Image description

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছেন, দিল্লি ও ঢাকার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে খালেদা জিয়ার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে তিনি প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় শোকবইয়ে স্বাক্ষর করে রাজনাথ সিং ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়া শুধু একজন প্রভাবশালী নেত্রীই নন, বরং প্রতিবেশী দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ হাইকমিশনে পৌঁছালে রাজনাথ সিংকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ঢাকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। কোনো বিদেশি প্রভাবশালী মন্ত্রীর সরাসরি হাইকমিশনে গিয়ে শোক প্রকাশ করাকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ও সম্মানজনক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ২০২১ সালে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে রাজনাথ সিং বাংলাদেশ মিশনে সফর করেছিলেন, যা দুই দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ভারতের এই উচ্চপর্যায়ের শোক প্রকাশ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন ইতিবাচক মাত্রা যোগ করতে পারে।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে জিয়া উদ্যানে স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। জানাজায় দলমত নির্বিশেষে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।

এর আগে বুধবারই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় এসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা হস্তান্তর করেন। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনাথ সিং ও এস জয়শঙ্করের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা ও বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি ভারতের কূটনৈতিক গুরুত্বের ইঙ্গিত বহন করে।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এ ধরনের কূটনৈতিক সৌজন্য ভবিষ্যতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকাটাইমস