Image description

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ, গণনা ও ফলাফল প্রকাশে কোনো অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। নির্বাচনে অনিয়ম হলে সারা দেশে আন্দোলন তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

আজ বুধবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের পরিবেশ এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়।

১০ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।

হামিদুর রহমান আযাদ বললেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আমাদের আলোচনা ভালো হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে কমিশনের বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির মিল থাকতে হবে। তা না হলে কমিশনের আশ্বাসকে আমরা ‘আইওয়াশ’ বলে মনে করব।

তিনি বলেন, আগামীকালই সেই মহাপরীক্ষাটা হবে। কী ফলাফল আসে, দেশবাসী দেখতে পাবে। আমরা আশাবাদী হতে চাই, এই কমিশন স্বাধীন ও শক্তিশালী কমিশন হিসেবে সংবিধানপ্রদত্ত জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পর্যাপ্ত থাকলেও তাদের অতীত ও সাম্প্রতিক নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনে বিজিবি, পুলিশসহ পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকবে। তবে এসব বাহিনীর ওপর ভোটারদের আস্থার ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন।

নির্বাচন চলাকালে ইউনিয়নভিত্তিক ক্যাম্পের ব্যবস্থা করার অভিযোগে সিভিল সার্জনকে শোকজ করার বিষয়টি তুলে ধরেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, নির্বাচনের সময় এ ধরনের ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না এবং এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না?

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অন্যান্য অভিযোগের তদন্ত ও নিষ্পত্তির বিষয়েও কমিশনের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে। যেসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং পরিস্থিতির উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারির ওপর জোর দেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, শুধু মনিটরিং সেল গঠন বা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বাড়িয়ে লাভ হবে না, যদি মাঠপর্যায়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা না থাকে। ভোট গ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ—এই তিন পর্যায়ে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি এবং কোনো অনিয়ম ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিনই বোঝা যাবে, কমিশন তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ থাকলেও এখনই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি ১১-দলীয় ঐক্য।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচন করার জন্যই প্রার্থী দিয়েছি। তবে ভোটের দিন পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ভোটের আগে কিছু পরিস্থিতি অনুমান করা গেলেও প্রকৃত অবস্থা নির্বাচনের দিনই বোঝা যাবে। পরিস্থিতির উন্নতিও হতে পারে, আবার অবনতিও হতে পারে।