Image description

স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা পরিবর্তনের পর এ মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে। আগের উপদেষ্টার একান্ত সচিবসহ (পিএস) ১৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে বদলি করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে বদলি করা হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে। আগের উপদেষ্টার সময়ে নেওয়া কিছু প্রকল্পও পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।

গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের তিন মাস পর স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার দায়িত্ব পান অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের অন্যতম আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ভোটে অংশ নিতে গত ১০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন তিনি। পরদিন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় আদিলুর রহমান খানকে, যিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও রয়েছেন।

এরপর গত দুই সপ্তাহে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক রদবদল হয়। একসঙ্গে এতজন কর্মকর্তাকে বদলি করা নিয়ে জনপ্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু নতুন উপদেষ্টা এসেছেন, স্বাভাবিকভাবে তিনি তাঁর মতো করে মন্ত্রণালয় সাজাবেন, যেমনটা আসিফ মাহমুদ সাজিয়েছিলেন। প্রশাসনে এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, এ মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন সময়ে যাঁদের নামে অভিযোগ ছিল, তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বদলির প্রজ্ঞাপনগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি করে অন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। ১৪ ডিসেম্বর প্রথম এ মন্ত্রণালয় থেকে দুজন উপসচিব নুরে আলম ও মোহাম্মদ শামীম বেপারীকে বদলি করে পরিকল্পনা বিভাগে পাঠানো হয়। ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁরা বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ না দিলে তাৎক্ষণিক এ মন্ত্রণালয় থেকে অবমুক্ত হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,এ দুই কর্মকর্তা এরই মধ্যে পরিকল্পনা বিভাগে যোগ দিয়েছেন।

আদিলুর রহমান খান
আদিলুর রহমান খানফাইল ছবি

অন্যদিকে আসিফ মাহমুদের একান্ত সচিব (পিএস) আবুল হাসানকে (যুগ্ম সচিব) গত ২৪ ডিসেম্বর বদলি করা হয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে। এ সময়ে বদলি করা হয় যুগ্ম সচিব মো. নাজমুল হুদা শামীম, যুগ্ম সচিব ওয়াহেদুর রহমান, যুগ্ম সচিব আল-মামুন, যুগ্ম সচিব মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব আল-আমিন সরকার, যুগ্ম সচিব ফজলে আজিম, উপসচিব আকবর হোসেন, উপসচিব ইবাদত হোসেন, উপসচিব শাহীনুর আলম ও উপসচিব রবিউল ইসলামকে।

এদিকে অন্য মন্ত্রণালয়ে কর্মরত পাঁচ কর্মকর্তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন অতিরিক্ত সচিব আকনুর রহমান, যুগ্ম সচিব রোকসানা খান, যুগ্ম সচিব হোসনা আফরোজা, উপসচিব নজরুল ইসলাম ও উপসচিব আশরাফুল আফসার।

একসঙ্গে এতজন কর্মকর্তাকে বদলি করা নিয়ে জনপ্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু নতুন উপদেষ্টা এসেছেন, স্বাভাবিকভাবে তিনি তাঁর মতো করে মন্ত্রণালয় সাজাবেন, যেমনটা আসিফ মাহমুদ সাজিয়েছিলেন। প্রশাসনে এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, এ মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন সময়ে যাঁদের নামে অভিযোগ ছিল, তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াফাইল ছবি

বদলির বিষয়ে কথা বলতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে দুটি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এ মন্ত্রণালয়ে রয়েছেন, তাঁদের সরানো হচ্ছে।

তবে একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ মন্ত্রণালয়ে আরও অন্তত পাঁচজন কর্মকর্তা রয়েছেন, তাঁরা অনেক দিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, তাঁদেরও বদলি করা হবে।

ফেরত পাঠানো হচ্ছে প্রকল্প

অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতা থেকে উপদেষ্টার পদে আসা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে নিজ জেলার জন্য কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেন তিনি। তাঁর পদত্যাগের পর এখন সেসব প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু না করে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

মুরাদনগর উপজেলার আর্চি নদ ও বুড়ি নদী পুনঃখননে ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করতে গত অক্টোবরে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটি নেওয়ার সময় অনেক প্রক্রিয়া মানা হয়নি।

 

একইভাবে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ঘুংঘর নদী ও খাল পুনঃখননে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি প্রকল্প এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। তবে এ প্রকল্পটিও ফেরত পাঠানো হয়। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এ দুটি প্রকল্পে কতসংখ্যক জনবল লাগবে, তা ঠিক করতে জনবল নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ নেওয়া হয়নি। প্রকল্প দুটি লাল ক্যাটাগরি হওয়ায় সমীক্ষা করা আবশ্যক, কিন্তু তা করা হয়নি।

দুটি প্রকল্পকে আলাদাভাবে বাস্তবায়ন না করে একীভূত করে সমীক্ষা করে তারপর বাস্তবায়ন করা উচিত বলে মত দিয়েছে কমিশন। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদের জেলা কুমিল্লার সড়ক ও অন্যান্য গ্রামীণ অবকাঠামো মেরামত ও উন্নয়নে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে কমিশন।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কুমিল্লার সড়ক ও অন্যান্য গ্রামীণ অবকাঠামো মেরামত ও উন্নয়নের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়নি, তবে প্রক্রিয়াধীন।’