
নিউইয়র্ক টাইমস কালকে একটা প্রবন্ধ ছাপাইছে যে বাংলাদেশে ইসলামিস্ট মৌলবাদীরা সামনের দিনে ক্ষমতাশালী হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে ইসলামী জঙ্গিরা ক্ষমতা দখল করে ফেলবে, এই গল্প তো অনেক পুরানো। এই গল্প ভারত আর হাসিনা বিক্রি করেছে অনেক দিন। কিন্তু এই গল্পের ক্রেতা কারা? দুই গ্রুপ লোকের এই গল্প অনেক পছন্দ। এক গ্রুপ হইল আমাদের দেশের মধ্যে সেকুলার ইসলামোফোব গ্রুপ, যারা উঠতে বসতে ইসলাম আর ইসলামী কালচারকে গালমন্দ করে। আর আরেক গ্রুপ হইল, বিদেশী শক্তি, আরও স্পেসিফিকালী ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড, যারা তাদের মডার্নিটিকে সারা দুনিয়াতে রপ্তানি করতে চায়।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার পনের বছরের জুলুমের মধ্য দিয়ে যে তরুণ প্রজন্ম বড় হইছে, তাদের একটা রাজনৈতিক বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। আওয়ামী আর বাম সেকুলারদের মত করে ইস্লামোফোবিয়া তাদের আর আকৃষ্ট করতেছে না। বরং মুসলমান হিসেবে আত্মপরিচয় গর্বের সাথে ধারণ করেই তারা বাংলাদেশী হয়ে উঠতে চায়। হাসিনার হেলমেট বাহিনীরে খেদায়ে দিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কাওয়ালী গেয়েছে। স্পষ্টতই এই প্রজন্ম আর ইসলামী মৌলবাদের পুরনো গল্প কিনতেছে না।
ফলে, এক গ্রুপ ক্রেতা কমে গেছে। কিন্তু ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড এখনো ক্রেতা হিসেবে রয়ে গেছে।
ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড এ যাতে এই গল্প ভালভাবে বিক্রি না করতে পারে, এই জন্য আমাদের তিনটা কাজ করতে হবে।
এক, ওয়েস্টের সাথে আমাদের এনগেইজমেন্ট বাড়াতে হবে। সরকার প্রধান হিসেবে ইউনুস এইজন্য আমাদের খুবই ভাল পিক। পররাষ্ট্র মন্ত্রানালয়কে আরও সক্ষম করতে হবে। বাংলাদেশী ডায়াস্পোরাকেও একটিভ হইতে হবে।
দুই, গণতান্ত্রিক সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। ওয়েস্ট গণতন্ত্র ফেরী কইরা বেড়ায়। আমাদেরকে দেখাইতে হবে আমাদের গণতন্ত্র ওদের চেয়েও ভাল। ইনফ্যাক্ট, আমাদের দেশে ওয়েস্টের চাইতে অনেক বেশী মানুষ ভোট দেয়।
তিন, যারা আবেগের বশে আগামীকাল সকাল বেলা সবকিছু আপ-সাইড ডাউন করে ইসলামী বিপ্লব কইরা ফেলাইতে চায়, তাদের বুদ্ধিশুদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। এদের অতি-বিপ্লবি কাজ যতটুকু না বাংলাদেশের মুসলিমদের কাজে লাগবে, তার চাইতে বেশী কাজে লাগবে ভারতের, সারা দুনিয়ায় আমাদের বিপক্ষে ক্যাম্পেইন করার জন্য।
আর সবচাইতে বড় কাজ হইল, আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় ঐক্য। স্বাধীনতা কেউ কাউরে দেয় না, কেউ কারও স্বাধীনতা রক্ষাও করে না। যারটা তার অর্জন করতে হয়, রক্ষা করতে হয়। আর একটা ঐক্যবদ্ধ জাতির আজাদী কেউ কাইরাও নিতে পারে না। না ভারত, না আমেরিকা। ইনশাআল্লাহ।