Image description
 

নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার সীমানায় অবস্থিত বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার খননকে কেন্দ্র করে প্রায় সাতশ কৃষকের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছেন কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বুড়ি তিস্তা এলাকায় সহস্রাধিক মানুষ এই মিছিলে অংশ নেন।

বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার খননকাজে বাধা, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে পাউবোর জলঢাকা কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জলঢাকা থানার ওসি নাজমুল আলম কালবেলাকে জানান, শুক্র ও শনিবার সকালে করা দুই মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩ ও ৪৪৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এক মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৩০০ এবং অপর মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৩৫০ জনসহ মোট ৬৯১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার খনন সরকারের একটি উন্নয়নমূলক কাজ। এতে বাধা দিয়ে অবৈধভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখলকারীরা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি দুই দফায় হামলা চালান। এ সময় সংরক্ষিত এলাকার আনসার ক্যাম্প ও ঠিকাদারি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ঘটনাগুলো পূর্বপরিকল্পিত ও সংগঠিত বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ দিকে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার সন্ধ্যায় বুড়ি তিস্তা এলাকায় মশাল মিছিল করেন অভিযুক্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মিছিলে অংশ নেওয়া কৃষকেরা বলেন, তারা তাদের বাপ-দাদার আমলের তিন ফসলি জমি রক্ষা করতেই আন্দোলনে নেমেছেন।

কৃষকদের দাবি, ডিমলা উপজেলার কুঠিরডাঙ্গা, রামডাঙ্গা ও পচারহাট এবং জলঢাকা উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা ও খারিজা গোলনা মৌজায় প্রায় ৯৫৭ একর তিন ফসলি কৃষিজমি রয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ১৬০ একর জমিতে জনবসতি ও সরকারি স্থাপনা অবস্থিত। এসব জমিতে চাষাবাদ করেই দীর্ঘদিন ধরে তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, সম্প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিন ফসলি জমিতে উঁচু বাঁধ দিয়ে জলাধার খননের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে কৃষকেরা জমিতে যেতে পারছেন না। জমি ছাড়তে নানা ধরনের চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় কৃষকদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। মামলা প্রত্যাহার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন আন্দোলনকারীরা।

এ বিষয়ে পাউবোর নীলফামারী নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান কালবেলাকে বলেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা জমির সীমানা ও মালিকানা যাচাই শেষে অনুমোদন নিয়ে জলাধার খননকাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমিগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে রেকর্ডভুক্ত এবং নিয়মিত রাজস্ব সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হচ্ছে।

পাউবোর এ কর্মকর্তা আরও বলেন, বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার খননসহ অন্যান্য উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। কৃষকদের অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেছেন তিনি।