সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বগুড়ার শাজাহানপুরের সাহেদ আহম্মেদের লাশ দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার সকালে ঢাকায় লাশ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
পরে লাশবাহী গাড়ি পৌঁছায় উপজেলার মাদলা গ্রামে সাহেদের বাড়িতে। প্রিয় মানুষটির কফিন দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী কাকলীসহ স্বজনেরা। বাবাকে হারিয়ে শোকাহত তার দুই শিশুসন্তান। বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রায় দুই বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাহেদ আহম্মেদ আশিক। এক মাসের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। রিয়াদ বিমানবন্দরে পৌঁছে স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন, পরবর্তী ফ্লাইটে জেদ্দায় যাবেন। সেখানে পৌঁছে আবার ফোন দেবেন। স্বামীর সেই ফোনের অপেক্ষায় ছিলেন কাকলী। কিন্তু ফোন আর আসেনি। কফিন বন্ধি হয়ে আসে স্বামীর লাশ।
শুক্রবার সাহেদের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। যে মানুষটি পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে বিদেশে গিয়েছিলেন, তার এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাহেদের মৃত্যু হয়। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথেই প্রাণ হারান তিনি। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটির ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী কাকলী।
শুক্রবার সকালে ঢাকায় সাহেদের লাশ গ্রহণের সময় পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। তার বকেয়া বেতন, ভাতা ও চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা বাবদ প্রায় নয় লাখ টাকা বাংলাদেশ দূতাবাসে জমা দিয়েছে নিয়োগকারি প্রতিষ্ঠান। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই সাপেক্ষে অতিরিক্ত আর্থিক ও বিমা সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার।
বাদ আসর সাহেদের জানাজায় অংশ নেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া পৌর মেয়র এম আর ইসলাম স্বাধীন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমানসহ আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে দাদা-দাদির কবরের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।