Image description

টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে আজ  থেকে খুলছে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। গতকাল ছুটির শেষ দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীতে ফিরছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। নৌ, রেল ও সড়কপথে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ ছিল সকাল থেকেই। তবে যানবাহনে চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী, আবদুল্লাহপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও গুলিস্তান বাস টার্মিনালগুলোয় ঢাকায় ফেরা মানুষের ভিড়। কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ঢাকায় ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। দেশের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে কর্মক্ষেত্রে ফিরছেন লোকজন।

কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে, সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের একের পর এক যাত্রীবোঝাই ট্রেন ঢাকায় পৌঁছেছে। অধিকাংশ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই এসেছে। ঢাকায় ফেরার ট্রেনগুলোতে যাত্রী উপস্থিতি ছিল বেশি। তবে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতে চাপ কম ছিল।

কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ কবির উদ্দিন মোল্লা বলেন, সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। ঢাকার বাইরে থেকে আসা বেশির ভাগ ট্রেনেই যাত্রী পূর্ণ ছিল। দুপুরের পর থেকে ঢাকায় ফেরার চাপ আরও বাড়ে। রবিবার (আজ) যাত্রীর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

এগারো সিন্দুর ট্রেনের যাত্রী জাকিয়া সুলতানা দিপা জানান, মেয়ে তাসফিয়া সোহা ও ছেলে সাফওয়ান আহনাফকে নিয়ে পূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়ি ভৈরবের শ্রীনগর গিয়েছিলাম। ছুটি শেষে এগারো সিন্দুর ট্রেনে গতকাল ঢাকায় ফিরি। ট্রেনে যাত্রীর খুব চাপ ছিল। ঈদের ছুটির পর যেমন চাপ থাকে, তেমনি চাপ ছিল।

যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী, গুলিস্তান বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। টেকনিক্যালের দেশ ট্রাভেল পরিবহনের ম্যানেজার রাজন জানান, শনিবার সারা দিন যাত্রীদের চাপ ছিল। রবিবার সকাল পর্যন্ত যাত্রীদের চাপ অব্যাহত থাকবে।

এদিকে গাড়িতে চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন ঢাকায় ফেরা মানুষ। যাওয়ার সময় অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছিল যাত্রীদের। ফেরার পথেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। রাজশাহী থেকে ফেরা মশিউর রহমান বলেন, নির্ধারিত ভাড়া নন-এসি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা হলেও ১ হাজারের নিচে কোনো টিকিট নেই।

গতকাল ছুটি থাকায় রাজধানীতে যানবাহন ও মানুষের চলাচল ছিল তুলনামূলক কম। তবে আজ থেকে অফিস-আদালত খুললে ব্যস্ত নগরী আবারও স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরবে।