Image description

দেশ অস্থিতিশীলতায় কারা লাভবান হচ্ছেন? এমন প্রশ্ন এখন জনমনে উত্থাপিত হচ্ছে। কারণ আসছে ফেব্রুয়ারিতে বহু কাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে দেশ যখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত, ঠিক তখনই হঠাৎ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চিত্রায়িত হচ্ছে। সরকার জাতীয় নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্বাচন কমিশনকে ভোট আয়োজনে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া নির্দেশ দেওয়ার পর কমিশন ইতোমধ্যে রোডম্যাপও ঘোষণা করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকেও ভোটের একটি সম্ভাব্য তারিখ জানানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনরা যখন নির্বাচনী তরীতে তখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কারা? 

দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর পর দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হওয়ার পর দেশের সব শ্রেনী পেশার মানুষ একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের অপেক্ষায় রয়েছে। যে বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিকের কথা বলার অধিকারসহ সব গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হবে। মানুষের এই সব অধিকার নিশ্চিতে রাজনৈতিক দল, সরকার ও মুক্তিকামী মানুষ একটি সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে একটি জনপ্রতিনিধিত্ব সরকার দেখতে চাচ্ছে, যে সরকার শাসক নয়, সেবক হবে। জনপ্রত্যাশিত ওই নতুন সরকার গঠনে ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অবস্থায় রাজনৈতিক অঙ্গ অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে না তা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্নের অন্ত নেই। 

গতকাল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খানসহ দলটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মানে এসব প্রশ্ন বেশি দোল খাচ্ছে। দেশের পরিস্থিতি বিএনপি-জামায়াতসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। নুরের ওপর হামলাকে অনেকেই পরিকল্পিত বলে মনে করছেন। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশ যখন নির্বাচনী তরীতে তখন পরিকল্পিতভাবে কারা স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক করতে চায়। আর পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হলে এর সুবিধাভোগী কারা হবে। এসব ভাবতে হবে সরকার ও শীর্ষ রাজনীতিকদের। পরিস্থিতি ঘোলাটে করার নেপথ্যে কারা তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে। অবশ্য গতকালকের ঘটনার পর আগামীকাল বিএনপিসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতি দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বসছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এদিকে আজ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো বিবৃতিতে দৃঢ়ভাবে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতেই ভোট, কেউ তা বানচালের চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে। 

শীর্ষনিউজ