Image description

ঈদের ছুটিতে স্ত্রী সাধনা রাণী ও ৬ বছরের মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাসসহ কয়েকজন নিকট আত্মীয়কে নিয়েকে নিয়ে গাজীপুর থেকে কক্সবাজার ঘুরতে যাচ্ছিলেন দিলীপ কুমার বিশ্বাস (৪২)। আজ বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দিলীপ ও তার স্ত্রীসহ ১০ জন।

ভাগ্যক্রমে প্রাণে রক্ষা পায় তাদের ছোট্ট শিশু আরাধ্য। তবে আহত হয়েছে গুরুতরভাবে। সে এখন হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। তবে মা-বাবা যে আর বেঁচে নেই তা এখনও জানে না সে। জ্ঞান ফেরার পর থেকেই তাই মা-বাবাকেই খুঁজছে ছোট্ট আরাধ্যা। দিলীপ বিশ্বাস ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, চুনতির জাঙ্গালিয়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আজ গুরুতর আহত হয় আরাধ্যা বিশ্বাসসহ আরও বেশ কয়েকজন। ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। পরে আরাধ্যাকে হাসপাতালের ২৮ নম্বর নিউরো সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনায় তার দুই পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আঘাত পেয়েছে মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে। চিকিৎসকরা বলছেন, জ্ঞান ফিরলেও এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয় আরাধ্যা। 

এ বিষয়ে চমেক হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল বলেন, শিশু আরাধ্যার পা ভেঙে গেছে। মাথা, হাত, চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। জ্ঞান ফিরলেও শঙ্কামুক্ত নয় সে।

এদিকে, গণমাধ্যমে এ দুর্ঘটনার খবর প্রকাশের পর নিহত দিলীপ বিশ্বাসের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম। 

দিলীপের প্রতিবেশী শোভন কুমার কাজল জানান, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন এবং একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন দিলীপ। ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে ঘুরতে যাচ্ছিলেন তারা।