Image description

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে নতুন করে দলীয় তৎপরতা বাড়িয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ইসির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ধাপের ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। এই সময়সূচিকে সামনে রেখে নতুন করে দলীয় কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করছেন এনসিপি নেতারা।

 

ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতি নিয়ে এশিয়া পোস্টের সঙ্গে কথা বলেছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারজিস আলম। তিনি বলেন, ‘আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৮ ইউনিয়নে কমিটি গঠন এবং দল-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

 

সারজিস আলম বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৫০০ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি পর্যালোচনা, দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আঞ্চলিক সমন্বয় সভা করা হচ্ছে। আমরা সব রকমের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে চাই।’

 

এনসিপি সূত্র বলছে, দলের আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনি কৌশল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত এনসিপি সমর্থিত প্রার্থী দিতে সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

 

প্রাথমিক আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব ইউনিয়নে কমিটি গঠন এবং দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে এনসিপি। তবে দলীয় সূত্র বলছে, শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের বাইরে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

 

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক এনসিপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশ নিলেও এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী বাছাই করছে দলটি। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তাহসিন রিয়াজ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা কোনো জোটের অধীনে নয়, বরং এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেব। মানুষ একটি নতুন ধারার পরিবর্তন চায়। জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’

 

প্রস্তুতি ও প্রার্থী বাছাই

 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কমিটিতে শীর্ষস্থানীয় কিছু পদে পরিবর্তন এসেছে।

 

ইউনিয়ন কমিটি ও ইউপি নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন কমিটি ৫১ সদস্যের এবং ওয়ার্ড কমিটি হবে ৩১ সদস্যের। স্থানীয়ভাবে পরিচিত, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, সৎ, দেশপ্রেমিক, সচ্ছল ও সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

 

ইউপি নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন নিয়েও তৎপর এনসিপি। এরইমধ্যে ঢাকার দুই সিটিসহ সারাদেশের পাঁচ সিটি কর্পোরেশনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

দলের যুগ্ম সদস্যসচিব তাহসিন রিয়াজ। তিনি বলেন, ‘মাত্র দুই বছরের মধ্যে আমরা দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কাজ ছড়িয়ে দিতে পেরেছি। ইতোমধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ১০০ প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছি। আরও ১০০ জন পাইপলাইনে আছে। তবে নতুন দল হিসেবে এনসিপির সাংগঠনিক সামর্থ্যে কিছুটা ঘাটতি আছে। এটি অস্বীকার করার কিছু নেই।’

 

এনসিপি নেতারা বলছেন, তৃণমূল পর্যায়ে সক্ষমতা দেখাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধাপে ধাপে সাংগঠনিক কাঠামো ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এরপর ধাপে ধাপে রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।

 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ে কোন বিষয় বিবেচনায় আনা হচ্ছে? এমন প্রশ্নে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান। কয়েক ধাপে তাদের নাম ঘোষণা করা হবে। দক্ষতা ও যোগ্যতার বিচারে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।’

 

এনসিপি নেতাদের মতে, এককভাবে নির্বাচন করলেও পূর্ববর্তী কার্যক্রম, প্রার্থীর যোগ্যতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার বিচারে তারা ভালো ফল করবে। এছাড়া দলীয় প্রতীকবিহীন নির্বাচনে কোনো বিশেষ দল বা মার্কাকেন্দ্রিক আনুগত্য প্রকাশ পাবে না। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে বিএনপি ও জামায়াতের মতো দুই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপরীতে এনসিপি প্রার্থীদের ভালো করার সুযোগ আছে।

 

সারোয়ার তুষারের মতে, বিএনপি ও জামায়াত মূলত তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক ভোট পাবে। এনসিপি সাংগঠনিক ভোটের পাশাপাশি দোদুল্যমান ভোটও পাবে। এই হিসাবে ভোটের লড়াইয়ে এনসিপি ভালো অবস্থানে থাকতে পারে।’

 

অঞ্চলভিত্তিক সমন্বয় সভা

 

স্থানীয় নির্বাচনে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই অঞ্চলভিত্তিক সমন্বয় সভা শুরু করেছে এনসিপি। দলের আহবায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা এগুলোতে অংশ নিচ্ছেন।

 

রংপুর বিভাগের চার জেলা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিনাজপুরে আঞ্চলিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলমসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা এতে অংশ নেন। এর আগে নাহিদ ইসলামের উপস্থিতিতে মুন্সিগঞ্জ ও ফরিদপুরে মতবিনিময় সভা করে দলটি।

 

তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা এবং নির্বাচনি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের অংশ হিসেবে এ ধরনের সভার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি জেলা নিয়ে ইউনিট ভাগ করে ধাপে ধাপে সারা দেশে এমন সভার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে চায় এনসিপি।