপ্টা বাজারে তার সারের দোকান রয়েছে। বেলালের অভিযোগ, বাইরে থেকে ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছে কেউ। এতে মারা গেছে ফুটফুটে শিশু আয়েশা ও তার বড় বোন সালমা। দুই বোনকে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়েছে।

বেলাল হোসেনের তিন মেয়েই পড়াশোনা করেছে স্থানীয় ফাইভ স্টার স্কুল অ্যান্ড কলেজে। বড় মেয়ে সালমা এই স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। মৃত্যুর আগে অন্য একটি কলেজে পড়াশোনা করতেন। ৫ ডিসেম্বর মুঠোফোনের মাধ্যমে প্রবাসী এক পাত্রের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তার। মেজ মেয়ে সামিয়া আক্তারের অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। আগুনে পোড়ার কারণে সে আর বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারেনি।


আয়েশার বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, মোট ৫০০ নম্বরের মধ্যে ৪৪৩ নম্বর অর্জন করেছে সে। এর মধ্যে ১০০ নম্বরের ৪টি বিষয়ে পেয়েছে ৮০’র উপরে। যথাক্রমে বাংলায় ৮০, ইংরেজিতে ৮৮, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষায় ৯৩ এবং গণিতে ৮৭। এ ছাড়া সাধারণ জ্ঞান ও ড্রইংয়ে ৫০ নম্বরের মধ্যে যথাক্রমে ৪৮ ও ৪৭ নম্বর তুলেছে শিশুটি।

তার ফলাফল প্রসঙ্গে ফাইভ স্টার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নোমান ছিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আয়েশা খুব ভাল রেজাল্ট করেছে কিন্তু আমরা এটি নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে পারছি না।’

আয়েশার বন্ধুরা প্রায়ই তার কবরের কাছে গিয়ে বসে থাকে বলেও জানান প্রধান শিক্ষক। বলেন, ‘সামিয়ার অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষাটা দেওয়া হলো না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আয়েশার বাবা বেলাল হোসেন বলেন, ‘মেয়ের রেজাল্ট হয়েছে, দেখেছি। সে খুব ভাল করেছে। সেকেন্ড হয়েছে। কিন্তু রেজাল্ট দিয়ে আর কী হবে? মেয়েটা আমাকে আব্বু আব্বু বলে ডাকল, কিন্তু আমি তাকে বাঁচাতে পারলাম না। চোখের সামনেই পুড়ে মারা গেল। বড় মেয়েটা মারা যাওয়ার এক ঘণ্টা আগেও ভিডিও কলে কথা বলেছি। ডাক্তার বা শিক্ষক হতে চেয়েছিল। কোনোটাই হল না। সামিয়া বৃত্তি দিতে পারল না।’

জানা গেছে, ঘটনার পর রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছিল বড় মেয়ে সালমাকে। কিন্তু গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়। বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক রবিউল করিম ওই সময় জানিয়েছিলেন, সালমার শ্বাসনালিসহ শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। শরীরে এমন কোনো জায়গা ছিল না, যেখানে দগ্ধ হয়নি। এ ছাড়া মেজ মেয়ে সামিয়া আক্তারের শরীরের ২ শতাংশ পুড়েছিল বলেও জানা গেছে।