Image description

দীর্ঘসময় আকাশ পথে যাত্রা। ক্লান্ত শরীর ও চোখে-মুখে আনন্দ নিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখেন প্রবাসী ও নিয়মিত যাত্রীরা। তখন বিমানবন্দরে নেমে লাগেজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা যাত্রীদের কাছে অন্যতম বিরক্তিকর সময় হয়ে ওঠে। প্রবাসী কর্মী, বয়স্ক যাত্রী, নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এ অপেক্ষা শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তিকে বাড়িয়ে দেয়। তবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ফলে যাত্রীরা এখন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও ভোগান্তির তুলনায় এ পরিবর্তনকে ইতিবাচক দেখছেন সাধারণ যাত্রীরা। কিন্তু লাগেজ দ্রুত হাতে পেলেই একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব সেবা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে যায় না। বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, যাত্রীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ, তথ্য সরবরাহ, চলাচলের সুবিধা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে যাত্রীদের আকাক্সক্ষা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীবেশে তিন যাত্রীর লাগেজ চুরির ঘটনায় জসিম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। চাঁদপুরের কচুয়া থেকে তাকে গ্রেফতারের পাশাপাশি চুরি হওয়া তিনটি লাগেজও উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার (অপারেশন্স) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান এ তথ্য জানান। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীসেবার মান বাড়ানো এবং লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে লাইভ ব্যাগেজ মনিটরিং কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যাত্রীরা লাগেজ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন।

একাধিক যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মান আধুনিক ভবন, উন্নত টার্মিনাল, দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের পাশাপাশি যাত্রীরা বিমানবন্দরে প্রবেশের পর থেকে উড়োজাহাজে ওঠা পর্যন্ত নির্ভর করে। বিদেশ থেকে ফিরে লাগেজ হাতে নিয়ে বের হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কতটা স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা ও সম্মান পান তার ওপরই নির্ভর করে বিমানবন্দরের সুনাম। সেই দিক থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আরো আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, জনবল, প্রযুক্তি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনাগত দক্ষতার সমন্বয় ঘটানো গেলে সেবার মান উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। সরকার চাইলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করলে এ বিমানবন্দরকে আরো সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও যাত্রীবান্ধব করে গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এ জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং অগ্রগতি যাচাইয়ের ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কোনোভাবেই অবহেলার সুযোগ নেই। যাত্রীদের শারীরিক নিরাপত্তা, লাগেজের সুরক্ষা, প্রবেশ ও বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্তকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা সবকিছুই বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তার মান নিয়ে যাত্রীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে দৃশ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি কার্যকর নজরদারি, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি, পরিকল্পনা এবং কর্মীদের দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিন দেখা গেছে, নানা বিশৃঙ্খলা দেখা যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরের মেইন গেট দিয়ে তল্লাশি ছাড়াই যানবাহন ও জনসাধারণের প্রবেশ। বহির্গমনের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে পার হয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ করছেন। বিমানবন্দরের কার পার্কিং থাকলেও বহির্গমনের রাস্তা দখল করে রেখেছে সিএনজি ও অন্য গাড়ির চালকরা। টাকা নিয়ে বাইরের গাড়িকে পার্কিং ব্যবস্থা করা হয়। ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা থাকলেও ঘুরে বেড়াচ্ছে ভিক্ষুক। ফল, লেবুর ও ঝাল মুড়ি, সিগারেট বিক্রি করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২-এর বহির্গমন পথ এলাকায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়। মানুষের জটলা। বিদেশগামী যাত্রীরা ও তাদের স্বজনরা সেখানে ভিড় করেন। একই অবস্থা নিচতলার টার্মিনাল-১ ও ২-এর।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে আটটি লাগেজ বেল্ট এলাকায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ৬৫ ইঞ্চি আকারের ১৮টি মনিটর স্থাপন করা হয়। নতুন এ ব্যবস্থায় উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, পরিবহন ও বাছাই থেকে শুরু করে লাগেজ বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপের কার্যক্রম সরাসরি দেখতে পারবেন যাত্রীরা। যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, লাগেজের নিরাপত্তা জোরদার এবং লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, নির্ধারিত স্থানে পরিবহন, বাছাই এবং লাগেজ বেল্টে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া স্থাপিত মনিটরে দেখা যাবে। এ উদ্যোগের ফলে যাত্রীরা লাগেজ পরিবহনের কার্যক্রম সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা পাবেন। একই সঙ্গে লাগেজ সংগ্রহের বিভিন্ন ধাপে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি বাড়বে। প্রবাসীসহ দেশি-বিদেশি সব যাত্রী যাতে ভ্রমণ শেষে নির্বিঘেœ ও নিশ্চিন্তে লাগেজ সংগ্রহ করতে পারেন সে লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর ও যাত্রীবান্ধব সেবার সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। লাগেজ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগ দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে বেবিচক।

ইতালি প্রবাসী উজ্জল হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, দেশের প্রধান বিমানবন্দর এটি। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি যাত্রী, প্রবাসী বাংলাদেশি, বিদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী, কূটনীতিক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ এ বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। বিমানবন্দরের সেবার মানের সঙ্গে দেশের ভাবমর্যাদা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পর্যটনশিল্প এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়গুলোও জড়িত। কিন্তু বিমানবন্দরে আসার পর থেকে নানা অব্যবস্থাপনা দেখে পুরো যাত্রার আনন্দ ও স্বস্তি অনেকটাই মøান হয়ে যায়। এখন অল্প সময়ের মধ্যে লাগেজ পাওয়া যায় এটা ভালো উদ্যোগ। তবে লাগেজ নিয়ে বের হওয়ার সময় আবার কয়েকজন দাঁড় করিয়ে পুনরায় চেক করা হয় এসব লাগেজে কি আছে? কতটুকু আছে? এসব নানা প্রশ্ন করে বিরক্ত করা হয়। এটা খুবই বিব্রতকর।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানযাত্রা অনেকের কাছে দ্রুত ও আরামদায়ক যোগাযোগের মাধ্যম হলেও দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর হতে পারে। অনেক সময় উড়োজাহাজে বসে থাকার পর যাত্রীদের অনেকেই ক্লান্তি, ঘুমের ঘাটতি এবং শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন। এ অবস্থায় বিমানবন্দরে নেমে আবার দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা তাদের জন্য বাড়তি কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা কিংবা এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে ফেরা অনেক কর্মী দীর্ঘ সময় কাজ করার পর ছুটি নিয়ে দেশে আসেন। তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা, ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিংবা একাধিক ব্যাগ থাকে। একইভাবে বয়স্ক যাত্রী, ছোট শিশু নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবার এবং চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য লাগেজ সংগ্রহের ব্যবস্থা সহজ হওয়া জরুরি। দ্রুত লাগেজ সরবরাহ এ ক্ষেত্রে স্বস্তি দিতে পারে। তবে শুধু লাগেজ দ্রুত পৌঁছানোই যথেষ্ট নয় বসার জায়গা, সহজে বোঝা যায় এমন নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় সহায়তাকর্মী এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব চলাচলের ব্যবস্থা থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবাদাতা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবে বাধাগ্রস্ত হলে তার প্রভাব যাত্রীর ওপরই পড়ে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. হাদিউজ্জামান ইনকিলাবকে বলেন, বিমানবন্দরে লাগেজ দ্রুত পাওয়া যাত্রীদের জন্য সুবিধা হলেও অন্যান্য সেবার মান নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরো পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ থাকা উচিত। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মান নির্ধারিত হয় একাধিক বিষয়ের সমন্বয়ে। এর মধ্যে রয়েছে পরিচ্ছন্নতা, টার্মিনালের ভেতরে চলাচলের সুবিধা, যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গা, শৌচাগারের মান, তথ্যকেন্দ্রের কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, অভিবাসন প্রক্রিয়ার দক্ষতা, লাগেজ সরবরাহ, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং কর্মীদের পেশাদার আচরণ। প্রতিটি ধাপে সেবা ভালো হলে বিমানবন্দরের প্রতি আস্থা বাড়ে। এ কারণেই শুধু একটি ক্ষেত্রে উন্নতি করলেই সার্বিক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা যায় না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নত বিমানবন্দরগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। আগমন এলাকায় যাত্রীদের চলাচল, শুল্কসংক্রান্ত কার্যক্রম এবং বাইরে যাওয়ার পথ এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় জট তৈরি না হয়। একইভাবে প্রস্থান এলাকায় প্রবেশ, চেক-ইন, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বোর্ডিংয়ের প্রক্রিয়াও সুশৃঙ্খল হওয়া প্রয়োজন।

সিঙ্গাপুর প্রবাসী যাত্রী আমিনুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে দেশে এসে বিমানবন্দরে ভালো কিছু আশা করি। কিন্তু অন্য দেশের তুলনায় আমাদের বিমানবন্দর যেন অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা মনে হয়। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের মধ্যে সবসময়ই একটি আতঙ্ক থাকে বছরের পর বছর কাজ করে টাকা জমিয়ে প্রিয়জনের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে আসি। কিন্তু আমার সেই প্রিয়জনের আকাক্সিক্ষত জিনিসপত্র নিজ দেশের বিমানবন্দরে এসে হারিয়ে যায়। এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর। বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে গন্তব্যের উদ্দেশে বের হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যাত্রীরা যেন নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সেবা পান। এ প্রত্যাশা পূরণ করা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের পাশাপাশি দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমর্যাদা রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না মাঠ পর্যায়ে সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বড় পরীক্ষা। বেবিচকের তদারকি বাড়ানো, স্ক্যানারগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিমানবন্দর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আলাদা করার জোর দেন তিনি। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে কাগজে-কলমে থাকা প্রটোকলের চেয়ে মাঠ পর্যায়ে বাস্তব প্রয়োগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দরের কর্মীদের অনিয়ম নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা উন্নতি হয়েছে। ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাচ্ছেন যাত্রীরা। সেবার মান নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। তবে এ মান ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনাগুলো ধীরে ধীরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় দুই মাস আগে যাত্রীদের জন্য লাইভ ব্যাগেজ মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। এখন তা বাস্তবায়িত হয়েছে। যাত্রীরা লাইভ ব্যাগেজ মনিটরিং কার্যক্রমে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিমানবন্দরে ভোগান্তি কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।