সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেই শুরু হয় হর্নের প্রতিযোগিতা। বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিকট শব্দে ছেয়ে যায় ময়মনসিংহ নগরী। যানজটের মধ্যে অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো, নির্মাণকাজ ও উচ্চ শব্দে মাইক বাজানোর কারণে নগরবাসীর স্বস্তি ক্রমেই কমছে। গবেষণায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে শব্দের মাত্রা ১০৬ ডেসিবল পর্যন্ত পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। পুরোনো গবেষণাতেও নগরীর বাসস্ট্যান্ড, বাজার, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে উচ্চ শব্দের চিত্র পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অধ্যাপক ড. মুরাদ আহমেদ ফারুখ সম্প্রতি একটি গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন, নগরীর কাঁচিঝুলি, নতুন বাজার, চরপাড়া, মাসকান্দা, পাটগুদাম ও তাজমহল পয়েন্টে শব্দের মাত্রা ৭৮ থেকে ১০৬ ডেসিবল পর্যন্ত। এর আগে ২০২২ সালে অধ্যাপক ফারুখের এক গবেষণার বিস্তর তথ্য পাওয়া যায় শব্দদূষণ নিয়ে। গবেষণাটিতে ২০২১ সালের ৬ থেকে ১৪ মার্চ নগরীর ২৬টি স্থানে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় শব্দ পরিমাপ করা হয়। গবেষণায় বাণিজ্যিক, আবাসিক ও সংবেদনশীল এলাকা যেমন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
গবেষণায় টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সকালে শব্দের মাত্রা ছিল ৬৮ দশমিক ৫ ডেসিবল, দুপুরে ৯৩ দশমিক ৩ এবং সন্ধ্যায় ৮৩ দশমিক ৭ ডেসিবল। নতুন বাজারে যথাক্রমে ৮২ দশমিক ৬, ৯০ দশমিক ৬ ও ৮৫ দশমিক ২ ডেসিবল পাওয়া যায়। নওমহলে সকালে ৭৪ দশমিক ৯, দুপুরে ৯০ দশমিক ৫ এবং সন্ধ্যায় ৭৮ দশমিক ১ ডেসিবল ছিল শব্দের মাত্রা। চরপাড়া বাসস্ট্যান্ডে সকালে ৮৩, দুপুরে ৮৩ দশমিক ৩ এবং সন্ধ্যায় ৮৯ দশমিক ৫ ডেসিবল শব্দ রেকর্ড করা হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় সকালে ৭৭ দশমিক ২, দুপুরে ৮২ দশমিক ৫ এবং সন্ধ্যায় ৮৭ দশমিক ৩ ডেসিবল পাওয়া যায়। মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডে সকালে ৭২ দশমিক ২, দুপুরে ৮৫ দশমিক ৫ এবং সন্ধ্যায় ৮৫ দশমিক ৩ ডেসিবল ছিল শব্দের মাত্রা।
গবেষণায় কাঁচিঝুলি এলাকায় সকালে ৮৩ দশমিক ৭, দুপুরে ৮৭ দশমিক ৪ ও সন্ধ্যায় ৮২ ডেসিবল; গাঙ্গিনারপাড়ে যথাক্রমে ৭৯ দশমিক ২, ৭৫ দশমিক ৭ ও ৮১ দশমিক ৫ ডেসিবল পাওয়া যায়। টাউন হল এলাকায় সকালে ৭৬, দুপুরে ৮২ দশমিক ১ এবং সন্ধ্যায় ৮৬ দশমিক ৮ ডেসিবল ছিল শব্দের মাত্রা। জিরো পয়েন্টে সকালে ৭৪ দশমিক ৯, দুপুরে ৮৮ দশমিক ৭ ও সন্ধ্যায় ৮৮ দশমিক ৬ ডেসিবল রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত শান্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে সকালে শব্দের মাত্রা ছিল ৪৪ দশমিক ৯ ডেসিবল, দুপুরে ৪৯ দশমিক ৯ এবং সন্ধ্যায় ৪৯ দশমিক ৮ ডেসিবল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় সকালে ৪৭ দশমিক ২, দুপুরে ৪৯ দশমিক ১ ও সন্ধ্যায় ৬৬ দশমিক ৬ ডেসিবল পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা যায়, যানবাহনের চাপ, মানুষের সমাগম ও হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বেশি এমন এলাকাগুলোতে শব্দের মাত্রাও বেশি। অধ্যাপক ফারুখের মতে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো বন্ধ এবং অন্যের শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। চালকদের আচরণ ও নৈতিকতার পরিবর্তন শব্দদূষণ কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।