Image description
৪৭ জেলার ১০৩ টি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত গুদামগুলো সংস্কার হবে । গত জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে । গুদামগুলো সংস্কার হলে রোধ করা যাবে খাদ্যশস্যের অপচয় ।

কৃষকের ধান , চাল ও গমের ন্যায্যমূল্য দেওয়া এবং ভোক্তাদের যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দেশের জরাজীর্ণ ২৯৩ খাদ্যগুদাম মেরামত ও সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার । এতে খাদ্যশস্যের অপচয় রোধের পাশাপাশি খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতাও বাড়বে । খাদ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে , দেশের ৪৭ জেলার ১০৩ টি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত গুদামগুলো মেরামত করবে খাদ্য মন্ত্রণালয় । এই প্রকল্পের জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ রেখেছে ২৫৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা । চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মাসে । খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাসুদুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন , দেশে অধিকাংশ খাদ্য সংরক্ষণাগার ও অন্যান্য স্থাপনা নব্বইয়ের দশকের আগে নির্মাণ করা । এসব খাদ্যগুদাম ও অন্যান্য স্থাপনা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে । এ কারণে খাদ্যগুদামের ধারণক্ষমতা অনেক কমেছে । এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে ।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে , এর আগে খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে এলএসডি - সিএসডির অনেকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত খাদ্যগুদাম , অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামোর মেরামত - সংস্কার হয়েছে । কিন্তু এসব প্রকল্প এলএসডি - সিএসডির অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কারণে বাদ পড়েছে । ফলে বছরের পর বছর পড়ে থাকা জরাজীর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত গুদাম , ভবন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক অবকাঠামোর

মেরামত - সংস্কারকাজের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে । পরে প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় । পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি , পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির ( পিইসি ) সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয় । এরপর সর্বশেষ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির ( একনেক ) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায় ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি , পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন , জনস্বার্থে প্রকল্পটি নিয়েছে । সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই এই প্ৰকল্প বাস্তবায়িত হলে সরকারি পর্যায়ে খাদ্য সংরক্ষণের ধারণক্ষমতা বাড়বে । ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো সময়ে জনগণকে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে ।

প্রকল্পের আওতায় ২৫৫ কোটি টাকায় ৮ বিভাগের ১০৩ টি উপজেলায় বিভিন্ন ধারণক্ষমতার ২৯৩ টি খাদ্যগুদাম মেরামত ও সংস্কার করা হবে । পাশাপাশি অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা মেরামত ও সংজ্ঞার ( অফিস , সিকিউরিটি পোষ্ট , ফ কোয়ার্টার , ডরমিটরি , দারোয়ান শেড , পাবলিক টয়লেট ) করা হবে এবং অভ্যন্তরীণ রাস্তা , ড্রেন , সীমানাপ্রাচীরসহ অন্যান্য অবকাঠামো মেরামত ও সংস্কার করা হবে । বর্তমানে খাদ্য বিভাগের অধীন ৬ টি সাইলো , ১২ টি সিএসডি , ৬৩৫ টি এলএসডি রয়েছে । গুদামগুলোর মোট খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা ২২ লাখ ৮২ হাজার টন । খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে , ২২ লাখের সক্ষমতার মধ্যে গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত সরকারের কাছে খাদ্যশস্যের মজুত রয়েছে ১৩ লাখ ১০ হাজার ৯৪০ টন । এর মধ্যে চাল মজুত রয়েছে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৫৭৫ টন ; গম ৩ লাখ ৮৩ হাজার ১৬২ টন এবং ধান মজুত রয়েছে ৪ হাজার ৮২১ টন । জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা অনুযায়ী , প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের অভাবে বাংলাদেশে প্রতিবছর মোট উৎপাদনের ৩০ শতাংশ ফসল নষ্ট হয় । বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ষ্টাডিজের হিসাবে , নষ্ট হওয়া পণ্যের মোট ক্ষতির অঙ্ক ৫ হাজার কোটি টাকা । সে হিসাবে গত ৫০ বছরের হিসাব যোগ করা হলে এই ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে দুই থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকা । যা চলতি জিডিপির সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ । এখনই সরকার উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে পণ্য উৎপাদনের সকল পর্যায়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে অপচয় রোধ করার পরামর্শ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি ।

এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যলে প্লান্ট প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড . আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ বলেন , ' আমাদের খাদ্যপণ্য উৎপাদন অনেক হয় । কিন্তু তার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নষ্ট হয় । বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই সর্বোচ ৫ শতাংশ নষ্ট হয় । এটা যদি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে ১০ শতাংশে আনা যায় , তাহলে দেশের চাহিদা পূরণ করে অনেক পণ্য রপ্তানিও সম্ভব ।