কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় একটি বাড়ির রান্নাঘর, বসতঘর, মুরগির খোঁয়াড় ও বাড়ির আশপাশ থেকে দুটি বড় সাপ ও পদ্ম গোখরার অন্তত ৫০টি বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধান্যদৌল গ্রামের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. আজিজ মিয়ার বাড়ি থেকে সাপগুলো উদ্ধার করেন রাজু কবিরাজ নামে এক সাপুড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাড়ির আশপাশে সাপের ৭ থেকে ৮টি বাচ্চা দেখতে পান বাসিন্দারা। আতঙ্কিত হয়ে সেগুলো পিটিয়ে মারেন তারা। পরে বাড়িতে আরও সাপ থাকার আশঙ্কায় সাপুড়েকে খবর দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সাপুড়ে রাজু কবিরাজ এসে স্থানীয় আজিজ মিয়ার রান্নাঘরে স্তূপ করে রাখা লাকড়ি ও জমানো পরিত্যক্ত জিনিসপত্রের স্তূপের নিচ থেকে, মুরগির খোঁয়াড়ের নিচ থেকে, ঘরে রাখা পরিত্যক্ত বইয়ের স্তূপের নিচ থেকে, জমিয়ে রাখা বস্তার নিচ থেকে, বাড়ির বিভিন্ন বসতঘর থেকে ও বাড়ির আশপাশ থেকে দুটি বড় পদ্ম গোখরা ও ৫০টি বাচ্চা উদ্ধার করেন। উদ্ধার সাপগুলো তিনি নিয়ে গেছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাড়িতে একসঙ্গে এতগুলো সাপের বাচ্চা পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আশপাশের বাড়িসহ পুরো গ্রামের লোকজনও সাপ আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল খান চৌধুরী বলেন, একটি বাড়ি থেকে এতগুলো সাপের বাচ্চা উদ্ধার হওয়ার পর সবাই ভয়ে আছেন। কখন কার বাড়িতে সাপ পাওয়া যায়, সেই আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার মানুষ। কিছুদিন আগেও এ গ্রামের অন্য এক বাড়ির পুকুরপাড় থেকে অনেকগুলো সাপের বাচ্চা ও সাপ মারা হয়েছিল। এর আগে সাপের কামড়ে এই গ্রামের এক কিশোরী মারা গেছে। সব মিলিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, এই গ্রামে কিছুদিনের মধ্যে অনেকগুলো সাপ পাওয়া গেছে। এক মাসও হয়নি এই গ্রামে একটি মেয়ে সাপের কামড়ে মারা গেছে। সবাই এখন খুব আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আমরা চাই, সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৬ অক্টোবর ধান্যদৌল গ্রামের মাউদ আলীর বাড়িতে সাপের কামড়ে মাহমুদা (১৪) নামের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর গ্রামজুড়ে সাপ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া গত ২১ ও ২২ অক্টোবর একই গ্রামের আনু মিয়ার বাড়ির বাঁশঝাড়সংলগ্ন পুকুরপাড়ে একটি বড় সাপসহ ২১টি পদ্ম গোখরা সাপের বাচ্চা পিটিয়ে মারেন স্থানীয় লোকজন।
পরপর এসব ঘটনায় ধান্যদৌল গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সাপ নিয়ে উদ্বেগ বেড়ছে। একের পর এক সাপের সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে সাপ আতঙ্ক বেড়ছে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোস্তফা কামাল কালবেলাকে বলেন, ‘সাপ সাধারণত নিরিবিলি, নিরাপদ ও আড়ালযুক্ত স্থানে আশ্রয় নেয়। বাড়ির আশেপাশে লাকড়ির স্তূপ, ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত জিনিসপত্র ও ইঁদুরের গর্ত থাকলে সেখানে সাপের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাই বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাপ দেখলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে মারতে না গিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দিতে হবে। বিশেষ করে রাতের বেলা চলাফেরায় ও শিশুদের বাড়ির আশপাশে খেলাধুলার সময় সতর্ক থাকতে হবে।’