Image description

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগ ও অবদানের কথা স্থান পেয়েছে পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে। বইয়ের ২২ নম্বর পাঠে থাকা ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ শীর্ষক গল্পে এই তিন জুলাই শহীদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। গল্পটিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদদের স্মরণ করার পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। 

এতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা তিতুমীর, সূর্য সেন ও প্রীতিলতার পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনের শহীদ সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারের কথা রয়েছে। আরও রয়েছে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আসাদ, শহীদ ছাত্র মতিউর ও তার মা আনোয়ারা বেগম, সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং অধ্যাপক শামসুজ্জোহার আত্মত্যাগের কথা। 

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার পর বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শহীদদের কথাও রয়েছে গল্পটিতে। ১৯৮৩ সালের আন্দোলনে সেলিম-দেলোয়ার, ১৯৮৭ সালে নূর হোসেন এবং ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনে ডা. মিলন ও জেহাদের আত্মত্যাগের কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর গল্পে উঠে এসেছে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের কথা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে গল্পে বলা হয়, এত ত্যাগের পরও এ দেশের মানুষ অধিকার পায়নি, বৈষম্য কমেনি। অধিকারের দাবি ও বৈষম্যের কথা বলতে গিয়ে এদেশের শিক্ষার্থীরা তাই ২০২৪ সালে আবার রাস্তায় নামে। সরকারি বাহিনী নির্মমভাবে সেই আন্দোলন দমন করতে চেয়েছিল।

দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রংপুরে প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে তিনি পুলিশের সামনে দাঁড়ান। পুলিশ তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। সারা দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিশাল এক গণ-অভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়।

ঢাকার উত্তরায় শহীদ হন শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। আন্দোলনরত সবার মধ্যে পানি বিতরণ করছিলেন তিনি। চট্টগ্রামে শহীদ হন ওয়াসিম আকরাম। ওয়াসিম আকরাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং গণমানুষের অধিকারের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার প্রতীক। 

গল্পটিতে আরও দুই জুলাই শহীদের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, আরও শহীদ হন গোলাম নাফিজ, নাহিয়ানসহ অগণিত প্রাণ। শহীদ হয়েছে মায়ের কোলের শিশু ও বাবার সাথে খেলতে থাকা কিশোর পর্যন্ত।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দেড় হাজারের বেশি মানুষ জীবন দিয়েছেন। অনেক মানুষ হারিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি। অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তাঁরা সবাই একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য রক্ত দিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর রাষ্ট্রে মিলেমিশে বসবাস করার স্বপ্ন ছিল তাঁদের। দেশের জন্যই তাঁরা শহীদ হয়েছেন। আমরা তাঁদের কখনো ভুলব না।