Image description

গত ১২ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত নবনির্মিত মন্দিরের সামনে একটি বিভাগের স্নাতক ফাইনাল বর্ষের শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে গরুর মাংস রান্নাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। গরুর মাংস রান্না করায় সনাতন ধর্মাবলম্বী কিছু শিক্ষার্থী এটিকে ‘ধর্ম অবমাননা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রতিবাদ জানান। সেই প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে নোটিশ জারি করলে এর প্রতিক্রিয়ায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের একাংশ গরু জবাইয়ের ঘোষণা দেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরে দুঃখ প্রকাশ করে পশু জবাইয়ের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তীতে গত ১৬ ও ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে গরু জবাই করে ভোজের আয়োজন করা হয়। দূর্গা পূজার কাছাকাছি সময়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ধরণের উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় তা নিয়ে দেশে ও বিদেশে নানা ধরণের আলোচনার সূত্রপাত হয়। দ্য ডিসেন্ট এই ঘটনার আদ্যপান্ত জানার চেষ্টা করেছে।

 

ঘটনার শুরু যেভাবে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত মন্দিরের সামনে ৯/১০ জন শিক্ষার্থী স্লোগান দিচ্ছেন: “অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “মৌলবাদের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “মৌলবাদের কালো হাত ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও”।

ওই শিক্ষার্থীদের থেকে বেশ খানিকটা দূরে মুক্তমঞ্চ বরাবর সামনে আরেকদল শিক্ষার্থী চুলা জ্বালিয়ে রান্নাবান্না করছেন।

স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী। আর রান্নার সাথে যুক্ত শিক্ষার্থীরা ছিলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭ তম আবর্তনের স্নাতক ফাইনাল বর্ষের শিক্ষার্থীরা। ওইদিন চতুর্থ বর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে খিচুড়িভোজের আয়োজন করেন তারা। ওই খিচুড়ি গরুর মাংস দিয়ে রান্না করা হচ্ছিল। এ ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নতুন নয় বলে জানা গেছে।

সনাতন ধর্মালম্বী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মন্দিরের সামনে ও ‘মন্দিরের ইট’ ব্যবহার করে গরু দিয়ে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করে মুসলিম শিক্ষার্থীরা ধর্ম অবমাননা করেছেন।

দ্য ডিসেন্ট এ ব্যাপারে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদেরই সাথে কথা বলেছে।

খিচুড়ি রান্নার আয়োজকদের একজন ছিলেন কামরুজ্জামান কায়েস। তিনি ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমরা প্রথম মুক্তমঞ্চের কোনায় চুলা বানিয়ে জাস্ট আগুন ধরিয়েছি। ওই জায়গাটা বারবিকিউ পার্টি আয়োজনের জনপ্রিয় একটা স্পট। রান্নাও শুরু হয় নাই তখনো। একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী সিনিয়র ভাই আসলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কী করো। আমরা বললাম খিচুড়ি রান্না করি। উনি জিজ্ঞেস করলেন কিসের মাংস দিয়ে রান্না করছি। বললাম গরুর মাংস। তখন দেখলাম যে উনি একটু অস্বস্তি প্রকাশের মত এক্সপ্রেশন দিলেন। তখন আমরাই জিজ্ঞেস করলাম ভাই, গরু রান্না করায় কি আপনাদের সমস্যা হবে? উনি বললেন মন্দিরের কাছে গরু রান্না না করলে ভালো হইতো। উনি আর কিছু বলেননি। আমরা তখন উনাকে ‘সরি’ বলে ওখান থেকে চুলা সরিয়ে আরেকটু দূরে নিয়ে গেলাম। তখন দেখলাম হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করলো। তারা কিছু বলেনি। জয় সাহা এসে বললো আমরা মন্দিরের ইট দিয়ে রান্না করতেসি। তখন আমরা চুলা ভেঙে দিয়ে একটা লোহার চুলা নিয়ে আসলাম। তখন কেবল মাংস কষাইছি। এরপর আরো দূরে চলে গেলাম আমরা চুলা নিয়ে। ভলিবল কোর্টের ওখানে গিয়ে রান্না শুরু করলাম। আমরা বললাম যে, আমরা জানতাম না এগুলা মন্দিরের ইট। সহকারী প্রক্টর ফেরদৌস স্যার এসে বললেন, ‘তোমরা মন্দিরের ইট দিয়ে রান্না করছো, তোমরা তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করো।’ আমরা তাদের কাছে সাথে সাথে ‘সরি’ বললাম। কিন্তু জয় সাহা বললো, ‘সরি’ বললে হবে না। ইচ্ছা করেই নাকি আমরা মন্দিরের ইট দিয়ে রান্না করেছি। এখানে নাকি ষড়যন্ত্র আছে। তারপর জয় সাহা সেখানে আসা অন্যদের নিয়ে মিছিল করলো।”

খিচুড়ি রান্নার প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মন্দির কমিটির আহ্বায়ক অজয় পাল ও মন্দির কমিটির সদস্য সচিব জয় সাহার সাথে কথা বলেছে দ্য ডিসেন্ট।

জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনাটিকে ভুল ‘বোঝাবুঝি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “এটা ভুল বোঝাবুঝি হইছে। প্রশাসন দুই পক্ষকে নিয়ে বসছে। বসে এটা সলভ হয়ে গেছে।”

যে শিক্ষার্থীরা রান্না করছিলো তাদের ধর্ম অবমাননার উদ্দেশ্য ছিলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তাদের ইনটেনশন ছিলো কিনা তা জানিনা।”

আর কোন কথা বলতে রাজি হননি জয় সাহা।

তবে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জয় সাহা বলেছেন, "মাংস দেখে মনে হলো এটা মুরগি না; হয় খাসি বা গরু। পরে একজন বললো, গরু। যেহেতু মন্দিরের সামনে, আমাদের একটু হলেও খারাপ লাগছে। আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগছে। আমরা তাদের সরায়ে নিতে বলি।"

"তাদের কেউ কেউ বললো, আপনারা মন্দিরের সীমানা নির্ধারণ করে দেন। ওরা উত্তেজিত হওয়ার মতো কথা বলেছিল, এক প্রকার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছিলো আমাদেরকে। আমরাও আট-দশজন ছিলাম, উত্তেজিত হলাম। এর মাঝে প্রক্টর স্যার আসেন এবং পরে ওরা প্রায় দশ হাত দূরে যায়," বলছিলেন মি. সাহা।

মন্দির কমিটির আহ্বায়ক অজয় পাল ঘটনার বর্ণনা দিয়ে দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “তারা রান্নাটা শুরু করেছে মন্দির থেকে কোনাকোনি ১০ হাত সামনে। আমরা আপত্তি করার পর তারা আরও ৫/৭ হাত দূরে নিয়েছে। ওইটা নিয়েও সমস্যা ছিল। ঠিক আছে ক্যাম্পাস ছোট, কিন্তু রান্নার তো অন্যান্য জায়গাও ছিল। সহকারী প্রক্টর বললো, ‘সরি’ বলতে। পরে উনারা ‘সরি’ বলেছেন, কিন্তু ‘সরি’তে তো শেষ হয়ে যায় না।”

‘সরি’ বলার পরও বিষয়টা সমাধান হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবকিছু তো ‘সরি’ বললে হয় না। এটা একটা ধর্মীয় বিষয়। উনারা কার অনুমতি নিয়ে এটা করলো? হিট অব দ্য মোমেন্টে আমাদের মনে হইলো যে প্রতিবাদ করা দরকার। তাই আমরা প্রতিবাদ করেছি।”

সহকারী প্রক্টর ফেরদৌস দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমার মনে হয়নি ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষার্থীদের ধর্ম অবমাননার উদ্দেশ্য ছিল। তবে তাদের ওখানে যাওয়াটা ভুল হয়েছে। আমি তাদেরকে ওখান থেকে সরিয়ে দিয়েছি এবং তাদেরকে বলেছি ওখানে যাওয়াটা তোমাদের ভুল হয়েছে, তোমরা ওদের কাছে ‘সরি’ বলো। তারা ‘সরি’ বলেছে। ‘সরি’ বলার পর তো আর কিছু থাকে না। কিন্তু সনাতন শিক্ষার্থীদের দু-একজন স্লোগান ধরলো।”

বিষয়টা অনলাইনে আসাতেই মূল সমস্যা হয়েছে বলে মনে করেন সহকারী প্রক্টর। তিনি বলেন, “সরি বলার পর আর স্লোগান দেওয়ার দরকার ছিলো না। তারপরও বিষয়টা ওখানে শেষ হয়ে গিয়েছিল। তারা উভয়পক্ষ আর কোন বিরোধে জড়ায়নি। কিন্তু যখন ভিডিওটা অনলাইনে আসলো তখনই দু‘পক্ষে পাল্টাপাল্টি শুরু হলো এবং পরবর্তী ঘটনাগুলো ঘটলো।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আজম খান বলেন, “পুরা ঘটনা আমি পর্যবেক্ষণ করেছি। ওই শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ ইনোসেন্ট। তাদের এই ধরণের কোন উদ্দেশ্য ছিলো না যে, মন্দিরের সামনে গরু খাবে। তারা যেখানে রান্না করছিল সেটা মন্দির থেকে বেশ খানিকটা দূরে। তাও ২০/২৫ হাত তো হবেই। পরে তাদেরকে বাধা দেওয়ায় তারা আরও দূরে চলে যায়। আমাদের একজন সহকারী প্রক্টর গিয়ে তাদেরকে বললে তারা দুঃখ প্রকাশ করে এবং দূরে সরে যায়।”

প্রক্টর আরও বলেন, “এখানে মূল সমস্যা তৈরি করেছে কয়েকজন হিন্দু শিক্ষার্থীর স্লোগান। সমাধান হওয়ার পরও তারা স্লোগান দিয়েছে মৌলবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না। এতে মুসলিম শিক্ষার্থীরা ক্ষেপে যায়।”

গরু জবাইয়ের বিষয়ে বলেন, “আমরা যখন উত্তেজনা দেখলাম তখন নড়েচড়ে বসলাম এবং নোটিশ দিলাম যে, ক্যাম্পাসে গরু জবাই করা যাবে না। এটা ছিল সাময়িক একটা ব্যাপার। এতে শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। পরে আমরা বললাম গরু জবাই করা যাবে কিন্তু মন্দির থেকে দূরে করতে হবে।”

প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ও জকসুর উদ্যোগে গরু জবাই

সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের স্লোগান দেওয়ার ভিডিওটি অনলাইনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়টির মুসলিম শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে, নিজেদের আইডি ও কয়েকটি পেইজে তর্কবিতর্ক শুরু করেন। সনাতন শিক্ষার্থীদের স্লোগানকে ‘বাড়াবাড়ি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ক্যাম্পাসে গরু জবাইয়ের আহ্বান জানিয়ে প্রচারণা চালাতে থাকেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গরু জবাই হতে পারে আভাস পেয়ে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার জন্য ১৪ অক্টোবর একটি বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রশাসন। ওই বিজ্ঞপ্তিকে ‘গুরু জবাইয়ের ধর্মীয় অধিকারের উপর আঘাত’ আখ্যা দিয়ে গরু জবাইয়ের আহ্বান আরও জোরদার হয় অনলাইনে। বিভিন্ন পেইজ থেকে গরু জবাইয়ের জন্য ফান্ড কালেকশনও শুরু হয়। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতারা এবং ছাত্রসংসদ জকসুর নেতারা (যারা ছাত্রশিবিরেরও নেতা) প্রশাসনের নোটিশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গরু জবাইয়ের উদ্যোগকে সমর্থন জানান এবং তাদের অনেকে গরু নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। যেসব ছাত্রসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের গরু জবাইয়ের উদ্যোগে সক্রিয় দেখা গেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, ছাত্র অধিকার, গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি এবং ছাত্রদল নেতাকর্মীদের একাংশ।

পরবর্তীতে ১৪ অক্টোবরই আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুঃখ প্রকাশ করে পূর্ববর্তী নোটিশটি প্রত্যাহার করে জানায় পশু জবাইয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন বাধা নেই।

প্রশাসনের দুঃখ প্রকাশের পরও গরু জবাই কর্মসূচী স্থগিত করা হয়নি। ১৬ অক্টোবর শুক্রবার গরু জবাইয়ের বিষয়ে অনড় থাকেন আয়োজকরা। ফান্ড কালেকশন থেকে শুরু করে, গরু ক্রয় ও ভোজের আয়োজনে সক্রিয় থাকতে দেখা যায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচিত জকসুর নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, খেলাফত ছাত্র মজলিসের নেতাদের।

গরু কেনার জন্য ফান্ড কালেকশনে বিভিন্ন পেইজে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখের ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে। 

এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার ব্যাপারে ফেরদৌসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখানে আমাদের সমর্থন ছিলো প্রশাসনের স্টেটমেন্টের কারণে। তারা কেন নোটিশ দিলো পশু জবাই করা যাবে না। হিন্দু শিক্ষার্থীদের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার জন্য আমাদের সমর্থন ছিলো না। পরবর্তীতে যে খেলাফত মজলিস আবার আয়োজন করেছে সেখানে আমাদের সমর্থন ছিলো না। তারা সেটা আমাদের সাথে আলাপ করে করেনি।”

প্রশাসন নোটিশ প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ করার পরও কেন কর্মসূচী স্থগিত করা হল না- এমন প্রশ্নের জবাবে ফেরদৌস বলেন, “প্রশাসন অনেক দেরিতে দুঃখপ্রকাশ করেছে। ততক্ষণে আমাদের ফান্ড কালেক্ট করা শেষ। তখন আর ওখান থেকে ফিরে আসার সুযোগ ছিলো না। এজন্যই আমরা প্রশাসনের সাথে বসে আলাপ-আলোচনা করে বৃহস্পতিবারের পোগ্রাম শুক্রবারের নিয়ে যাই।”

গরু কিনে এনে গরু মিছিলে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় জকসুর এজিএস মাসুদ রানা ও দুই সদস্য আকিব এবং ফারুককে। 

মাসুদ রানা দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “পুরা ঘটনায় আগুনে ঘি ঢেলেছে প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি। ক্যাম্পাসে কোরবানির সময় ২০/৩০ টা গরু জবাই করা হয় এবং শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মাঝে বিলানো হয়। এ নোটিশের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমাদের কথা হলো, ক্যাম্পাসে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, গরু জবাই হবে, পূজাও হবে। আর পুরা ব্যাপারটার জন্য ক্যাম্পাসের কিছু উগ্রবাদী হিন্দু শিক্ষার্থীও দায়ী। তারা বেহুদা এখানে সাম্প্রদায়িক ইস্যু টেনে নিয়ে এসেছে এবং শিক্ষার্থীদের ‘মৌলবাদী’ আখ্যা দিয়ে বিষয়টাকে বড় করেছে। শিক্ষার্থীরা যেখানে পিকনিক করছিল সেটা মন্দির থেকে দূরে। তারা স্লোগান দিল ‘মৌলবাদের ঠিকানা ক্যাম্পাসে হবে না’।”

প্রশাসন অবস্থান পরিবর্তনের পরও কেন গরু জবাই করা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ বলেন, “প্রশাসন যখন দুঃখ প্রকাশ করেছে তখন অলরেডি প্রচুর মানুষ আমাদের গরু কেনার ফান্ড দিয়েছে। ফান্ড কালেক্ট করা শেষ।”

এটা একটা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ছিলো কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কেউ যদি মনে করে এটা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সেটা তাদের সমস্যা। এখানে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশ নিয়েছে। এখানে কোন রাজনৈতিক বিষয় ছিল না।”

জকসুর গঠনতন্ত্রের কার্যাবলী অংশের ১০ উপধারায় বলা হয়েছে, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য গড়া ছাত্র সংসদের অন্যতম দায়িত্ব”।

জকসুর এজিএসের কাছে জানতে চাওয়া হয়, যেখানে জকসুর দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি গড়া সেখানে আপনাদের কর্মসূচী উল্টো সম্প্রীতিকে নষ্ট করলো কিনা?

জবাবে এজিএস মাসুদ বলেন, “এখানে সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার কিছু নাই। সম্প্রীতির জন্যই ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। সবাই সবার ধর্ম অনুযায়ী আয়োজন করবে এতে সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার কিছু নাই।”

আয়োজনটি জকসুর নেতৃত্বে হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, “এখানে সব ধরণের শিক্ষার্থীরা ছিল। জকসুর কোন আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই। আমরা শিক্ষার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছি। জকসু নেতা হিসেবে নয়।”

১৬ অক্টোবর শুক্রবার গরু জবাইয়ের পর পরদিন ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস আলাদাভাবে আরেকটি গরু জবাই করে ক্যাম্পাসে ভোজের আয়োজন করে।

এদিকে গরু জবাই কর্মসূচির বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে অবস্থান নেয় ছাত্রদল এবং বামপন্থী বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বিষয়টিকে ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির ১৭ অক্টোবর এক বক্তব্যে বলেন, “আপনারা সকলেই জানেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে দু:খজনক ঘটনা ঘটছে এবং সেটি নিয়ে বারবার বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা সেটি নতুন করে আমাদেরকে জাগ্রত করছে। এখানে ঢাকার সবথেকে বেশি মন্দির এখানে রয়েছে। সেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরের লাকড়ি ব্যবহার করে, ইট ব্যবহার করে  একদল উগ্রপন্থী শিক্ষার্থী সেখানে গরুর মাংস রান্না করেছে। কিন্তু এ নিয়ে তারা দু:খপ্রকাশ করেনি। বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি প্রজ্ঞাপন দিয়েছে, সেই প্রজ্ঞাপনের বিরোধিতা করে তারা নিজেদের উগ্র সাম্প্রদায়িক শিক্ষার্থী হিসেব জাহির করার অপচেষ্টা করছে। আপরা পার্শ্ববর্তী দেশে দেখেছেন তারা বিজেপি আরএসএস  কিভাবে গরু নিয়ে বছরের পর রাজনীতি করছে। সেই সংকটটি তারা আমাদের দেশে নিয়ে আসার অপচেষ্টা করছে।”

তবে জবি ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে পশু জবাই করতে নিষেধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া প্রজ্ঞাপনের বিরোধিতা ও গরু জবাইকে সমর্থন করতে দেখা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুপন্তি রতনা লিখেছেন, “কার/কাদের এতো জ্বালা? ২টা ইট নিয়ে এতো কাহিনি। জগন্নাথে যে পূজা হয় সেখানে মুসলামন শিক্ষার্থীরা সকল ক্ষেত্রে কন্ট্রিবিউশান রেখে সুন্দর একটা সম্প্রতির বন্ধন তৈরী করে রেখেছে এ যাবৎকাল। আর হঠাৎ এই উগ্রবাদের জনক আসলে কারা? সহজভাবে ভাবুন, চিন্তার পরিবর্তন করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সব হবে, সব ধর্মের মুক্ত চিন্তার বিকাশ ঘটবে বলেই এটা বিশ্ববিদ্যালয়।“

রিপাবলিক বাংলার একটি খবর শেয়ার দিয়ে তিনি আরেকটি পোস্টে লিখেছেন, “তিল কষিয়ে, মাখিয়ে রমরমা করে ফেলেছে। কি একটা অবস্থা! ইস্যু হবার মতো কোন বিষয়ই না অথচ দেশ থেকে দেশান্তরে পৌঁছে যাচ্ছে। তা তোমরা গোমাংস না খেয়ে গোমুত্র খেলে কিন্তু আবার তারা খুশিই হতো।”

জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ইমরান হাসান ইমন ফেসবুকে লিখেছেন, “কোনো মানবিক ব্যক্তি যদি একবাটি গরুর গোশত দিতেন উপকার হইতো, বাসায় একটু অসুস্থ অবস্থায় আছি। খাওয়ার কুসুম কুসুম ইচ্ছে হচ্ছে।”

প্রশাসনের দেওয়া নোটিশের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন লিখেছেন, “বাফুরেএএএএএ এটা বাংলাআআদেশ এটা গুজরাআআআট নয়!

শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে পশু জবাই হবে না এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে কাদের খুশি করছেন। সামান্য কয়েকটা উগ্র ছেলের জন্য এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে কি ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ করে দিয়েছেন?”

এছাড়া্ও আরও বেশ কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গরু জবাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখেছে দ্য ডিসেন্ট। 

জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেলের কাছে ছাত্রদলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যেহেতু আমরা এই মুসলিম দেশ, বাংলাদেশে অবশ্য মুসলিমদেরও ধর্ম স্বাধীন ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা অবশ্যই ক্যাম্পাসের প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীদের উভয় পক্ষেরই দায়িত্বশীল আচরণ হওয়া উচিত। তবে দুর্গা পূজার পূর্ববর্তী সময়ে বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে অন্যদিকে ডাইভার্ট করার জন্য কোনো রাজনৈতিক মহলের এজেন্ডা ছিল কিনা প্রশাসন এটা খতিয়ে দেখবে।”

তিনি আরও বলেন, “সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বলেছিলাম যে, ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের জন্য সম্প্রীতি ভোজের আয়োজন করার জন্য। সেখানে আমাদের ক্যাফেটেরিয়ায়, গরু, খাসি বা মুরগি, যেটাই হোক, ওই যে হিন্দু ভাইয়ারা খাসি খাবে, আমরা গরু খাবো। কিন্তু পরবর্তীতে একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন আমরা দেখেছি, এটা উল্টোভাবে উপস্থাপন করে, উল্টোভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।”

মন্দির নিয়ে বিতর্ক

মন্দিরের ইট দিয়ে রান্না করার বিষয়ে হিন্দু শিক্ষার্থীদের আপত্তির বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক ওঠে খোদ মন্দিরটি নিয়েই। অনেকে দাবি করেন, আলোচ্য মন্দিরটি সম্প্রতি তৈরি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৌচাগার নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে এবং শৌচাগার নির্মাণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনা নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে।

এ ব্যাপারে মন্দির কমিটির আহ্বায়ক অজয় পালের কাছে জানতে চাইলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “মন্দির নির্মাণের কনটেক্সটটা আগে বুঝতে হবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে মন্দির নির্মাণের দাবি করে আসছিলাম। প্রথমে আমাদের প্রস্তাবনা ছিল ম্যাথ ডিপার্টমেন্টের ওখানে শিক্ষক-কর্মচারীদের ভবনের সাথে। কিন্তু প্রশাসন সেটা দেয়নি। সেকেন্ড প্রস্তাবনা ছিল ক্যাফেটেরিয়ার পাশে। সেটাও দেয়নি। পরে আমরা বলেছিলাম মুক্তমঞ্চের পাশে ওখানে আমাদের জায়গা দিতে। ওখানে ময়লার স্তুপ ছিল তখন। পরে তারা বললো এখানে টয়লেট করা হবে সিটি করপোরশনের উদ্যোগে ও ইন্টারনেট হাব হবে। ওখানে রাতারাতি টয়লেট নির্মাণ শুরু হয়। পরে আমরা প্রতিবাদ জানাই এবং ওখানে মন্দির নির্মাণ শুরু করি।”

অজয় পাল দ্য ডিসেন্টকে জানান, টয়লেট নির্মাণের জন্য যেসব নির্মাণ সামগ্রী আনা হয়েছিল সেগুলো দিয়েই মন্দির নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান তারা। 

তিনি বলেন, “আমরা তাদেরকে বলেছিলাম, তাদের মালামালের দাম কত তা জানাতে আমরা পরিশোধ করে দেব। কিন্তু পরবর্তীতে আর টাকা দেওয়া হয়নি।”

অজয় পাল জানান চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি তারা মন্দিরটি নির্মাণ করেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের চীফ ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমরা প্রথমে ভাষা শহীদ রফিক ভবনের পার্শ্বে শিক্ষার্থীদের জন্য শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে একদল লোকের বাধাদানের কারণে হয়নি। পরবর্তীতে রেজাউল করিম স্যারের সময়ে মুক্তমন্চের দক্ষিণ পাশে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে টয়লেট নির্মাণ কাজ শুরু করি। আমরা ইন্জিনিয়ার দপ্তর প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে ছিলাম। মূল কাজের দায়িত্ব ছিলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। আমরা গ্রেট বিম বসানো পর্যন্ত কাজ করে ফেলেছি, তখন একদল লোক এসে বাধা দিলো। হঠাৎ করেই এক রাতে মন্দির বানায়ে ফেললো। শুধু মন্দিরই বানায় নাই, বানাইছে  তো বানাইছে আবার প্রচার করছে আমরা নাকি মন্দিরের জায়গায় টয়লেট বানাইছি। আমরা তো জানি না যে ওইটা মন্দিরের জায়গা। মন্দিরের জন্য ওই জায়গা কে তাদের বরাদ্দ দিলো আমরা তাও জানি না।”

মন্দিরের স্থান বরাদ্দ নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আজম খান বলেন, “ওখানে মন্দির করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। মন্দির করার জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছিল। আমাদের ক্যাম্পাস ছোট জায়গা। কিন্তু তাদের ওখানেই লাগবে। তারা একরাতে মন্দির করে ফেললো।”

 

আগে থেকেই ওই জায়গায় রান্নাবান্না হয়

যে জায়গায় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা রান্নাবান্নার আয়োজন করেছিলেন সেখানে আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য রান্নাবান্না হয়ে আসেছে– এমনটা জানা গেছে বিভিন্ন পক্ষের সাথে কথা বলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দির কমিটির আহ্বায়ক অজয় পালও জানিয়েছেন ওই এলাকায় আগে থেকেই রান্নাবান্না হতো। কিন্তু তখন মন্দির ছিলো না।

প্রক্টর অধ্যাপক আজম খান বলেন, “ওই এলাকায় শিক্ষার্থীরা সবসময়ই এ ধরণের আয়োজন করে। মন্দির হওয়ার আগ থেকেই করে আসছে। আমাদের তো হল নেই, ওই এলাকার আশেপাশে রান্নাবান্না করে ছেলেমেয়েরা মুক্তমঞ্চে খায়। এর একটা কারণ হলো মুক্তমঞ্চের ওখানে একটা লাইট আছে। ক্যাম্পাসের অন্যান্য জায়গা তো সেভাবে আলোকিত থাকে না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত তিনজন সাংবাদিকও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই ওই এলাকায় পিকনিক ও রান্নাবান্নার আয়োজন করে আসছেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের শাখা সভাপতি ইভান তাহসিব দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছেন ওই এলাকায় আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা রান্নাবান্না ও পিকনিক করেছেন। 

তিনি বলেন, “ওখানে অতীতে এ ধরণের আয়োজন হয়েছে। আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় সেকুলার প্রতিষ্ঠান। এখানে মন্দির-মসজিদ থাকবে কিনা সেই বিতর্ক সমাধান হয়েছে। কিন্তু এখন যেহেতু মন্দির আছে, এখন তো পরিবর্তিত পরিস্থিতি। হিন্দু শিক্ষার্থীরা ওখানে মন্দিরের আবেদন করেছেন। প্রশাসন এই মন্দিরটাকে স্বীকৃতি দেয় কিনা, দিলে সেটার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী, শিক্ষার্থীদের প্রতি নির্দেশনা কী এগুলা স্পষ্ট করা তো প্রশাসনের দায়িত্ব। একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলে সেটার পবিত্রতার বিষয় আছে। প্রশাসন এগুলো স্পষ্ট না করায় এধরণের ঘটনা ঘটতে পারলো।”

তবে গরুভোজের আয়োজনটিকে সাম্প্রদায়িক আচরণ হিসেবে দেখেন এই ছাত্রনেতা। 

তিনি বলেন, “পূজার সময় এরকম ঢাকঢোল পিটিয়ে গরু জবাই করাটা সাম্প্রদায়িক উস্কানি হিসেবেই দেখতে হবে। আমরা এগুলোকে নিন্দা জানাই। প্রশাসন পশু জবাই নিষিদ্ধ বলে নোটিশ দেয় এবং পরবর্তীতে দুঃখ প্রকাশ করে। আইনত যত্রতত্র বাংলাদেশে পশু জবাই নিষিদ্ধ উৎসব ছাড়া। প্রশাসন যদি ক্রিয়াশীল সকল ছাত্রসংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে বসে যদি নোটিশটা দিত তাহলে ভালো হতো। তারা নোটিশটা দিলেন, আবার সেটা তুলে নেওয়ায় সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো সুযোগ পেলো। ইসলামী ছাত্রশিবির, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র শক্তি এর সাথে জড়িত।”