জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে মনোনীতপ্রার্থী রফিকুল ইসলাম খানের নামে দায়ের হওয়া মামলার সবগুলো থেকে বর্তমানে তিনি মুক্ত হয়েছেন।
বিগত সরকারের আমলে ঢাকার বিভিন্ন থানা ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন, নাশকতা এবং বিস্ফোরক আইনে এসব মামলা করা হয়। মওলানা রফিকুল ইসলাম খানের নির্বাচনী হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
হলফনামা থেকে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ঢাকা ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানায় মোট ৯৩টি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ মামলা হয় ঢাকার পল্টন থানয় ৩২টি। এছাড়া উল্লাপাড়ায় ১৪টি, মতিঝিল ১১, শাহবাগ ৮, রমনা ৬ ও রামপুরায় ৫টি মামলা দায়ের হয়। বাকি মামলাগুলো ঢাকার অন্যান্য থানা ও আদালতে করা হয়।
এসব মামলার মধ্যে ৫২টি মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, ২৯টি মামলা থেকে অব্যাহতি এবং ১২টি মামলায় খালাস পেয়েছেন রফিকুল ইসলাম খান।
এদিকে হলফনামায় রফিকুল ইসলাম খানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৯৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮২৯ টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৪৭ লাখ ৬৭ হাজার ৭৯ টাকা মূল্যের। নগদ অর্থ রয়েছে ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৮১৫ টাকা, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৩৬ লাখ ৩০ হাজার ২৬৪ টাকা। স্বর্ণালংকার ২০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৮০ হাজার ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ৮০ হাজার টাকা মূল্যের। স্থাবর সম্পদের মূল্য ৪৫ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫০ টাকা।
রফিকুল ইসলাম খানের বার্ষিক মোট আয় ১৫ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া আদায় বছরে ৩ লাখ ১০ হাজার ৫০০ এবং ব্যবসা থেকে আয় ১২ লাখ টাকা।
একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসন। বিগত নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করলে জানা যায়, আসনটিতে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের দবির উদ্দিন আহমেদ, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ আবদুল লতিফ মির্জা, ২০০৮ ও ২০২৪ সালে শফিকুল ইসলাম শফিক, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে প্রয়াত এইচটি ইমামের ছেলে তানভীর ইমাম আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। এ ছাড়া ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আবদুল হামিদ তালুকদার, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে এম আকবর আলী ও ১৯৯৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে শামছুল আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।