
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তিনটি বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। প্রথমত—সংস্কার (রিফর্মস) করা, যাতে বারবার নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়; দ্বিতীয়ত—বিচারকে দৃশ্যমান করা; তৃতীয়ত—বিশ্বমানের আনন্দমুখর নির্বাচন আয়োজন।
রোববার বিকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে জামায়াত প্রতিনিধি দলের নেতা ডা. আবদুল্লাহ মো. তাহের এ কথা জানান।
তিনি বলেন—বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব প্রতিশ্রুতিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনি সংস্কার নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে এবং ৩১ দলের মধ্যে অধিকাংশই গুরুত্বপূর্ণ ১৯টি ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি চালুর দাবি।
ডা. আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ২৫টি দল পিআর পদ্ধতির পক্ষে। আমরা চাই লোয়ার হাউস ও আপার হাউস-দুই স্তরেই পিআর প্রণয়ন করা হোক। পিআর প্রবর্তিত হলে দিনের ভোট রাতে হওয়ার সুযোগ থাকবে না, ভোট ডাকাতি রোধ হবে এবং একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।
সরকারকে সতর্ক জামায়াত নেতা বলেন—অধিকাংশ দলের মতামত উপেক্ষা করে যদি কয়েকটি দলের চাপে পুরোনো পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়, তবে তা সংকট সৃষ্টি করবে এবং পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে।
ডা. তাহের জোর দিয়ে বলেন, আমরা ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন চাই। তবে সে নির্বাচন হতে হবে সকল দলের সম্মতি, অংশগ্রহণ ও সন্তুষ্টি নিশ্চিত করে। তবেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নুরুল হক নুরুর ওপর হামলার ঘটনা তারই প্রমাণ। দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম নায়ক এবং নতুন বাংলাদেশের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতৃত্বের ওপর এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য বড় ধরনের হুমকি। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দাবি জানাই অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।