
অর্ধ যুগেরও বেশি সময় পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। লন্ডনে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এবার ঈদের সময় কাটিয়েছেন তিনি। ঈদের দিন সেখান থেকেই ভার্চ্যুয়ালি দলের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় করেছেন। মঙ্গলবার ছেলে তারেক রহমান খালেদা জিয়াসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্থানীয় পার্কে ঘুরতে বেরিয়ে ছিলেন। যার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে। নানা রোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেয়ার পর তিনি মানসিকভাবে চাঙ্গাবোধ করছেন।
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর লন্ডনে চিকিৎসার জন্য যান খালেদা জিয়া। সেখানে বড় ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় থেকেই তিনি এখন চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঈদের দিন ছেলে তারেক রহমান, পুত্রবধূ, নাতনির সঙ্গে খালেদা জিয়ার তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। প্রায় আট বছর পর তাদের এমন ছবি দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। ঈদ উপলক্ষে ৩১শে মার্চ রাত ন’টায় চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে লন্ডন থেকে যুক্ত হন খালেদা জিয়া। সেখান থেকেই দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি ঈদের শুভেচ্ছাবিনিময় করেন তিনি। এ সময় তারেক রহমানও শুভেচ্ছাবিনিময় করেন।
এদিকে লন্ডনের একটি পার্কে মা খালেদা জিয়াকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। ১লা এপ্রিল যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বিকালে মা’কে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে খালেদা জিয়াকে নিয়ে পার্কে ঘোরার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা গেছে, খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে তার একান্ত সহকারী সচিব মো. মাসুদুর রহমান পার্কের ফুটপাথে ঘুরাচ্ছেন। পাশেই তারেক রহমান তার পরিবারসহ হাঁটছেন। সঙ্গে আরও ছিলেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
লন্ডনে খালেদা জিয়ার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু: ওদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছেন লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসকরা। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে একথা জানান। তিনি বলেন, বুধবার থেকে ম্যাডামের ‘পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ শুরু হয়েছে। আজকে, (বুধবার), কালকে (বৃস্পতিবার, পুরশু (শুক্রবার)- আগামী চারদিন উনার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে, উনার ডাক্তাররা (লন্ডন ক্লিনিকের ডাক্তাররা) বাসায় উনাকে দেখতে আসবেন। কিছু পরীক্ষা করার জন্য হয়তো উনাকে লন্ডনে ক্লিনিকেও নিয়ে যাওয়া হবে। আগামী কয়েকটি দিন বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা আছে, যা চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে করা হচ্ছে।
কবে দেশে ফিরতে পারেন জানতে চাইলে জাহিদ হোসেন বলেন, ডাক্তার সাহেবরা যেসব পরীক্ষা করতে বলেছেন, সেগুলোর রিপোর্ট পর্যালোচনা করে এখানকার ডাক্তাররা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবেন। কত দ্রুত উনি ছুটি দেয়ার মতো অবস্থায় যেতে পারবেন।
এখন কেমন জানতে চাইলে অধ্যাপক বলেন, আলহামদুলিল্লাহ্, ম্যাডামের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। মানসিকভাবে উনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ভালো।