Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এখন চলছে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। গতকাল শুক্রবার যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে হেভিওয়েট কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তাদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ রয়েছেন। তপশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হবে আগামীকাল রোববার। যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন।

ঋণখেলাপি হওয়ায় যশোর-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূবের মনোনয়নপত্র টেকেনি। কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও গাইবান্ধা-১ আসনে দলটির প্রার্থী মো. মাজেদুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহীর মনোনয়ন স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র বাছাইপর্ব পার হতে পারেননি। কুমিল্লা-৫ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

বগুড়ার তিনটি আসনে সাতজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, বগুড়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাদী আলম লিপির ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গোলমাল থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এই আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী এবিএম মোস্তফা কামাল পাশার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে বগুড়া-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শাহজাহান তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফনামায় তথ্য গরমিল থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ হলফনামায় সম্পদের বিবরণীর ফরম দাখিল না করায় মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সেলিম সরকার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালুর মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফনামায় দেওয়া তথ্যে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। তথ্যে অসংগতি ও অস্পষ্টতা থাকায় তার মনোনয়নপত্রটিও বৈধ ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। হলফনামার এফিডেভিটে একই দিনে আইনজীবী ও প্রার্থীর সই থাকতে হয়। কিন্তু মান্না যেদিন সই করেছেন, আইনজীবী তার এক দিন আগেই সই করেছেন। মান্না যেসব মামলায় খালাস পাওয়ার কথা লিখেছেন, সেগুলোর কাগজপত্র দেননি। আর সম্পদের যে বিবরণী দিয়েছেন, তাতে ত্রুটি আছে।

এর আগে মান্নার নাম ঋণখেলাপির তালিকায় থাকায় তার ভোটের পথ আটকেছিল। ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটানোর জন্য তিনি হাইকোর্টে আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়। সেই আদেশের বিরুদ্ধে মান্না আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে গিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে ঋণ পুনঃতফসিল করে সিআইবির তালিকা থেকে নাম কাটানোর আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী।

এ আবেদন শুনে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক গত রোববার হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। সেইসঙ্গে সিআইবির তালিকায় মান্নার নামও স্থগিত করা হয়। ফলে ঋণ সংক্রান্ত জটিলতায় তার নির্বাচন করার জটিলতা কেটে যায়।

কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, হামিদুর রহমান আযাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালত-২-এ একটি আদালত অবমাননার মামলা হয়েছিল। হলফনামায় এ সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করলেও রায়ের কপি বা কাগজপত্র তিনি জমা দেননি। বাছাইকালে জমা দিলেও বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা উল্লেখ ছিল না। তার নিয়োজিত আইনজীবীরা মৌখিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু ১৯৭২-এর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টের সঙ্গে পরিপূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকায় হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

আপিলের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমার ক্ষমতাবলে ওই মামলা জটিলতা বিষয়ের সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার নেই। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারবে। ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ রয়েছে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে চাকরি করায় গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাজেদুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ আসনে সমর্থনকারী ভোটার সঠিক না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা আক্তার, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তফা মহসিন, দলের মনোনয়ন সঠিক না হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রমজান আলী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মাহফুজুল হক সরদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

গাইবান্ধা-২ আসনে দলের মনোনয়নপত্র সঠিক না হওয়ায় সিপিরি প্রার্থী মিহির কুমার ঘোষ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল মাজেদ ও হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম গোলাম আযমের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। এ আসনে ভোটারের স্বাক্ষরে অমিল পাওয়ায় বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত দলের রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

ýযশোর-৩ আসনে বাতিল হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও দলটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের মনোনয়ন। তিনি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ঋণখেলাপি ছিলেন।

যশোর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব, জেলা বিএনপির সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ এইচ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব ঢাকা ব্যাংকে ঋণখেলাপি রয়েছেন। টিএস আইয়ূবের প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে সম্প্রতি যশোরের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছিলেন ব্যাংকটির ধানমন্ডি মডেল ব্রাঞ্চের কর্মকর্তারা। তার ছেলে ফারহান সাজিদও নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের নাম ও সই জমা দিয়েছিলেন তিনি। তবে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান ভোটারের যে তালিকা দিয়েছেন, সেখানে অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

কুমিল্লা-৫ আসনে সিপিবির প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে যার স্বাক্ষরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থিতা মনোনীত হবে উল্লেখ করা হচ্ছে, তার মনোনয়নপত্রে সেটি নেই। তাই আমরা যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল বলে গণ্য করেছি। যে অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গিয়েছে, তা ঠিক করার জন্য তিনি আইনগতভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।’

এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল ক্বাফী বলেন, ‘সিপিবির বর্তমান সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের স্বাক্ষরিত ফর্মে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু আপডেট না করায় তারা আমাদের নতুন কমিটির তথ্য হয়তো জানেন না। যে কারণে আমার মনোনয়নপত্রে নতুন সভাপতির স্বাক্ষর দেখতে পেয়ে তারা সেটিকে বাতিল বলছে। এ ছাড়া আমার মনোনয়নপত্রে আর কোনো অসামঞ্জস্যতা তারা পায়নি। আমি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য আবেদন করব। যদিও এটি তাদের ভুল।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোটার তালিকায় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরজনিত জটিলতায় প্রার্থিতা বাতিল হয়। তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের নজরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে আরিফুর রহমান, নূরে আলম সিদ্দিকী, উমর ইউসুফ খান ও কাজী জাহাঙ্গীর। এ নিয়ে সপ্তমবারের মতো কাজী জাহাঙ্গীরের মনোনয়নপত্র বাতিল হলো।

খুলনায় তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও একজনের প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে। তারা হলেন খুলনা-৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আরা পারভীন (ইয়াসিন) এবং খুলনা-৬ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আছাদুল বিশ্বাস। এ ছাড়া খুলনা-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমানের মনোনয়নপত্র মুলতবি রাখা হয়েছে।

ময়মনসিংহে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে ময়মনসিংহ-১ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ রাশেদুল হক ঋণখেলাপি ও মামলার তথ্য গোপন করায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ময়মনসিংহ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী না দেওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক চালানের মূল কপি ও মোট ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থন সূচক কাগজপত্র দিতে না পারায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

ময়মনসিংহ-৩ আসনে বাংলাদেশের নেজামে ইসলাম পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আবু তাহের খান হলফনামায় মামলা সংক্রান্ত তথ্য না দেওয়া ও সম্পদের বিবরণী না দেওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শরিফুল ইসলাম মনোনয়নপত্রে সম্পদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণী না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

রংপুরের দুটি আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রংপুর-৩ আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ-মার্কসবাদী) আনোয়ারুল ইসলাম বাবলু এবং খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল।

রংপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির আব্দুস সালাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম বাশার ও জয়নুল আবেদিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে চার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তারা হলেন সিপিবির শেখ মো. কামাল হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী আনিস মোল্লা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি নুর হোসাইন নুরানী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে ১ শতাংশ সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়ায় বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তারা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু এবং জেলা কমিটির সদস্য মমিন আলী। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী জানান, যাচাই-বাছাইয়ের সময় দাখিল করা মনোনয়নপত্রে সমর্থনকারী ভোটারদের স্বাক্ষরের সঙ্গে ভোটার তালিকাভুক্ত তথ্যের অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে।

বরিশালের তিনটি আসনে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। বরিশাল-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম মাহবুব আলম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তহিদুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। বরিশাল-৬ আসনে মুসলিম লীগের প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুসের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। অঙ্গীকার নামায় অসংগতির কারণে বরিশাল-৫ সদর বাসদের প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্ত্তীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকির মনোনয়নপত্রে ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকায় মিলেছে একজন মৃত ব্যক্তির নাম। এ ছাড়া নানা অনিয়মের কারণে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির (জাকের) প্রার্থী মোহা. এরশাদ উল্ল্যার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

চট্টগ্রাম-২ আসনে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে চারজনের। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আকতার, আহমদ কবির এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুব ও গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান।

চট্টগ্রাম-৩ আসনে দলের মনোনয়ন সঠিক না হওয়ায় জাতীয় পার্টি এম এ ছালামের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া খেলাপির ও ভোটারের সত্যতা না থাকায় স্বতন্ত্রের মো. মোয়াহেদুল মাওলা এবং দ্বৈত নাগরিকের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের।

পাবনা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দুই বিএনপি নেতার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খায়রুন নাহার খানম ও কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের সহসভাপতি ইউনুস আলী।

শরীয়তপুর-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইমরান হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান সম্রাট, জনতার দলের প্রার্থী পারভেজ মোশাররফ এবং তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহানা কাদির রহমান, মো. আলমগীর হোসেন ও মো. নাসিরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।