Image description
 

Mna Siddique (এমএনএ সিদ্দিক)



সম্প্রতি বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP) "একটি নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার" শীর্ষক তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত এই ২৪-দফা ইশতেহারটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে একটি "দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র" প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই ইশতেহারের বাস্তবতা ও অর্জনযোগ্যতা নিয়ে একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট (Economic Context):

২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) এবং বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ২০১৯ সালের ৪.২% থেকে ২০২৫ সালে ৩.৯% হতে পারে, যা পরবর্তীতে ২০২৬ সালে ৫.১% এ উন্নীত হতে পারে। মূল্যস্ফীতি একটি বড় উদ্বেগের বিষয়, যা ২০২৫ সালে ১০.২% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি, শিল্পে অস্থিরতা, এবং টাকার অবমূল্যায়ন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। রেমিটেন্স প্রবাহ এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি কিছুটা স্বস্তি দিলেও, বিনিয়োগের মন্থরতা এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা বিদ্যমান।

NCP-এর অর্থনৈতিক প্রস্তাবনা:

জিডিপি-কেন্দ্রিক নব্য উদারতাবাদী মডেল প্রত্যাখ্যান এবং মানব উন্নয়ন-ভিত্তিক অর্থনীতির উপর জোর: ইশতেহারে জিডিপি'র পরিবর্তে সমতাভিত্তিক সম্পদ বিতরণ, পরিবেশগত টেকসইতা, এবং স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় সার্বজনীন প্রবেশাধিকারের উপর ভিত্তি করে মানব উন্নয়ন-ভিত্তিক অর্থনীতির কথা বলা হয়েছে।

বাস্তবতা ও মন্তব্য: এটি একটি মহৎ লক্ষ্য। তবে, জিডিপি সম্পূর্ণরূপে পরিমাপ না করে শুধুমাত্র মানব উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে, কারণ একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জিডিপি দ্বারাও প্রভাবিত হয়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ছাড়া শুধু বিতরণের উপর জোর দিলে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সীমিত রাজস্ব সংগ্রহের বর্তমান প্রেক্ষাপটে, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় সার্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বিশাল বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে, যা কোথা থেকে আসবে তার সুনির্দিষ্ট পথনির্দেশ থাকা প্রয়োজন।

শহরাঞ্চল-গ্রামাঞ্চল বৈষম্য দূরীকরণ এবং স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত "গ্রাম সংসদ" প্রতিষ্ঠা: ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য এই প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

বাস্তবতা ও মন্তব্য: ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে, "গ্রাম সংসদ" প্রতিষ্ঠা একটি বিশাল প্রশাসনিক এবং আর্থিক চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি রোধ এবং আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হবে, যদি না শক্তিশালী নজরদারি ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকে।

দুর্নীতি দমন এবং স্থায়ী দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন: স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় স্বাধীন সদস্যদের মাধ্যমে কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে।

বাস্তবতা ও মন্তব্য: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দুর্বলতার অন্যতম প্রধান কারণ দুর্নীতি। একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কমিশনের স্বাধীন কার্যকারিতা নিশ্চিত করা অতীতেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। শুধুমাত্র কমিশন গঠনই যথেষ্ট নয়, এর কার্যকারিতার জন্য শক্তিশালী আইন, পর্যাপ্ত জনবল এবং সর্বস্তরের সমর্থন অপরিহার্য।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ: ইশতেহারে দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি মানব মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধে বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

বাস্তবতা ও মন্তব্য: তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অর্থনীতির বৈচিত্র্যকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, এবং একটি স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ। শুধুমাত্র মূল্যবোধের উপর জোর দিলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি কঠিন হতে পারে, যদি না বাস্তবিক অর্থনৈতিক নীতি এবং বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়।

সামাজিক প্রেক্ষাপট (Social Context):

জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি জটিল সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। তবে, এখনো রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিচারিক প্রতিহিংসা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যদিও সেগুলো মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ধর্মীয় নয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্ব সামাজিক অস্থিরতার অন্যতম কারণ।

NCP-এর সামাজিক প্রস্তাবনা:

নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র গঠন: একটি সাংবিধানিক পরিষদ দ্বারা নতুন সংবিধান প্রণয়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বাস্তবতা ও মন্তব্য: এটি একটি মৌলিক এবং উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। বিদ্যমান রাজনৈতিক বিভাজন এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রেখে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া হবে। "দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের" ধারণাটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন, যাতে এটি কোনো নির্দিষ্ট আদর্শের পরিবর্তে জনগণের বৃহত্তর আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে।

গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার: নির্বাচন কমিশনকে সত্যিকারের স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থায় রূপান্তর, এবং নারীদের জন্য ১০০টি সংরক্ষিত সংসদীয় আসনে সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাস্তবতা ও মন্তব্য: নির্বাচন কমিশন সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে। নারীদের জন্য সরাসরি সংরক্ষিত আসন একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, যা রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করবে। তবে, এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন অপরিহার্য।

জুলাই অভ্যুত্থানের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ: রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার সকলের জন্য ন্যায়বিচার এবং নিহত ও পঙ্গু হওয়া পরিবারের জন্য পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বাস্তবতা ও মন্তব্য: এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জরুরি একটি দাবি। তবে, স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয় এবং অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচার ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন: আইনি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সময়বদ্ধ মামলার নিষ্পত্তি এবং হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে।

বাস্তবতা ও মন্তব্য: বিচার ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি অবশ্যই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। তবে, এর জন্য বিশাল বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল এবং বিচারকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বর্তমান বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ দূর করা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিতকরণ: বৈষম্যমূলক কোটা বিলোপ, জাতিগত ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সুরক্ষা এবং ধর্মীয় ও আদিবাসী সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি।

বাস্তবতা ও মন্তব্য: এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অঙ্গীকার। বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোতে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তবে, শুধুমাত্র আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধান: দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বাস্তবতা ও মন্তব্য: রোহিঙ্গা সংকট একটি জটিল আন্তর্জাতিক সমস্যা। শুধুমাত্র কূটনীতি দিয়ে এর সমাধান কঠিন। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাপ, প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতা এবং মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সামগ্রিক মূল্যায়ন (Overall Assessment):

NCP-এর ইশতেহারটি বাংলাদেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে একটি "নতুন বাংলাদেশ" গড়ার জন্য উচ্চাভিলাষী এবং জনকল্যাণমুখী প্রস্তাবনা দিয়েছে। বিশেষত গণতন্ত্রের সংস্কার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং মানব উন্নয়ন-ভিত্তিক অর্থনীতির উপর জোর দেওয়া ইতিবাচক দিক। তবে, এর বাস্তবতা এবং অর্জনযোগ্যতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করা যায়:

আর্থিক সংস্থান: প্রস্তাবিত অনেক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। বর্তমান দুর্বল অর্থনীতির পরিস্থিতিতে, এই অর্থের উৎস কী হবে এবং কীভাবে তা সংগ্রহ করা হবে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ইশতেহারে স্পষ্ট নয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব বৃদ্ধি ছাড়া এই লক্ষ্যগুলো অর্জন কঠিন হবে।

রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ঐকমত্য: একটি "দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র" গঠন, নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কারের জন্য দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক ঐকমত্য এবং সদিচ্ছা প্রয়োজন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিনের বিভাজন ও অবিশ্বাসের কারণে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রশাসনিক সক্ষমতা: ইশতেহারে প্রস্তাবিত বিকেন্দ্রীকরণ, বিচার ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর করার জন্য শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো এবং দক্ষ জনবল প্রয়োজন। বর্তমান প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

জনগণের সম্পৃক্ততা: ইশতেহারটি গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আসলেও, এর বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় ও নিরবচ্ছিন্ন সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটার আকর্ষণ করা সহজ, কিন্তু তা বাস্তবে রূপান্তর করা কঠিন।

উপসংহার:

NCP-এর ইশতেহারটি নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা নিয়ে এসেছে, যা বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার একটি সমাধানসূত্র দিতে চায়। তবে, এর অনেক প্রস্তাবনা বাস্তবসম্মত ও অর্জনযোগ্য করতে হলে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান, শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছা, এবং সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় সমর্থন। শুধুমাত্র ভালো প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটার আকর্ষণ করা যেতে পারে, কিন্তু প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে এই প্রস্তাবনাগুলোকে একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে, যেখানে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট কৌশল থাকবে। অন্যথায়, এই মহৎ লক্ষ্যগুলো কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।