
ইট-পাথরের নগরী ঢাকায় নগরবাসীর চিত্তবিনোদনের জায়গা একেবারেই হাতেগোনা। এর মধ্যে একটি মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা।
তাইতো একটুখানি অবসরে মানুষ ছুটে যায় সেখানে। ঈদের প্রথম দুদিনের মতো তৃতীয় দিন বুধবারও (২ এপ্রিল) চিড়িয়াখানায় নেমেছে দর্শনার্থীর ঢল।
সকাল ৯টা থেকেই চিড়িয়াখানার প্রবেশপথে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়। বিকেল হতেই লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে চিড়িয়াখানা। যেন তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।
অনেকে এসেছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ এসেছেন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে। অভিভাবকের সঙ্গে আসা শিশুদের কোলাহলে চিড়িয়াখানা এলাকার পরিবেশ মুখরিত হয়ে ওঠে।
দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই চিড়িয়াখানার ভেতরে বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, হরিণ ও নানা প্রজাতির পাখি দেখতে ভিড় জমান। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও সিংহ। কেউ কেউ ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনে পশু-পাখির ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। কেউ কেউ আবার সঙ্গে সঙ্গে সেসব পোস্ট করে দিচ্ছিলেন ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্থায়ী টিকিট কাউন্টার ১০টির মতো থাকলেও ঈদের কয়েকদিনের ভিড় সামলাতে বাড়তি কাউন্টার খোলা হয়েছে। তবু লোকজনকে টিকিট পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়।
প্রথমত রাস্তার ভোগান্তি, তারপর চিড়িয়াখানার সামনের চত্বরে হকারদের জটলা ও টিকিট কাউন্টারের লম্বা লাইন অনেক দর্শনার্থীকেই ক্লান্ত করেছে। পাশাপাশি তীব্র গরম ও প্রচণ্ড ধুলোয় শিশুদের ভুগতে দেখা যায় বেশি। এ কারণে অনেকে বাচ্চাদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঢুকেও আবার দ্রুতই বেরিয়ে আসেন।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকা থেকে ঘুরতে আসা মোহাম্মদ রেজাউল মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, আগে যদি এত ভিড়ের কথা জানতাম তাহলে ঈদের ৩-৪ দিনের মধ্যে চিড়িয়াখানায় আসতাম না। বাচ্চাদের নিয়ে এসে চিড়িয়াখানার বাইরে যেমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে, তেমনি ভেতরে এসে তার চেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে, কারণ বাচ্চাদের কোনো জীবজন্তু দেখাতে পারছি না প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে। তাই তাড়াতাড়ি বের হয়ে যাচ্ছি।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের দিন ৮০ হাজার এবং দ্বিতীয় দিন এক লাখ ৫০ হাজার দর্শনার্থী এসেছেন চিড়িয়াখানায়। আমরা ধারণা করছি আজ এক লাখ ৫০-৬০ হাজার দর্শনার্থী প্রবেশ করেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চিড়িয়াখানায় পানির কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে, আমরা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। তবে মানুষের চাপ বেশি হলে আমাদের পানির চাপটাও অনেক বেড়ে যায়, এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। চিড়িয়াখানায় ধুলা কমানোর জন্য আমরা একটা পানির গাড়ি ব্যবহার করছি, চিড়িয়াখানা ঘুরে ঘুরে পানি ছিটানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এবার দর্শনার্থীদের চাপ বেশি, পাশাপাশি গরমটাও একটু বেশি। সেজন্য প্রত্যেক খাঁচায় আমরা পানির ব্যবস্থা করে রেখেছি। দর্শনার্থীদের জন্যও কয়েক জায়গায় খাওয়ার পানি এবং হাতমুখ ধোয়ার ব্যবস্থা রেখেছি।
এদিকে চিড়িয়াখানার বাইরের খাবারের দোকানগুলোতে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। তবে এসব দোকানে খাবার পণ্যের দাম রাখা হচ্ছে অনেক বেশি। এ কারণে অনেক দর্শনার্থীই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা এসব দোকানের দরদাম তদারকির জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
চিড়িয়াখানার পাশেই জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানেও (বোটানিক্যাল গার্ডেন) এদিন দর্শনার্থীদের প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। গত দুদিনও দর্শনার্থীরা এই উদ্যানে এসেছিলেন একটুখানি অবসর কাটাতে।