Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকাকালে ভর্তি সহায়িকা ‘চান্স প্লাস’ গ্রন্থটি লিখেছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। বইটির রয়্যালটি থেকে তার জন্য ঢাকার কাছাকাছি এলাকায় জমিও কিনে দিয়েছিলেন বোন মাছুমা হাদি। তবে বিখ্যাত বইটি পড়ে ঢাবিতে ভর্তি হলেও অথবা ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেও অনেকে জানতেন না এর লেখক ছিলেন ওসমান হাদি। তেমনই একজন ইমরান আজিম, শহীদ মেজর মির্জা আব্দুল বাতেন দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক তিনি।

সম্প্রতি ইমরান আজিমের একটি লেখা ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি বইটি সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেছেন। ইমরান আজিম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। তবে ১০ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘১০ বছর আগে শহীদ ওসমান হাদির বই পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম। অথচ এতদিন জানতাম না বিখ্যাত এই বইয়ের লেখক আমাদের প্রিয় ওসমান হাদি। আমাদের সময় ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে কিন্তু সাইফুর’স প্রকাশনীর ‘চান্স প্লাস’ বইয়ের নাম শোনেনি এমনটা কখনো হওয়ার কথা নয়।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘উনি (ওসমান হাদি) যখন এই বই লেখেন তখন ঢাবির প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। এই বই থেকে এত পরিমাণ রয়ালিটি পেয়েছিলেন যে এই টাকা দিয়ে উনার বোন ঢাকার কাছাকাছি এলাকায় জমি কিনেছিলেন। পাশাপাশি সাইফুর’সে যারা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহীদ ওসমান হাদি (রহ.)। আহা, কত বড় রত্ন হারিয়েছি আমরা!’

গতকাল বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে ফেসবুকে লেখা ইমরান আজিমের এই পোস্টটি এ পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে। এ ছাড়া লেখাটি কপি করে পোস্ট করেছেন আরও অনেকে। পোস্টটি শেয়ার করে হাসান মাহমুদ ইমন নামে একজন লিখেছেন, ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে। হাদি ভাই কথা ও কাজে দুইটাতেই বড় হইছিলেন। তাকে আমরা বাঁচাতে পারলাম না।’

বইটির স্মৃতি জুড়ে এইচএম বাকি বিল্লাহ রাতুল লিখেছেন, ‘কেজি দরে বিক্রি করলেও আমরা জানি নাই যে, এ ওসমান আমাদের শরিফ ওসমান বিন হাদি।’ ইরফাতুল আযমান নাহিয়ান লিখেছেন, ‘এডমিশন পরীক্ষার্থী কে শুনেনি এই বইয়ের নাম! আমিও আজ জানলাম এই বই আমাদের হাদি ভাই লিখেছেন।’ ‘মুসাফির বাইতুল্লাহর’ নামের একটি আইডি থেকে লেখা হয়েছে, ‘বইটা এত পরিচিত কিন্তু আসলেই লেখকের নামের দিকে কখনোই খেয়াল করা হয়নি। এডমিশন টেস্ট দিয়েছে কিন্তু এই বই পড়েনি এমন কেউ হয়ত নাই!’