Image description

আদালতের নির্দেশ ছিল ১১৯টি বাস জব্দ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) জিম্মায় নেওয়ার। জব্দ করা বাসগুলো পরিচালনার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল সংস্থাটিকে। কিন্তু আদালতের নির্দেশের প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এর বাস্তবায়ন হয়েছে নামমাত্র। এ পর্যন্ত জব্দ করা হয়েছে মাত্র ৮টি বাস। বাকি বাসগুলো দিয়ে এখনো চলছে পরিবহন ব্যবসা। খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, পটুয়াখালী ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন রুটে নিয়মিত চলাচল করছে এনা পরিবহনের বাস।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে দৈনিক ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর অংশ হিসেবে তার পরিবারের সদস্যদের এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত যানবাহন জব্দের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ১১৯টি বাস জব্দের নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্দেশ বাস্তবায়নে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এনা পরিবহন নিয়ে গঠিত দুদকের অনুসন্ধান দলের প্রধান ও সংস্থাটির উপপরিচালক সাইদুজ্জামান জানান, এনা পরিবহনের গাড়িগুলো বিক্রি হওয়ার তথ্য পেয়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। গাড়িগুলোর মালিকানা যাতে স্থানান্তর না হয় সেজন্য আদালত সেগুলো জব্দ করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়।

সরেজমিন মহাখালী, কুড়িল বিশ্বরোড ও পূর্বাচলে গিয়ে দেখা যায়, জব্দের তালিকায় থাকা বাস দিয়েই চলছে দূরপাল্লার পরিবহন ব্যবসা। ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এনা পরিবহনের বাস চলাচল করতে দেখা যায়। অন্য রুটগুলোতে বাস চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে বাসচালক ও শ্রমিকরা জানান, জব্দের আদেশের পর থেকে তাদের নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। তবে বাস চলাচল বন্ধ হয়নি।

এনা ট্রান্সপোর্টের এক কর্মকর্তা জানান, মালিক সমিতির দুর্নীতির সঙ্গে পরিবহন ব্যবসাকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। বিআরটিসির কাছে বাস দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তারা উচ্চ আদালতে গেছেন।

তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ বলছে, তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বাসেরই হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। বেশির ভাগ বাস এখন ঢাকার বাইরে বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, তালিকাভুক্ত বাসগুলোর অধিকাংশই ঢাকার বাইরে থাকায় সেগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন। তবে রাজধানীতে চলাচল করার কারণে আমরা ৮টি বাস জব্দ করেছি।

এদিকে ফের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে দুদক কর্মকর্তারা জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাসগুলো জব্দ করার কথা থাকলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বাস জব্দে গতি আনতে তারা আবারও আদালতের দ্বারস্থ হবেন।