Image description

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের ছবি সংবলিত একটি পোস্টে আবু বকর সিদ্দিক লিখেছিলেন ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিল’। এ মন্তব্যের পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই যুবকের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে এদিন আদালতে সেই যুবক দাবি করেছেন, মন্তব্যটি মজা করে করেছিলেন। এ মন্তব্য করে তিনি ভুল করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আজ রবিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াছিন পাইক ওই ‍যুবককে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আবু বকর সিদ্দিকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মন্তব্যটির পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়া সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, অজ্ঞাতনামা আসামিদের তথ্য সংগ্রহ এবং মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

শুনানির সময় আবু বকর সিদ্দিকের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। বিচারক তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মন্তব্যটি মজা করে করেছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেছেন, ‘কমেন্টটি মজা করে করেছি। এখানে আমার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমার ভুল হয়ে গেছে।’ এ সময় বিচারক সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করার বিষয়ে সতর্ক করেন। পরে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ২১ অক্টোবর গভীর রাতে রাজশাহীর পবা থানার কচুয়াতৈল এলাকার বাসা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ২৩ অক্টোবর কারাগারে পাঠানো হয়। একই দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত শুনানির জন্য ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর বেলা ৩টার দিকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে তিনি নগরীতে প্রবেশ করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান। চলন্ত বাস থেকে হাত নেড়ে তাঁদের অভিবাদনের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে একই বাসে করে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন তিনি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি মন্দির পরিদর্শন শেষে একই বাসে বিমানবন্দরে ফিরে যান।

এদিকে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি দিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘সবই বুঝলাম রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই, রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কি জানেন রাজশাহীবাসী?’

 

ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিল’ মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মো. মানিক হোসেন রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।