গোপালগঞ্জে একটি সাবমারসিবল পাম্পের পাইপে আগুন ধরিয়ে দিলে জ্বলে উঠছে আগুন। পানির সঙ্গে গ্যাস বের হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে বলে দাবি স্থানীয়দের। ঘটনাটি পরীক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সরেজমিনে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
জানা গেছে, উপজেলার বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের ভাসাই বাজারে মাছবাহী বিভিন্ন গাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য প্রায় এক বছর আগে ২৮০ ফুট গভীর একটি সাবমারসিবল পাম্প বসান হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী কামরুল শেখ।
গত এক সপ্তাহ ধরে পাম্পটি দিয়ে পানি কম উঠছিল। এ অবস্থায় কৌতূহলবশত গত বুধবার রাতে পাম্পের পাইপের মুখে গ্যাস লাইট ধরান কামরুল। এ সময় দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে তার দোকানের সামনে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ।
বৃহস্পতিবারও ভাসাই বাজারে কামরুলের দোকানের সামনে মানুষের ভিড় দেখা যায়। তাদের অনুরোধে কামরুল মাঝেমধ্যে পাম্পটি চালু করে পাইপের মুখে গ্যাস লাইট ধরিয়ে আগুন জ্বলার বিষয়টি দেখান। স্থানীয়রা দ্রুত বিশেষজ্ঞ দল এনে পাম্পটি পরীক্ষা করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, সত্যিই সেখানে মাটির নিচে গ্যাসের মজুদ রয়েছে কি না।
কামরুল শেখ বলেন, ‘বিভিন্ন মাছের গাড়িতে পানি সরবরাহ দেওয়ার জন্য গত এক বছর আগে ২৮০ ফুট গভীরের এই সাবমারসিবল পাম্পটি আমি বসিয়েছি। গত এক সপ্তাহ ধরে পানি খুব কম ওঠায় গতকাল বুধবার রাতে আমি পাম্পটির পাইপের মাথায় গ্যাস লাইট ধরিয়ে দিলে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকার উৎসুক মানুষজন আমার দোকানের সামনে এসে ভিড় জমান।’
স্থানীয় যুবক শিহাব শেখ বলেন, ‘রাতে খবর পেয়ে আমরা সকালে এখানে দেখতে এসেছি। এসে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আমরা চাই, একটি বিশেষজ্ঞ দল এসে এটি পরীক্ষা করে দেখুক। সত্যিই এখানে মাটির নিচে গ্যাস আছে কি না। সত্যিই যদি গ্যাস পাওয়া যায়, তাহলে সেটি আমাদের দেশের জন্য মঙ্গল।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি এলাকার তহশিলদারদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে আমি এটির সত্যতা পেয়েছি। আগামীকাল শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’