চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তার দুই হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে গেছে তারা। আজ বুধবার সকালে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখিল এলাকায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী সড়কের পাশ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা।
বন্যহাতির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় রাতে ক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে জানিয়েছে পরিবার। তবে হত্যার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত করছে পুলিশ।
নিহত কৃষকের নাম নেজাম উদ্দিন (৫০)। তিনি উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখিল গ্রামের বাসিন্দা। পাহাড়ি এলাকায় বর্গা জমিতে চাষাবাদের পাশাপাশি তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
নিহতের ভাই জসিম উদ্দিন বললেন, ‘আমার ভাই একজন নিরীহ চাষা ছিলেন। কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না। রাতে ক্ষেতের ধান পাহারা দিতে গিয়েছিল। সকাল পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় আমরা খুঁজতে বের হই। রাস্তার পাশে জমা বৃষ্টির পানিতে তার লাশ পড়ে ছিল। আশপাশে সব রক্ত। কারা কী কারণে আমার ভাইকে খুন করল বুঝতে পারছি না।’
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে নেমে আসা বন্যহাতি প্রায়ই কৃষিজমির ফসল নষ্ট করে। এ কারণে কৃষকরা রাতে দলবদ্ধভাবে ক্ষেত পাহারা দেন। মঙ্গলবার রাতেও নেজামসহ কয়েকজন কৃষক পাহারায় বের হয়েছিলেন। রাত ২টার পর অন্যরা বাড়ি ফিরে গেলেও নেজাম ফেরেননি। তার স্ত্রী ফোন করে মোবাইল বন্ধ পান। এরপর রাত থেকেই পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। বুধবার সকালে বোয়ালখালী উপজেলার কাছাকাছি সড়কের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ওসি আরও জানালেন, স্থানীয়ভাবে সিঙ্গাপুর রোড নামে পরিচিত সড়কটির ওই অংশ কিছুটা নির্জন। দিনে মানুষের চলাচল থাকলেও সন্ধ্যার পর তা কমে যায়। নেজামকে যেভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তাতে ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিহিংসার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার বিচ্ছিন্ন দুই হাত এখনো উদ্ধার করা যায়নি। সেগুলো খুঁজতে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চলছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে বলেও জানান ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ।