চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীত দিকের শেখপাড়ার একটি গলিতে বসতবাড়ির প্রাচীরে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘জয় হাসিনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বরে’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান লেখার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে স্লোগান লেখার ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টি নজরে আসে। অভিযোগ উঠেছে, এর আগের দিন (৪ নভেম্বর) বুধবার দিনের বেলায় বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জন্মদিন উদ্যাপন করতে ওই গলিতে যায়। পরে তারাই বসতবাড়ির দেয়ালে এসব স্লোগান লেখে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ঘটনাটি জানাজানি হলে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দেয়াল থেকে লেখাগুলো মুছে ফেলা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শেখপাড়ার ওই গলির একটি বসতবাড়ির প্রাচীরে কালো ও সাদা রঙের স্প্রে দিয়ে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হাসিনা’, ‘মুজিব সেনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’ লেখা ছিল। এসব স্লোগানকে আওয়ামী লীগ ও দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্লোগান হিসেবে দেখা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘গতকাল দিনের বেলায় স্কুলের ছাত্রীরা এসে দেয়ালে এসব স্লোগান লিখেছে। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এমন কাজ করবে, তা মোটেও আশা করা যায় না।’
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বিষয়টি জানিয়েছি। পরে তার নির্দেশে বিদ্যালয়ের সহায়কদের মাধ্যমে লেখাগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা গেছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং শিক্ষার্থীরা কেন এমন কাজ করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা হিমেল রানা বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। কারও নির্দেশনা বা প্ররোচনায় তারা দেয়ালে এসব স্লোগান লিখেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’