
বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা বিচারক-আইনজীবীসহ অংশীজনের দীর্ঘদিনের দাবি। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের কাজটি সঠিকভাবে করতে এই সচিবালয়ের বিকল্প নেই। এটি প্রতিষ্ঠায় রয়েছে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও। ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়েও পৃথক সচিবালয় স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু দেশ স্বাধীনের ৫৪ বছর পরও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সৈয়দ রেফাত আহমেদ প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নিয়েই পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় জোর দেন। সে অনুযায়ী প্রায় চার মাস আগে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। এরপর বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় স্থাপনের জন্য কাজ শুরু হয়। এজন্য ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫’ নামে একটি অধ্যাদেশের খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ও আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বসে এই খসড়া ঠিক করেছেন।
প্রথমদিকে সচিবালয় স্থাপনের কার্যক্রম জোরেশোরে চললেও বর্তমানে সেই গতিতে ভাটা পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে পৃথক সচিবালয় স্থাপনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ। এই অনুচ্ছেদে বিচারকদের বদলি, পদায়ন-পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা বিধানের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত রয়েছে। বাহাত্তরের আদি সংবিধানে এটি সুপ্রিম কোর্টের হাতে ছিল। কিন্তু ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এটি রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালন করে থাকে মূলত আইন মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নেওয়া হয়। ফলে বিচারকদের পদলি-পদায়ন-পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা বিধানে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়। ১১৬ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে। এই ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে এরই মধ্যে উচ্চ আদালত প্রশ্ন তুলেছেন। এই অনুচ্ছেদটি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না—সে মর্মে রুল হয়েছে। এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এই রুল জারি করা হয়। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানিও শুরু হয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এটির শুনানি চলছে। এই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বাকি কার্যক্রমে গতি পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন একাধিক বিচারক।
তারা বলছেন, বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কাজটি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই শেষ করা উচিত। এর জন্য যা যা করা জরুরি, তা করতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক সরকার দেশ পরিচালনায় আসার পর এটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা সেটাই বলছে। রাজনৈতিক সরকারগুলো বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকও করতে চায়নি। সে কারণে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দীর্ঘদিন পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিচার বিভাগকে পৃথক ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসে, বিচার বিভাগ পৃথককরণের বাকি কাজ আর এগিয়ে নেয়নি। ফলে এখনো বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি নির্বাহী বিভাগের কবজায় রয়ে গেছে।
নির্বাহী বিভাগের বলয় থেকে বিচার বিভাগকে মুক্ত করতে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পরই উদ্যোগ নেন। সারা দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে গত ২১ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক বিচার ব্যবস্থার কাজ হলো নিরপেক্ষভাবে স্বল্প সময় ও খরচে বিরোধের মীমাংসা নিশ্চিত করে জনগণ, সমাজ, রাষ্ট্রকে সুরক্ষা দেওয়া। এজন্য বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ ও আইন সভা থেকে পৃথক ও স্বাধীন করা সবচেয়ে জরুরি। প্রধান বিচারপতি আরও বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মতো বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য পরিপূর্ণ প্রস্তাব প্রস্তুতক্রমে আমরা শিগগির আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করব।’ অভিভাষণের এক মাস ছয় দিনের মাথায় প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল গত ২৮ অক্টোবর আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব বরাবর পৃথক সচিবালয় স্থাপনের ধারণাপত্র ও কিছু সংযুক্তিসহ ওই প্রস্তাব পাঠান। এরপর এটা নিয়ে কাজ শুরু হয়।
আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে একাধিক বৈঠক করেন। এরপর তারা ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি খসড়া অধ্যাদেশ তৈরি করেন। অধ্যাদেশ তৈরির সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, পৃথক সচিবালয় স্থাপন করতে হলে ১১৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের বিকল্প নেই। এ বিষয়ে একটি রিট উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পৃথক সচিবালয় স্থাপনের কার্যক্রম আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জানতে চাইলে ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে করা রিটের পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘রিট আবেদনটির চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়েছে। মামলাটি আংশিক শ্রুত হিসেবে রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য রাখার কথা ছিল। এ অবস্থায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ শুনানির জন্য চার সপ্তাহ সময় নিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ চাইলেই এই রিটের দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব।’
এ ব্যাপারে টেলিফোনে আইন সচিবের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শাহজাহান সাজুর সঙ্গে। কালবেলাকে তিনি বলেন, ‘এ দেশে রাজনৈতিক সরকারের আমলে বিচার বিভাগের অনুকূলে কোনো পরিবর্তন আসেনি, যা পরিবর্তন করা হয়েছে, তা রাজনীতিবিদদের স্বার্থেই করা হয়েছে। শুধু নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকার আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই বিচার বিভাগের উন্নয়নে সব সিদ্ধান্ত এসেছে। তত্ত্বাবধায়কের আমলে বিচার বিভাগকে পৃথক ঘোষণা করা হয়েছে। আর এবার অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগের সংস্কারে অনেক সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সুপারিশ হলো—পৃথক সচিবালয় স্থাপন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রধান বিচারপতি সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আগেই এই পৃথক সচিবালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেন। এরই মধ্যে এর কাজ এগিয়েছে। আশা করব, এই সরকার ক্ষমতায় থাকতে থাকতেই যেন পৃথক সচিবালয় স্থাপনের কাজ শেষ করে। অধ্যাদেশের খসড়ায় যা আছে: সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারির উদ্দেশ্য সম্পর্কে খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ যথাযথভাবে পালনের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তগুলো সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়। এ ছাড়া সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথককরণকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি আপিল বিভাগের ৭৯/১৯৯৯ নম্বর সিভিল আপিলের (ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার) রায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথককরণের বাস্তবায়নকল্পে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ এর খসড়ার ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একটি সচিবালয় থাকবে এবং এটা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নামে অভিহিত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দপ্তরের আওতাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে না। বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে একজন সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সমন্বয়ে এই সচিবালয় গঠিত হবে।’ এই সচিবালয়ের কার্যাবলি সম্পর্কে অধ্যাদেশের ৫ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘অন্য কোনো আইন, বিধি বা কার্যবণ্টনে যা কিছুই থাকুক না কেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যাবলি নিম্নরূপ হবে:- (ক) দেশের বিচার প্রশাসন পরিচালনায় সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা প্রদান করার জন্য অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব সাচিবিক দায়িত্ব পালন; (খ) সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন সাপেক্ষে রাজস্ব আদালতগুলো ব্যতীত হাইকোর্ট বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন দেশের সব অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, এখতিয়ার, ক্ষমতা ও গঠন নির্ধারণ; (গ) হাইকোর্ট বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন সব আদালত বা ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি নির্ধারণ; ঘ) সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়; (ঙ) অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়; (চ) অধস্তন আদালত ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বাজেট ব্যবস্থাপনা; (ছ) অধস্তন আদালত এবং বিচারকদের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধান; (জ) সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ; (ঝ) অধস্তন আদালতের বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ; (ঞ) বিচার সেবার মানোন্নয়ন ও বিচার বিভাগের সংস্কারে প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যপদ্ধতির ব্যাপারে ৬(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিব সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হবেন। (২) সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব সরকারের সিনিয়র সচিবের সমমর্যাদা ও সুবিধাদি ভোগ করবেন।’ ৮(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগীয় নীতিনির্ধারণ, কর্মকৌশল উদ্ভাবন এবং দেশের বিচার প্রশাসনকে অধিকতর কার্যকর করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতির সমন্বয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখপূর্বক বিচার প্রশাসন-সংক্রান্ত এক বা একাধিক কমিটি গঠন করতে পারবেন।’ মোট ১৮টি ধারা সংবলিত এই খসড়া অধ্যাদেশের ৯ নম্বর ধারায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বাজেট প্রণয়ন এবং ১০ নম্বর ধারায় অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে বলা আছে। এতে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় অনুমোদনে প্রধান বিচারপতি চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হবেন।’ ১১ নম্বর ধারায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ব্যাপারে বলা আছে। ১২ নম্বর ধারায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরির সাধারণ শর্তাবলি, ১৩ নম্বর ধারায় বেতন-ভাতা ও অন্য সুযোগ-সুবিধাদি, ১৪ নম্বর ধারায় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা, ১৫ নম্বর ধারায় সচিবের প্রশাসনিক দায়িত্ব সম্পর্কে, ১৬ নম্বর ধারায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও অধস্তন আদালতের সাংগঠনিক কাঠামোর বিষয়ে বলা আছে।