গাজীপুরের পাতারটেকে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক অসুস্থ থাকায় তার আইনজীবীর সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির নতুন তারিখ আগামী ১৭ নভেম্বর ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ জন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন সাবেক আইজিপি শহীদুল হক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া।
বুধবার শুনানির দিন ধার্য থাকলেও অসুস্থতার কারণে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পারেননি শহীদুল হক। এ অবস্থায় তার আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ সময়ের আবেদন করেন। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার মক্কেল আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে ট্রাইব্যুনাল শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
শেখ হাসিনা ছাড়া এ মামলার পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তৎকালীন বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, তৎকালীন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, বগুড়ার তৎকালীন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বগুড়ার তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল এবং তৎকালীন সিটিটিসির সহকারী পুলিশ কমিশনার ও সোয়াটের টিম লিডার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, গত ২ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর আসামিপক্ষের শুনানির কথা ছিল। তবে এর মধ্যে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁওয়ের পাতারটেক এলাকায় সোলায়মান সরকারের বাড়িতে সাতজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের তুলে নিয়ে বগুড়ায় পুলিশের একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছিল। পরে সিটিটিসির নেতৃত্বে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে নাটক সাজিয়ে সোয়াট সদস্যরা তাদের হত্যা করেন। ওই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন শরতের তুফান’।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা থামেনি। সাতজনের মরদেহ নিতে এলে তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হবে বলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এ ভয়ে পরিবারের কেউ মরদেহ নিতে সাহস করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। বাকি তিনজন হলেন- মো. ইবরাহীম, ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও সাইফুর রহমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইবরাহীমের বাবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ ঘটনায় অভিযোগ করেন।
চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ১০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।