Image description

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সিট কাপড় ব্যবসায়ীর বকেয়া ৫০ হাজার টাকা চাওয়ায় মহাজনসহ দুজনকে পিটিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার নামে এক ব্যবসায়ীর বিরদ্ধে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চাটমোহর উপজেলার নিমাইচাড়া ইউনিয়নের সমাজ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আহত কাপড় ব্যবসায়ী ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের শরৎ নগর বাজারের মোল্লা বস্ত্রালয় স্বত্বাধিকারী আবদুল আজিজ ও তার ছেলে রাফিউল ইসলাম মামুন। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

শনিবার (৫ এপ্রিল) সকালে চাটমোহর থানায় এ বিষয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের শরৎ নগর বাজারের মোল্লা বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী আব্দুল আজিজ দীর্ঘদিন সিট কাপড়ের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা করে আসছেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে পাইকারি মালামাল কিনে তারা খুচরা ব্যবসা করে থাকেন। পাশের চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ও সমাজ বাজারেরও বিভিন্ন কাপড় ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে পাইকারী দরে কাপড় কিনে খুচরা ব্যবসা করে থাকেন। সেই সূত্র ধরে সমাজ বাজারের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন প্রায় বছরখানেক আগে ৫০ হাজার টাকার মালামাল বাকিতে নেন। এরপর থেকে আনোয়ার ভাঙ্গুড়া বাজারের আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলামের আত্মীয়তার সূত্রে প্রভাব খাটিয়ে সেই টাকা দীর্ঘদিনেও পরিশোধ করেনি।

প্রতি শুক্রবার কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ ও তার ছেলে সমাজ বাজারে গিয়ে টাকার জন্য তাগাদা দিতেন। ঘটনার দিন অন্যান্য দোকানে তাগাদা শেষ করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আনোয়ার হোসেনের কাছে যান আজিজ ও তার ছেলে। এ সময় আনোয়ার টাকা দিতে অস্বীকার করেন। তখন উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেন ও তার ছেলে মো. নিবির হোসেন, মো. হামিদুল ইসলামসহ কয়েকজন মিলে আজিজ ও তার ছেলেকে পিটিয়ে আহত করেন। এ সময় তাদের কাছে থাকা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও একটি মোটরসাইকেল (যার মূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা) তারা ছিনিয়ে নেন।

এ সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা তাদের বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখান ও হুমকি দেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে অটোভ্যান গাড়িযোগে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চাটমোহর খানার পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন কুমার সরকার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।