
এক বিভীষিকাময় গোপন কারাগারের নাম বগুড়ার পুলিশ লাইনসের ইন-সার্ভিস সেন্টার। এই সেন্টারে ভিন্ন মতের কিংবা নিরীহ নারী-পুরুষ ধরে এনে ‘জঙ্গি বানানো’ হতো। দেশব্যাপী বিভিন্ন জঙ্গি নাটকে ব্যবহার করা হতো এই নিরীহ বন্দিদের।
রাজধানীর কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ি জঙ্গিবিরোধী নাটক, পান্থপথে হোটেল ওলিওতে তথাকথিত আত্মঘাতী বিস্ফোরণের গল্প এবং গাজীপুরের পাতারটেকে অভিযান চালিয়ে ৭ তরুণকে হত্যা- সব ঘটনায় নিহত বা গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই কোনো না কোনো সময় বগুড়ার পুলিশ লাইনসের ইন-সার্ভিস সেন্টারের গোপন কারাগারে গুম ছিলেন। তথাকথিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে গ্রামগঞ্জের চাষি, শ্রমিক, গ্রামচিকিৎসকসহ তৃণমূলের লোকদের ধরে এনে এই গোপন কারাগারে রেখে চলত মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের নামে নির্মম নির্যাতন। কাউকে বা তথাকথিত ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হতো।
এই গোপন কারাগারে পুরুষের পাশাপাশি ছিলেন অনেক নারী ও তাদের সঙ্গে থাকা দুগ্ধপোষ্য শিশু। নারীদের দিনের পর দিন গুম করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বগুড়ার এএসপি (পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জের এসপি) আরিফুর রহমান মণ্ডল ও তার দলবল।
পরিবারের পুরুষ সদস্যদের ধরতে নারীদের গুম করার জঘন্য কৌশল ব্যবহার করতেন তিনি। আর পালের গোদা ছিলেন বগুড়ার সাবেক এসপি আসাদুজ্জামান (পরবর্তী সময়ে সিটিটিসির প্রধান)। সাবেক পুলিশ প্রধান শহীদুল হকের নির্দেশে এটা গড়ে তুলেছিলেন তিনি। সেই কারাগারে নিরীহ লোকদের ধরে নিয়ে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে বিভিন্ন তথাকথিত অভিযানে নিয়ে হত্যা করা হতো বা মামলায় ফাঁসানো হতো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আসাদুজ্জামান পলাতক রয়েছেন। হাসিনার পতনের পর আরিফুর রহমান মণ্ডলকে বরিশাল পুলিশ রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়।
জানা গেছে, গুমকালে নারীদের বেঁধে রাখা, ঘুমাতে না দেওয়া, শ্লীলতাহানির হুমকি, ধর্ষণ ও ক্রসফায়ারের ভয়, তাদের সঙ্গে থাকা শিশুদের মারধরের ভয় দেখাতেন আরিফুর রহমান মণ্ডল ও তার দলবল। নারীদের গভীর রাতে ডেকে নিয়ে নির্জন কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বেধড়ক মারধর করতেন তিনি। এ সময় কোনো নারী পুলিশ পাশে রাখতেন না। এভাবেই দীর্ঘদিন গুম রেখে সাজানো একাধিক মামলায় রিমান্ডের পর নারীদের পাঠানো হতো কারাগারে। অন্তঃসত্ত্বা নারীও বাদ যায়নি আরিফুর রহমান মণ্ডলের ভয়াবহ নির্যাতন থেকে। দুগ্ধপোষ্য শিশুকে সবার সামনে দুধপান করাতে বাধ্য করতেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
আরিফুর রহমান মণ্ডলের সেই নরক থেকে ফিরে আসা বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলে বগুড়া পুলিশ লাইনসের গোপন কারাগারে নারীদের ওপর চালানো নির্মমতার চিত্র পাওয়া গেছে।
এই গোপন বন্দিশালায় গুম নিয়ে এর আগেও একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক আমার দেশ। পরবর্তী সময়ে গত ৪ মার্চ এ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান জানান, বগুড়া পুলিশ লাইনসে এ বন্দিশালা পাওয়া গেছে, যেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে এনে বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হতো।
সেই গোপন কারাগারে জড়িতের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ‘হ্যাঁ, (জড়িতের বিষয়ে) তদন্ত চলমান।’
মধ্যরাতে গৃহবধূদের মারধর, দুগ্ধপোষ্য শিশুকে দুধপানে বাধা
২০১৬ সালের জুলাই মাস। হঠাৎ করেই বদলে যায় তিন গৃহবধূ মোসাম্মৎ সাজেদা আক্তার সাথী, রোজিনা বেগম ও জান্নাতি আক্তার জেমির জীবন। প্রথম দুজনের বয়স তখন ছিল ২২-এর কাছাকাছি। আর জেমির বয়স ছিল ১৬। সাজেদা তার স্বামীর সঙ্গে টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে থাকতেন। রোজিনা ও জেমি থাকতেন বগুড়ায়। সংসারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে ষোড়শী জেমি স্থানীয় একটি কুটিরশিল্প প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজও করতেন।
এই তিন গৃহবধূকে ২০১৬ সালে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তুলে নেয় পুলিশ। এরপর চোখ বেঁধে তাদের নেওয়া হয় বগুড়া পুলিশ লাইনসের গোপন কারাগারে। মায়েদের সঙ্গে ছিল ৩ শিশু। এর মধ্যে একজন ছিল দুগ্ধপোষ্য। বগুড়ার গোপন কারাগারে সপ্তাহখানেক গুম রাখা হলেও এই নারীদের ওপর চলে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। তাদের স্বামীদের খোঁজ জানতে প্রতিদিনই তাদের গভীর রাতে ডেকে নিয়ে মারধর করা হতো।
অথচ এই তিন গৃহবধূর স্বামী আগে থেকেই বগুড়ার সেই গোপন কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরে সাজেদা ও রোজিনার স্বামীকে তথাকথিত ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়। জান্নাতি আক্তার জেমির স্বামী আবু সাইদ রয়েছেন জামিনে। আর ওই গৃহবধূদের ৭ দিন গুম রেখে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এরা সবাই দীর্ঘ কারাভোগ করে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। সবার বিরুদ্ধে তথাকথিত জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছিল পুলিশ। জামিনে মুক্ত হয়ে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এরা সবাই।
জান্নাতির স্বামী আবু সাইদ আমার দেশকে জানান, তার স্ত্রীকে দেড় বছরের পুত্র সন্তান মুজাহিদসহ বগুড়ার বাসা থেকে গুম করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘বগুড়া ডিবির গোপন কারাগারের ঘটনা মনে করলে আমার স্ত্রী এখনো কান্নাকাটি করে। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর সে আমাকে গুমকালীন অনেক নির্যাতনের কথা বলেছে। পুলিশ দুগ্ধপোষ্য দেড় বছরের পুত্র মুজাহিদকে আড়ালে দুধ খাওয়াতে দিত না। বলত আমাদের সামনে দুধ খাওয়াও। তারা ওড়না কেড়ে নিত। বলত তোমরা আমাদের দাসী। আমাদের সঙ্গে সেভাবেই থাকতে হবে।’
আবু সাইদের সঙ্গে গুম ছিলেন মাহফুজুর রহমান সোহেল নামের এক তরুণ। আবু সাইদ জানান, মাহফুজুর রহমান সোহেলের স্ত্রী রুমানাকেও এই গোপন কারাগারে গুম রাখা হয়েছিল। পরে মাহফুজকে টাঙ্গাইলে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করে পুলিশ। তিনি বলেন, ‘বগুড়া ডিবির সেই গোপন কারাগারে আরেক মহিলা গুম ছিলেন, তিনি ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। সেই মহিলাকে গুমকালে অনেক নির্যাতন করা হয়েছিল। ফলে পেটেই তার সন্তান মারা যায়। কারাগারে মরা বাচ্চা প্রসব করেছিলেন সেই নারী।’
জান্নাতি আক্তারের সঙ্গে একই কক্ষে সাত দিন গুম রাখা হয়েছিল সাজেদা ও রোজিনাকে। দুর্বিষহ সেই দিনগুলোর অভিজ্ঞতা স্পষ্ট মনে রেখেছেন সাজেদা। তার স্বামী নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে পারভেজও একই সময়ে গুম ছিলেন। পরে নজরুলকে তথাকথিত ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়।
সাজেদা আমার দেশকে বলেন, ‘আমার স্বামী টাঙ্গাইলে ব্যবসা করতেন। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে (তারিখ মনে নাই) আমাদের বাসা থেকে তুলে নেয়। সেখান থেকে নিয়ে বগুড়া ডিবির অফিসে গুম রাখা হয়। সেখানে চোখ বেঁধে রাখা হয় এবং অমানবিক নির্যাতন করা হয়।’
নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে সাজেদা বলেন, ‘একজনের পর একজন আসত জিজ্ঞাসা করতে। দিনে বা রাতে কখনোই ঘুমাতে দিত না। সব সময় দাঁড়িয়ে রাখা হতো। বসতেও দিত না। গভীর রাতে আরিফ মণ্ডল আর এসআই জুলহাজসহ অন্যরা আসতেন। মহিলা পুলিশের সামনেই রাত আড়াইটা/৩টার দিকে একজন করে নিয়ে যেত। প্রথমে চড় মারত। আমার স্বামীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইত। আমি কিছু জানি না বলার পর লাঠি দিয়া পেটাত। টানা সাতদিন ওরা এভাবেই আমাদের এক একজনকে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করত।’
রোজিনার সঙ্গে দুই বাচ্চা ছিল। একটা ছেলে ও একটা মেয়ে। মেয়ের নাম ফাতেমা (৭) আর ছেলের নাম নওয়াব আলী (৩)। তিনি বলেন, ‘এক রুমেই সবাই থাকতাম আমরা। পরে আমাদের সবাইকে এক সঙ্গেই কারাগারে পাঠাইছে। কারাগারে বসেই আমার স্বামীর ক্রসফায়ারের খবর পাই। রোজিনার স্বামী মোকসেদুলকেও ক্রসফায়ারে হত্যা করে। নির্যাতনে জড়িত সবার নাম মনে নাই। এই দুজন বেশি নির্যাতন করেছে। এজন্য এদের নাম মনে আছে ভালো মতো।’
২০১৯ সালের ২৩ জুলাই জামিনে বের হয়ে এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এই নারী। কারণ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বেশিরভাগই এখন মুক্ত রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ পুলিশে গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন।
রাজধানীর একটি মামলায় রাজমিস্ত্রি কামরুল ইসলাম শাকিলের স্ত্রী রাশিদা খাতুনকেও গুম করা হয়েছিল তার স্বামীর অজুহাতে। তার স্বামীকে ঢাকার একটি সাজানো জঙ্গি মামলা দিয়ে স্ত্রীকে দিনাজপুরের রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে তুলে নেয় পুলিশ। তাকে তার দুই বছরের শিশু মুয়াজসহ গুম করা হয়। তিনি তখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ডিবির সদস্যরা তার স্বামীকে না পেয়ে তাকে ও শিশুটিকে বগুড়া ডিবি অফিসে নিয়ে যায়।
সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। তার পরিবারের কেউই জানত না, তাকে কোথায় রাখা হয়েছিল। ১৫ দিন গুমের পর ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই রাশিদা খাতুনকে একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তিনি পরিবারকে তার অবস্থান জানাতে সক্ষম হন। আট মাস কারান্তরীণ থাকার সময়ে তার দ্বিতীয় সন্তান মুসআব জন্ম নেয়।
রাশিদা খাতুন জানান, বগুড়া ডিবির গোপন কারাগারে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য গুম, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ নানা কৌশল প্রয়োগ করেছিল তারা।
মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন
বগুড়ার পুলিশ লাইনসের ইনসার্ভিস সেন্টারে গোপন কারাগারে নারী-পুরুষদের গুম করে রাখা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের একটি প্রমাণ। এটি নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন। নারীদের গুম করে তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসেরই আরেকটি রূপ, যা নারীদের টার্গেট করে ক্ষমতার অপব্যবহারের চরম নিদর্শন।
এসব নির্যাতনে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জড়িত থাকা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুম-নির্যাতনের একটি কাঠামোগত চিত্র তুলে ধরে। এটি প্রমাণ করে যে, এ ধরনের কার্যক্রম বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত ও সংগঠিত একটি ব্যবস্থা।
অভিযুক্ত আরিফুর রহমান পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল ছিলেন। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পরপর চার বছরে তিনি দুটি বিপিএম পুরস্কার এবং দুটি পিপিএম পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে একমাত্র কর্মকর্তা যিনি টানা চার বছর এই পুরস্কার পেয়েছেন। তথাকথিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে গুম, ক্রসফায়ারের জন্য নিরীহ লোকদের ধরে আনতে তিনি কমপক্ষে দেশের ৫০টি জেলায় কাজ করেছেন। এটি বাংলাদেশের বিচারহীনতার বাস্তবতা তুলে ধরে এবং দেখায় যে, অপরাধীদের শাস্তির আওতায় না আনায় তারা আরও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছে।
৫ আগস্ট হাসিনার পতনের পর সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডলকে বরিশাল উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শকের (ডিআইজি) কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ২১ আগস্ট, ২০২৪ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের আদেশে এ বদলি করা হয়। এর আগে ২০২২ সালের ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা। ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশিক্ষণকালীন সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর বগুড়া জেলায় সহকারী পুলিশ সুপার (সদর ও এ সার্কেল) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পূর্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া রংপুরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন আরিফুর রহমান মণ্ডল। ২০১৯ সালে বগুড়া জেলা পুলিশের অধীনে কর্মরত অবস্থায় তিনি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান। পরবর্তী সময়ে তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে এআইজি (জাতিসংঘবিষয়ক ও উন্নয়ন) হিসেবে বদলি করা হয় এবং পরে সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পূর্বতিমুর ও সুদানে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শেখ হাসিনার পতনের পরও আরিফুর রহমানের মতো কুখ্যাত পুলিশ অফিসাররা এখনো বহাল রয়েছেন। ফলে ভুক্তভোগী নারীরা জামিনে বের হয়েও রয়েছেন আতঙ্কে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর শেখ মাহদি আমার দেশকে বলেন, বগুড়া পুলিশ লাইনস ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে পরিচালিত গুমের বিষয়ে তদন্ত চলমান। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
গোপন কারাগারে নারীদের গুম করে নির্মমতার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে, প্রায় সব বাহিনীর নিয়ন্ত্রণেই এই ধরনের গোপন কারাগার বা বন্দিশালার অস্তিত্বের খবর প্রকাশ হচ্ছে। সরকারের উচিত এসব গোপন কারাগার বা বন্দিশালা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্থাপন করা হয়েছিল কি না তা তদন্ত করা এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে সরকারের কোন দপ্তর কোন আইন বা ক্ষমতার বলে এমন গোপন কারাগার বা বন্দিশালা স্থাপন অনুমোদন করেছিল তাও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
আর যদি তা বেআইনি প্রক্রিয়ায় স্থাপন করা হয়, তাহলে সরকারের উচিত অন্যান্য অপরাধের বিচার ছাড়াও শুধু এই একটি অপরাধে, অর্থাৎ বেআইনি গোপন কারাগার বা বন্দিশালা স্থাপনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট কারারক্ষী থেকে শুরু করে তত্ত্বাবধায়ক বা পরিচালকসহ সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ঊর্ধ্বতন যেসব কর্মকর্তা এসব অবৈধ কারাগার বা বন্দিশালার অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত থেকেও তা অপসারণের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, তাদের সবাইকে অবিলম্বে চাকরিচ্যুত করে বিচারের আওতায় আনা।’
এ বিষয়ে জানতে পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আরিফুর রহমান মণ্ডলকে মোবাইল ফোনে কল এবং খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।