Image description

দেশের ৬৩৯টি থানায় যানবাহন রয়েছে ১ হাজার ২৩৭টি। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি থানায় দুটিরও কম। তার ওপর এসব গাড়ির ৬৪ শতাংশের বয়স ১০ বছরের বেশি। পুরোনো গাড়ি আর সীমিত যানবাহন নিয়ে টহল, অপরাধ দমন ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে ৫ হাজার ৮৩০টি নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬০৯ কোটি ৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। এরমধ্যে অপারেশনাল ও বিশেষায়িত যানবাহন কেনার পৃথক দুটি প্রকল্প আগামী রোববার একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। দুই প্রকল্পের পুরো অর্থই দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে সরকারি কোষাগার থেকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডিশনাল আইজিপি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, মাত্র একটি গাড়ি আছে এমন থানাও রয়েছে। বর্তমানে যেসব গাড়ি আছে সেগুলোর অধিকাংশ ৮/৯ বছরের পুরোনো। যানবাহন স্বল্পতার কারণে দ্রুত ক্রাইম এলাকায় পৌঁছানো যাচ্ছে না। এতে কাজে বিঘ্ন ঘটছে। নতুন দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে অপারেশনাল গাড়ি কেনা হলে পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে। অপরাধ দমনে সহায়ক হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, থানার চাহিদা অনুপাতে গাড়ি বণ্টন করা হবে। নতুন গাড়ি পেলেও পুরোনো গাড়ি ফেলে দেওয়া হবে না। সেগুলোও মেরামত করে চালানো হবে।

নাম প্রকাশ না করে এক পুলিশ সদস্য বলেন, অভ্যুত্থানের সময় অনেক থানায় গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। সেসব ঘাটতিও রয়ে গেছে। এ জন্য নতুন গাড়ি কেনার বিকল্প নেই।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপারেশনাল যানবাহন কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এতে কেনা হবে ৪ হাজার ৮২৯টি গাড়ি। প্রতিটি গাড়ি কেনার ব্যয় হবে ৮৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এসব গাড়ি টহল, অপরাধ প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, মাদক উদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নির্বাচনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন কেনায় প্রস্তাবিত ব্যয় ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা। গড়ে প্রতিটি গাড়ির দাম পড়বে ২ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। প্রকল্প দুটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। দুর্গম এলাকায় অভিযান ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিশেষায়িত প্রকল্পে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের গাড়ি, অল-টেরেইন ভেহিকল (এটিভি), মোবাইল কমান্ড সেন্টার এবং ক্রাইম সিন ভ্যান কেনা হবে। মোট ব্যয়ের মধ্যে যানবাহন কেনায় ২ হাজার ২২৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, ৯১০ জনকে গাড়ি চালনা ও মেকানিক প্রশিক্ষণে ১ কোটি ১৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, ৭৮৩টি গাড়ির নিবন্ধন ফি বাবদ ৫ কোটি ৮৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এবং ৫০ জন মেকানিকের বিশেষ প্রশিক্ষণে ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশেষায়িত যানবাহন কেনার প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়। সভার পর এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জনগণকে দ্রুত সেবা দেওয়া, পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়তা পাওয়া যাবে। তবে শুধু নতুন গাড়ি কিনলেই লক্ষ্য পূরণ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, কোন থানায় কতটি গাড়ি প্রয়োজন, কোন ইউনিটে কী ধরনের যানবাহন দরকার এবং কেনার পর সেগুলো সচল রাখার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে-এসবের ওপরই নির্ভর করবে বিপুল সরকারি বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল।