মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও জরুন শিল্পাঞ্চল। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সাতটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশ, থানা-পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত হন।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরের খাবারের বিরতির পর কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
শিল্প পুলিশ ও কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সকালে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার নয়াপাড়া এলাকায় মন্ডল গ্রুপের মুনটেক্স ফেব্রিকস লিমিটেডের শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেন। দুপুরে খাবারের বিরতিতে কারখানা থেকে বের হওয়ার পর তারা আর কাজে ফেরেননি। পরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।

একপর্যায়ে ওই কারখানার শ্রমিকেরা আশপাশের কারখানার শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় বিক্ষোভের পাশাপাশি ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আশপাশের সাতটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে মন্ডল গ্রুপের মুনটেক্স ফেব্রিকস লিমিটেড, কাইজার নিটওয়্যার, তাসনিয়া ফেব্রিকস, মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড ও ইসলাম নিটওয়্যার লিমিটেড।
পরে শ্রমিকেরা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান শিল্প পুলিশ, থানা-পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা। তারা শ্রমিকদের বুঝিয়ে কাজে যোগ দেওয়া অথবা বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে শ্রমিকেরা সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোনাবাড়ী, জরুন ও কাশিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, রোববার সকাল থেকে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। দুপুরের পর মন্ডল গ্রুপের কয়েকজন শ্রমিক জরুন মোড়ের দিকে যান। এ সময় তারা ছয় থেকে সাতটি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের সরিয়ে দেন। এ ঘটনায় সাতটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ওই সাতটি কারখানা ছাড়া গাজীপুরের বাকি সব কারখানায় উৎপাদন চলছে।