
সুন্দরবনের আলাদা দুটি এলাকায় পরপর দুদিন আগুন লাগে। এর মধ্যে পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের কলমতেজীর টেপার বিলে শনিবার সকালে আগুন লাগে। পরদিন আগুন লাগে পাশের তেইশের ছিলা এলাকায়। গত দুই যুগে সুন্দরবনে ২৫ বার আগুন লেগেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে কিভাবে এই আগুন লাগে। স্থানীয়রা বলছেন, বনের বিলে মাছ ধরতে গাছপালা পরিষ্কার করার জন্য আগুন লাগায় মৎস্যজীবীরা। আবার মধু আহরণ করতে মৌয়ালরাও আগুন লাগায়।
চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, রোববার দুপুরে কলমতেজেী এলাকায় আগুন নেভোনোর পর খবর আসে ওই এলাকা থেকে চার কিলোমিটার দূরত্বে শাপলার বিলে তেইশের ছিলায় ধোঁয়া দেখতে পেয়েছে এলাকাবাসী। ডিএফও (পূর্ব বিভাগ) মোহাম্মদ নুরুল করিম ও আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে যাই। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে পর্যায়ক্রমে শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, বাগেরহাট, মোংলা, চিতলমারী ও খুলনার ১০টি ইউনিট আগুন নেভোনোর কাজে সংযুক্ত হয়। তবে লোকালয় থেকে দূরে বনের গভীরে এবং দুর্গম হওয়ায় কাজ শুরু করত বিলম্ব হয়। রাতভর আপ্রাণ চেষ্টা করে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ ইমরান আহমেদ জানান, পানি সংকটের কারণে আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
বনসংলগ্ন গ্রাম গুলিশাখালী, আমরবুনিয়া বান্দাঘাটা, উত্তর রাজাপুর, দক্ষিণ রাজাপুর ও জিউধারার বাসিন্দারা জানান, চাঁদপাই রেঞ্জের বনে ছোট বড় ৭/৮টি বিল রয়েছে। এগুলোতে বর্ষা মৌসুমে প্রচুর শিং, মাগুর, শোল, টাকি ও কৈ মাছ পাওয়া যায়। তাই বৃষ্টির মৌসুম আসার আগেই কিছু স্বার্থান্বেষী লোক বিলগুলো পরিষ্কার করতে গাছপালায় আগুন লাগায়। বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী আর্থিক সুবিধা নিয়ে মৎস্যজীবীদের বিলগুলোতে মাছ ধরার সুযোগ করে দেয়। এছাড়া মধুর মৌসুমে মৌয়ালদের নিক্ষিপ্ত আগুন থেকেও অনেক সময় বনে আগুন লাগে।
জানা গেছে, দুই যুগে পূর্ব সুন্দরবনে অন্তত ২৫ বার আগুন লেগেছে। বন বিভাগের হিসাবে, এসব ঘটনায় ৯০ একর বনভূমি ভস্মীভূত হয়েছে। এর মধ্যে ২০০২ সালের ২২ মার্চ শরণখোলা রেঞ্জের কটকায় আগুন লেগে এক একর বনভূমি পুড়ে যায়। ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ চাঁদপাই রেঞ্জের নাংলীতে আগুনে এক একর, একই বছরের ২৭ ডিসেম্বর আড়ুয়াবেড় এলাকায় ৯ শতক, ২০০৫ সালের ৮ এপ্রিল কলমতেজীতে এক একর বনভূমি, একই বছরের ১৩ এপ্রিল তুলাতলায় ৪.৫ একর বনভূমি পুড়ে গেছে। এছাড়া ২০০৬ সালের ১৯ মার্চ তেরাবেকায়, ১১ এপ্রিল আমরবুনিয়ায় ও ১ মে পচাকোরালিয়ায় ৫০ শতক, ৪ মে ধানসাগর স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় ২.৫ একর, ২০০৭ সালের ১৫ জানুয়ারি এবং ১৯ ও ২৮ মার্চ একই এলাকায় ১৫ একর, ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ নাংলী, ১৩ এপ্রিল একই এলাকায় ৮.৫ একর, ১৮ এপ্রিল আব্দুল্লারছিলা, ২৭ এপ্রিল তুলাতলায়, ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ধানসাগর টহল ফাঁড়ি এলাকায় চার শতক, ২০২৪ সালের ৪ মে আমরবুনয়ায়, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ কলমতেজীতে চার একর বনভূমি পুড়ে যায়।