Image description

খুলনায় প্রতি রাতেই ঘটছে গোলাগুলি, হামলা ও খুনের ঘটনা। মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব নিয়ে এসব ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে ঘটছে টার্গেট কিলিংও। ফলে রাত নামলেই শহরে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পুলিশের তথ্য বলছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত নগরী ও জেলায় ৭৯টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ২ নভেম্বর রূপসা আঠারবাকি নদীর চর থেকে মেহেদি হাসান ও আল আমিন নামে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। ১ নভেম্বর রায়েরমহলে তাঁতী দল নেতা হুমায়ুন কবির ও ৩১ অক্টোবর লবণচরায় শহীদুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

২২ অক্টোবর মাদকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে বানিয়াখামার এলাকায় তুষার ও জিন্নাহপাড়া এলাকায় খুশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ৪ অক্টোবর দিঘলিয়ায় চরমপন্থি নাসিমুল করিম, ৫ অক্টোবর রূপসায় বাস শ্রমিক আক্তার ঢালী ও ১৫ আগস্ট আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, বড় অঙ্কের চাঁদার দাবিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনাগুলোও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। অতি সম্প্রতি চাঁদা না দেওয়ায় চয়নিকা ফার্মেসি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কুইন্স হাসপাতাল, সন্ধানী ক্লিনিক ও চাইনিজ প্যালেস রেস্তোরাঁ ভাঙচুর করা হয়।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ৩০০-এর বেশি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে খুলনার সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কাছে। অধিকাংশ অপরাধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করছে সন্ত্রাসীরা। টার্গেটে বিএনপির নেতা-কর্মী : খুলনায় গত দুই বছরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ১০ নেতা-কর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন। ২৬ অক্টোবর রাতে বটিয়াঘাটায় যুবদল নেতা সোহেল গুলিবিদ্ধ হন। ২৭ অক্টোবর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ওহিদুল ইসলামকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি দিঘলিয়ায় যুবদল নেতা মুরাদ খান, ৪ মার্চ শ্রমিক দল নেতা মাসুম বিল্লাহ, ১৬ মার্চ যুবদল নেতা রাশু খুন হন।

এসব বিষয়ে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু দাবি করেন, ‘মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে দুর্বল করতেই গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’ তবে তেরখাদা থানার ওসি আহম্মেদ আলী বিশ্বাস বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে’ অনেকে হামলার শিকার হচ্ছেন।

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় বেপরোয়া সন্ত্রাসীরা : চিংড়ি রপ্তানিকারক সংগঠনের নেতা তরিকুল ইসলাম জহির বলেন, ‘নতুন বাজারে চিংড়ি ব্যবসায়ীরা ব্যাপক চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। বণিক সমিতির অনেকে এখন নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে না এসে বাড়িতে অফিস করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে ভয়ে অপরিচিত ফোনও রিসিভ করছেন না।’ খুলনা নাগরিক ফোরামের সদস্যসচিব ইকবাল হাসান তুহিন বলেন, ‘পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় সন্ত্রাসী বাহিনী শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।’ মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার রেজাউর রহমান বলেন, ১০ মাসে ৬০ জন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু অনেকে জামিন পেয়ে আবার বাইরে চলে আসছে। তিনি জানান, চাঁদাবাজি বা গুলির ঘটনায় মামলা বা তথ্য দিতে চান না অনেকেই। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে উঠেছে।