Image description

বগুড়ার সোনাতলায় শিপলু হাসান মিনাজুল নামে এক প্রতারক অন্যজনের নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে এক কলেজছাত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত বর আত্মগোপন করেছেন। এতে কনে ও তার পরিবার বিপাকে পড়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে ছাত্রীর পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, শিপলু হাসান মিনাজুল বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের নওদাবগাঁ গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামাণিকের ছেলে। তিনি পেশায় ঘটক ও মুদি ব্যবসায়ী। মিনাজুল একই গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে ও নওদাবগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী সাজু মিয়ার (৪২) নাম ব্যবহার করেন। এরপর বগুড়া সদরের এক ব্যক্তির মেয়ে স্থানীয় একটি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রীকে বিয়ে করেন।

চলতি বছরের গত ১ জানুয়ারি সাড়ে তিন লাখ টাকা দেন মোহরানায় তাদের বিয়ে হয়। এরপর থেকে শ্বশুরবাড়িতে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছিলেন। কয়েকদিন আগে সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের নওদাবগাঁ গ্রামের এক ভিক্ষুক বগুড়া সদরের ওই কলেজছাত্রীর গ্রামের বাড়িতে ভিক্ষা করতে আসেন। এ সময় ছাত্রীর বাবা-মা ভিক্ষুকের পরিচয় জানতে পেরে তারা জানান, তার মেয়েকে ওই গ্রামে বিয়ে দিয়েছেন এবং বরের নাম সাজু মিয়া। তখন ওই ভিক্ষুক তাদের জানান, সাজু মিয়া একটি স্কুলের নৈশপ্রহরী; তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর মিনাজুলের প্রতিবেশী সাজু সেজে বিয়ে করার বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ব্যাপারে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে প্রশ্ন করলে মিনাজুল কৌশলে সটকে পড়েন।

প্রতারণার শিকার কলেজছাত্রী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তিন মাস আগে শিপলু হাসান মিনাজুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। এরপর আসল পরিচয় প্রকাশ পেলে সে (মিনাজুল) পালিয়ে যায়।

ছাত্রীর বাবা প্রতারিত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। শিগগিরই এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেবো।’

এ প্রসঙ্গে বগুড়ার সোনাতলার নওদাবগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী সাজু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমার নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার প্রতারক শিপলু হাসান মিনাজুল বগুড়া সদরের এক কলেজছাত্রীকে বিয়ে করেছে।’ নাম-পরিচয় ব্যবহার করে বিয়ে করায় সাজু মিয়াও তার বিরুদ্ধে সোনাতলা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলাদুন্নবী জানান, প্রতারণার শিকার কলেজছাত্রীর পরিবার থানায় মামলা করতে এসেছিল। ঘটনাস্থল বগুড়া সদরে হওয়ায় তাদের সেখানে মামলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।