কক্সবাজারে গভীর নলকূপের জন্য খনন করা গর্ত থেকে বের হওয়া গ্যাসের আগুন ১৪ ঘণ্টা পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি ফায়ার টিম কাজ করছে।
আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উখিয়ার ইনানীর একটি বাড়ির আঙিনায় খনন করা গর্ত থেকে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেই গ্যাসে আগুন জ্বলে ওঠে।
এরপর থেকে অব্যাহতভাবে আগুন জ্বলছে। ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গমন অব্যাহত থাকায় পানি ছিটিয়েও আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ শুরু করে।
এ ঘটনায় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে, আগুনের কারণে পুরো ইনানী এলাকায় সকাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা মো. বেলাল উদ্দীন।
সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাইকিং করে লোকজনকে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার।
ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা থেকে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন জ্বলে ওঠার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।’
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সাইদুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। সেনাবাহিনীর ফায়ার টিমের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছেন।