ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে দেশব্যাপী ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি পালন করছে ইনকিলাব মঞ্চ। এ কর্মসূচি থেকে নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যারও বিচার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। ৩১ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) এসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
এদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে অবস্থান নেন তাঁরা। এ সময় ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই’, ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘শাকিল হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘সারাদেশে সন্ত্রাস, প্রশাসন কাটে ঘাস’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের, সংগঠনটির সার্চ কমিটির আহ্বায়ক জি এ সাব্বিরসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
পরে শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন গজল, ইসলামি সংগীত ও বিপ্লবী গান পরিবেশন করেন তাঁরা। এসব পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা বলেন, ‘আমাদের মাঝে হাদি ভাই নেই। তাঁর হত্যার প্রায় এক বছর হতে চললেও এখনো আমরা বিচার পাইনি। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে সারাদেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ২টায় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর আলেখারচর, শাসনগাছা, পুলিশ লাইন, টাউন হল ও বিশ্বরোড হয়ে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং সবশেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল। বিকেল ৪টার পর মার্চটি কুমিল্লা শহরে অবস্থান করে। সন্ধ্যায় কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালন করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো—ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, জুলাই গণভোটের গণরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং পিলখানা, শাপলা ও জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া ৩১ দিনের এই মার্চ আগামী ৬ নভেম্বর টেকনাফ জিরো পয়েন্টে পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া আগামী ১২ থেকে ১৮ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করার কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।