‘আপনাকে তো বিএনপির মধ্যে ছুপা জামাত মনে হইতেছে’ ১৭ অক্টোবর চ্যানেল-ওয়ানের একটি টকশোতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেন সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক হিসেবে টকশো ব্যক্তিত্ব হিসেবে হাজির হওয়া নাহিদ আক্তার।
টকশোর এই ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে আলোচনায় রয়েছেন নাহিদ আক্তার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন নাহিদ আক্তার টকশো আলোচনায় মূলত পতিত আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান নির্মাণ করে চলেছেন। এরই প্রেক্ষিতে বিভিন্ন টকশোতে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা নাহিদ আক্তারের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে বেঙ্গল লেন্স।
বেঙ্গল লেন্সের বিশ্লেষণে দেখা যায় নাহিদ আক্তার মূলত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আওয়ামী পন্থীদের পরিচালিত অনলাইন টকশোগুলোতে আলোচক হিসেবে হাজির হতেন। পরবর্তীতে সাংবাদিক মাসুদ কামাল পরিচালিত ইউটিউব টকশো চ্যানেল ‘অন্য মঞ্চ’ হয়ে মূলধারার টেলিভিশন টকশোতে হাজির হওয়া শুরু করেন।
আওয়ামীপন্থীদের টকশোতে নাহিদ আক্তারের নিয়মিত অংশগ্রহণ
আওয়ামীপন্থী কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাইফুল বাতেন টিটোর ইউটিউব চ্যানেলের Talk With Tito টকশোতে নিয়মিত দেখা যায় নাহিদ আক্তারকে। প্রথম টকশোটি ছিল গত ৩ জুলাই, চ্যানেলটিতে তার আরও টকশো- ১৩ সেপ্টেম্বর (এখানে), ৬ অক্টোবর (এখানে), ৭ অক্টোবর (এখানে), ৮ অক্টোবর (এখানে), ১১ অক্টোবর (এখানে), সর্বশেষ টকশো ১৫ অক্টোবর (এখানে)। ৩ জুলাই থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৩ মাস ১২ দিনে নাহিদ আক্তারের ১৪টি লাইভ টকশো ও ২৪টি ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করা হয় চ্যানেলটি থেকে।
সাইফুল বাতেন টিটো একজন আওয়ামীপন্থী একটিভিস্ট হিসেবে পরিচিত। তিনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একাউন্টে ও ইউটিউব চ্যানেলে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালান। তার চ্যানেলের টকশোতে নিয়মিত হাজির থাকতে দেখা আওয়ামীপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট নিঝুম মজুমদার, স্বাধীন খসরু, শেখ ফরিদ, অরুণা বিশ্বাস, তানভীর হায়দার লিঙ্কন, ফারহানা ইন্দ্রা, শায়লা আহমেদ লোপাসহ আরও অনেককে।
আওয়ামীপন্থী আরেক অনলাইন টকশো সাংবাদিক নিজামুল হক বিপুলের ফেসবুক পেজ BIPUL TALK-এ নিয়মিত অতিথি হিসেবে দেখা যায় নাহিদ আক্তারকে। যেখানে তিনি প্রথম অংশ নেন গত ৬ ফেব্রুয়ারী, তার সঙ্গে অতিথি হিসেবে ছিলেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য রোকেয়া প্রাচী ও আওয়ামী অ্যাক্টিভিস্ট শেখ ফরিদ। প্লাটফর্মটিতে মোট ১০টি টকশোতে অংশে নেন তিনি।
নাহিদের অংশ নেওয়া টকশোগুলো শিরোনাম ছিলো- ৯ মার্চ ‘মব সন্ত্রাস চলছেই’, ১৭ মার্চ ‘আবারও ভর্তি যুদ্ধ নাকি শিবিরের কোচিং বাণিজ্য!’, ৩০ মার্চ ‘এখন কি তাহলে মবের নতুন সংজ্ঞা লিখতে হবে?’, ২৭ মে ‘শিশু মরছে শত শত ইউনূস গেছে প্যারিসে!’, ৩ জুলাই ‘সংক্রমক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে মব’, ১২ আগস্ট “শিবিরের ‘সমকাম' বিশ্ববিদ্যালয় ঢাবি!”, ১৯ আগস্ট “জাতিসংঘের রিপোর্টের পর তৎপর তৌহিদী জনতা!”, ১২ সেপ্টেম্বর “ভীত আসিফ নজরুলঃ ৫ অগাস্ট কোনো বিপ্লব হয়নি!", ৭ অক্টোবর “ডিসেম্বর বহুদূর,এখনই এত তোড়জোড়!”, ১৬ অক্টোবর “সরকারের সাথে ইউনূসের নিরাপত্তার দায়িত্বে বিএনপি?”।
এই টকশোতে নিয়মিত দেখা যায় আওয়ামীপন্থী অ্যাক্টিভিস্টদের। এদের মধ্যে রয়েছেন- রোকেয়া প্রাচী, শায়লা আহমেদ লোপা, সাইফুল আমিন, জিয়া করিম, সুজাত মনসুর সহ অনেকে।
বেঙ্গল লেন্স যাচাই করে দেখেছে, ২০২৫ সালের ৫ মে থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগপর্যন্ত আওয়ামীপন্থী রাজনীতিক বিশ্লেষক শায়লা আহমেদ লোপা শুধুমাত্র এই চ্যানেলেই ২১১টি টকশোতে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া রোকেয়া প্রাচীও চ্যানেলটির একাধিক টকশোতে অতিথি ছিলেন।
এছাড়ও তিনি আওয়ামীপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট মুক্তা মনোয়ারের সঞ্চালনায় আলাপ বাংলা ইউটিউব চ্যানেলে ৮টি এবং অন্য সঞ্চালকদের সাথে ৩টি টকশোতে অংশ নেন। গত ৯ আগস্ট থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত আওয়ামীপন্থী এই চ্যানেলে মোট ১১টি টকশো করেছেন নাহিদ আক্তার। মুক্তা মনোয়ার তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে জঙ্গি আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এছাড়া তাকে নিয়মিতই দেখা যায় আওমী লীগের প্রোপাগান্ডা ন্যারেটিভ প্রচার করতে।
এছাড়া আমজনতা নামের আওয়ামীপন্থী এক্টিভিস্টদের একটি টকশো প্লাটফর্মে বেশ কয়েকবার অংশ নিতে দেখা যায় নাহিদ আক্তারকে। এই চ্যানেলটিতে নাহিদ আক্তারের অংশ নেওয়া টকশোগুলোর বিষয়বস্তু ছিলো- “ভারতীয় নাগরিক ঢাকায় আটক! রহস্য কি?”, “ঢাকা-দিল্লি সব চুক্তি কি বাতিল হচ্ছে?” “হাসিনাকে নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদীর রহস্যময় মন্তব্য! কী ইঙ্গিত দিলেন?”, এবার ভারত থেকে আসছে গম! এ লজ্জা কার?, আয়াসের দুঃসাহস! রবি ঠাকুরের ছবিতে কালি দেওয়ার পর কী ঘটল?
মাসুদ কামালের টকশো থেকে মেইনস্ট্রিমে
বেঙ্গল লেন্সের যাচাইয়ে দেখা গেছে নাহিদ আক্তারের এই টকশো যাত্রা শুরু হয় মাসুদ কামালের হাত ধরে। ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মাসুদ কামালের অন্য মঞ্চ চ্যানেলের টকশোতে প্রথমবারের মতো অংশ নেন নাহিদ আক্তার। আওয়ামী এক্টিভিস্টদের অনলাইন টকশোতে হাজির হওয়ার পাশাপাশি মাসুদ কামালের চ্যানেলে নিয়মিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকেন তিনি। ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে গত ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ১৩ মাসে ৩১ বার মাসুদ কামালের চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়েছেন নাহিদ। অর্থাৎ প্রতিমাসে অন্তত ২-৩ বার এই টকশোতে আসেন তিনি।
টকশোতে আওয়ামী বয়ান
গত ৫ অক্টোবর সাংবাদিক মাসুদ কামালের ইউটিউব চ্যানেল ‘অন্য মঞ্চ’ এর একটি টকশোতে অতিথি হিসেবে অংশ নেন নাহিদ আক্তার। যেখানে তিনি আওয়ামী লীগের প্রাসঙ্গিকতার বিষয়ে বলেন, "আওয়ামী লীগ অপ্রাসঙ্গিক বলে, আবার আওয়ামী লীগ নিয়ে পুরো টকশো শেষ করে দেয়। এত বড় একটা দল যারা স্বাধীনতায় এত বড় ভূমিকা রেখেছে এবং যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দল সেই দলটা প্রাসঙ্গিক না। এটা বলা খুবই হাস্যকর।"
ওই টকশোতেই নাহিদ আক্তার শেখ হাসিনার ভারত গমন প্রসঙ্গে বলেন, "শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে এই বয়ানটাতে আমি একমত নই। একমত না হওয়ার পেছনে অনেকগুলি কারণ আছে। সেই কারণটা দিনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যটা ভালো করে পর্যালোচনা করলে কিন্তু বোঝা যায়। একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যখন একটা দেশে তাকে বাংলাদেশের সামরিক বিমানে করে নিয়ে যায়, তখন কিন্তু আপনাকে তাকে ডিপ্লোম্যাটিকলি তাকে ওখানে আশ্রয় দেওয়াটা এটা খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। এবং দিনেশ ত্রিবেদীর মতে এটা কোনো ইন্ডিয়ান মিলিটারি এক্সট্রাকশন ছিল না, ইন্ডিয়া থেকে এসে তাকে নিয়ে যায়নি, ইভাকুয়েট করা হয়নি; বরঞ্চ বাংলাদেশের যে সামরিক বাহিনী আছে তারাই সামরিক বিমানে করে তাকে দিয়ে এসেছে। তো এখন আমরা কিন্তু ইভাকুয়েশনটাকে পালিয়ে যাওয়া হিসেবে বোঝাচ্ছি, যেটা আসলে রাজনৈতিকভাবে খুবই ইনকারেক্ট। এটা রাজনৈতিকভাবে কারেক্ট ওয়ার্ড না যে সে পালিয়ে গেছে।"
১৭ অক্টোবর তিনি চ্যানেল-আই এর টকশোতে অংশ নিয়ে নাহিদ আক্তার বলেন, "আওয়ামী লীগের যে রাজনীতি, এই রাজনীতিটা চলে চারটা পলিটিক্যাল ক্যাপিটালের উপর নির্ভর করে। একটা হলো ৭১-এর ওনারশিপ, একটা হলো নারী স্বাধীনতা, একটা হচ্ছে কালচারাল ফ্রিডম (সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা), আরেকটা হচ্ছে হিন্দুদের বা সংখ্যালঘুদের অভিভাবকত্ব। এই চারটা জিনিস আপনি আওয়ামী লীগ থেকে বাদ দেন, আওয়ামী লীগ জিরো।"
আওয়ামী লীগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, "আপনি যদি মুক্তিযুদ্ধের ওনারশিপ নিতে পারেন, তাকে প্রটেক্ট করতে পারেন, হিন্দুদের অভিভাবক হতে পারেন, সাংস্কৃতিক যারা প্র্যাকটিস করে তাদেরকে ফ্রিডম দিতে পারেন বা নারীদেরকে যদি আপনি পর্যাপ্ত স্বাধীনতা দিতে পারেন, তাদের অভিভাবক হন, তাহলে আওয়ামী লীগের পলিটিক্স বাংলাদেশে নাই।"
গত ১৫ অক্টোবর নিউজ-২৪ এর একটি টকশোতে নাহিদ আক্তারের জুলাইয়ের প্রসঙ্গে বলেন, “আপনি দেখেছেন যে প্রচুর মানুষ বের হয়েছে বা জীবিত হয়ে চলে এসছে। যারা জুলাই শহীদ, আবার এসছে, এরকম হয়েছে।”
একই টকশোতে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের গণহত্যার দায় স্বীকার প্রসঙ্গে নাহিদ আক্তার বলেন, "দায় স্বীকার করার ব্যাপারটা খুব ক্রিটিক্যাল। আমি যদি স্বীকার করি বা বলি যে, আই এম সরি, আমি কিছু ক্রাইম করেছি, তার মানে আমি স্বীকার করে নিয়েছি যে আমি ওটা করেছি। তো তার মানে সে জনগণকে বলছে যে সে এতগুলি মানুষ মেরেছে। এখন উনারা যেটা করবে—উনারা মানে আমার পারস্পেক্টিভ বলে যে—উনারা এই জিনিসটাকে ইনভেস্টিগেট করতে চাইবে। এবং আপনি দেখেছেন যে প্রচুর মানুষ বের হয়েছে যারা কিনা জীবিত হয়ে চলে এসছে, যারা জুলাই শহীদ আবার এসছে, এরকম হয়েছে। তো এই জিনিসটা যেহেতু আছে, সেহেতু এই জিনিসটাকে উনারা ইনভেস্টিগেট করে হয়তো একটা পর্যায়ে ডেফিনেটলি তারা সরি বলতে পারে। বাট আমার মনে হয় না খুব ইমিডিয়েটলি এখনই বলবে সিওর না হয়ে।”
গত ৯ আগস্ট মাসুদ কামালের ইউটিউব চ্যানেলের টকশোতে নাহিদ আক্তার বলেন, “চব্বিশের সরকারকে আমি ‘মব সরকার’ বলি”, “চব্বিশ হলো আমেরিকার মেটিকুলাস ডিজাইন”। এছাড়া একই টকশোতে তিনি ওসমান হাদীকে ‘জঙ্গি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
গত ৪ অক্টোবর ‘আমজনতা’ নামক ইউটিউব চ্যানেলের টকশোতে নাহিদ আক্তার শেখ হাসিনার দেশত্যাগ প্রসঙ্গে বলেন, "কোনো সরকার প্রধান যখন সাডেন একটা সংকটে পড়ে বা তার জীবন বিপন্ন হওয়ার হুমকি থাকে বা ঝুঁকিতে থাকে, তখন কিন্তু রাষ্ট্রের যে নিরাপত্তা কাঠামো তাদের দায়িত্ব হয়ে যায় তার জীবন রক্ষা করা এবং তাকে এই একটা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া। উনি যে পদ্ধতিতে গিয়েছে, ওই পদ্ধতিটাকে কোনভাবে, কোনো এনালিসিসে আপনি পালিয়ে যাওয়া বলতে পারেন না"
জুলাইকে ‘জঙ্গি’ ‘মব’ ‘বাংলাদেশ বিরোধী’ ‘মূর্খদের আন্দোলন’ আখ্যা
নাহিদ আক্তার নিয়মিতই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘জুলাই মব’, ‘জুলাই ধোঁকা’, ‘জুলাই জঙ্গি’ ইত্যাদি অভিধায় আখ্যায়িত করেন।
২০২৫ সালের ২১ মার্চ নাহিদ আক্তারের এক পোস্টে লিখেছেন,“আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দল, আর লাল বদর বাহিনী সমন্বয়কতন্ত্র July Jamat Movement এবং রাজাকারদের সমন্বয়ে গঠিত।”
২০২৫ সালের ১ জুলাই দেওয়া ফেসবুক পোস্টে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘মবের জুলাই’ আখ্যা দিয়ে নাহিদ লিখেছেন, “২০২৪ সালের আন্দোলনে যারা রাস্তায় নেমেছিলেন—বিশেষ করে শিক্ষকরা— আপনাদের কি ধারণা ছিল যে এই আন্দোলনের আড়ালে রাজাকারদের পুনরুত্থান ঘটছে?”
“এ আন্দোলন ছিল জাতির সঙ্গে এক নির্মম ধোঁকা—একটা সুপরিকল্পিত প্রতারণা”, “আন্দোলনে কতজন নিহত হয়েছে এবং গ*ণহত্যা আসলে কারা করেছে আপনাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ আছে? নেই।”, “এই আন্দোলনের ফলে দেশের মানুষের কোনো উপকার তো হয়ইনি, বরং দেশ আজ ভয়াবহ ক্ষতির মুখে”, “জুলাই ধোকা”, “হাসিনার শাসনের চেয়ে এখন অবস্থা আরও ভয়াবহ”, “এ এক জাতীয় ট্র্যাজেডি—আন্দোলনের নামে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে”, “ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতারণা হয়ে থাকবে এই ২০২৪ সালের আন্দোলন”।
গত ৫ জুলাই নাহিদ আক্তার এক পোস্টে লিখেছেন, “জুলাই-অভ্যুত্থান প্রকৃত অর্থেই এক ধরনের উগ্র ডানপন্থী (ফার-রাইট) উত্থান ছাড়া কিছু নয়।”, “চব্বিশের আন্দোলনের আড়ালে মব-সন্ত্রাস সৃষ্টি করে দেশকে লবিং-লুটপাটের রাজ্যে পরিণত করা হয়েছিল”।
গত ১৫ আগস্ট এক পোস্টে ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুরকারীদের ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে নাহিদ লিখেছেন, “ধানমন্ডি ৩২ এর সামনে জুলাই জ/ঙ্গি মব”।
গত ১০ অক্টোবর নাহিদ আক্তার জুলাই আন্দোলনকে “বাংলাদেশ বিরোধী আন্দোলন” “মূর্খদের আন্দোলন” আখ্যা দিয়ে এক পোস্টে লিখেছেন, “২০২৪ ছিল মূলত বাংলাদেশ বিরোধী পাকিদের ক্ষমতায়িত করার আন্দোলন ছিল, ছিল একদল মূর্খের বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি বয়ান তৈরি করা ষড়যন্ত্র।” “২৪ একদল দেশবিরোধী কালেক্টিভ মূর্খ বাকিদের লাইন লাইটে এনেছে, বানিয়ে দিয়েছে তাদের কোটি কোটি টাকার মালিক। ঘৃণা হয় দেশবিরোধী পাকিস্তানপন্থী এই লালবদরের দলের চেহারা দেখলে।” “এখনকার আন্দোলনটা বাংলাদেশ পুনর্গঠন এর আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংস্কৃতিকে ফিরে আনার আন্দোলন। এই দেশে পাকিকরণ এবং মওদুদীকরণের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন। এই আন্দোলনে জয়ী হতেই হবে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনতেই হবে।”
জুলাই আন্দোলনকারীদের বলেন ‘লালবদর’ ‘রাজাকার’
নাহিদ আক্তার জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও সমর্থনকারীদের নিয়মিত ‘লালবদর’ বলে আখ্যায়িত করেন।
গত বছরের ২৮ মার্চ এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “খোঁজ নিলে দেখতে পারবেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের লালবদর বাহিনীর পূর্বপুরুষ রাজাকার। জামাতের পলিটিক্যাল আইডিওলজি মনে মনে ধারণ করে। টিকে থাকার জন্য এখন ডাইরেক্ট জামাত নামে রাজনীতি না করার উৎকৌশল - তাই নতুন একটা পার্টি দিয়েছে। এরাই একটা নতুন রাজাকার প্রজার প্রজন্ম দিয়েছে। বয়স কম হলেই যে রাজাকার হতে পারবে না এমন কোন কথা নাই। রাজাকারের সংজ্ঞা পরিবর্তন করতে হবে। এরা নব্য রাজাকার। এরা সংখায় অনেক এখন।”
২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর নাহিদ আক্তার তার আরেকটি ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “এদেশ মুক্তিযোদ্ধাদের। এদেশ ২৪ এর আন্দোলনকারী রাজাকারদের নয়. তোরা জামাত হেফাজতের শক্তি নিয়ে নানান নাম হাজির হয়েছিস। ছাত্র শুক্তি, সমন্নয়ক, নারীবাদী- তোরা সব মূলত জামাত শিবিরের এজেন্ট।”
১৪ সেপ্টেম্বর এক পোস্টে লিখেছেন, “২৪ শে লালবদর দের আগ্লি চেহারা দেখলেই ঘৃ ণা হয় যারা দেশটা ডিপস্টেটের আর পাকি সৈনিকদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। মরার আগে এই বাংলায় এদের বিচার দেখে যেতে চাই। যদিও লাল বদর পাখিরা এখন মিডিয়া অ্যাডমিনিস্ট্রেশন শুরু করে বাংলাদেশের সব জায়গায় ডমিনেট করে রেখেছে কিন্তু এর পতন তো কখনো না কখনো হবেই।”
গত ১০ অক্টোরব এক পোস্টে লিখেন, “২৪ এর লালবদর বাংলাদেশ বিরোধী সেলফ প্রোকলেইমড বুদ্ধিজীবীদের পাকীকরণের বয়ান বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সংস্কৃতি ধ্বংসের প্রধান কারণ”
হাদির বিরুদ্ধে গালির অভিযোগ, নিজেই ব্যবহার করেন চ বর্গীয় গালি
১৪ অক্টোবর টাইম রিপোর্টের একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেছেন নাহিদ আক্তার, যেখানে তিনি ওসমান হাদিকে নিয়ে বলেছেন, “হাদি বাংলাদেশি কালচারের বিরুদ্ধে ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেছিল, যাতে বাংলাদেশের কালচারকে রিপ্লেস করতে পারে। হাদি গালিগালাজ শিখিয়ে গেছে। হাদি এই প্রজন্মকে নষ্ট করে গেছে।” হাদিকে নিয়ে তার আরও বক্তব্য দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
‘হাদি গালিগালাজ শিখিয়েছে’ বলে সমালোচনা করলেও গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নাহিদ আক্তার নিজেই এমন একটি পোস্ট করেন, যেখানে চ বর্গীয় শব্দের গালির ব্যবহার রয়েছে।
গত বছরের ১৬ জুলাই নাহিদ আক্তার একটি পোস্টে লিখেছেন, “এদেশে বোকা চো* ধান্দাবাজ এক বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর আবির্ভাব হয়েছে। যারা শিশু উপদেষ্টাদের ক্ষমতায় বসানোর পক্ষে বলে কয়দিন পরে আবার টকশোতে যেয়ে সেই একই বিষয়ে বিরোধিতা করে।”
গত ৪ জুলাই নাহিদ আক্তার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন “কেউ যদি ‘চব্বিশের অভ্যুত্থান’-কে ‘সিডিআই/cdi’ বলে অভিহিত করেন, সেটাকে নিছক গালি মনে করে রাজনীতির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। কারণ চব্বিশকে একাত্তরের জন্য হুমকি হিসেবেই দাঁড় করানো হয়েছে।”
২০২৫ সালের ১৬ জুলাই এক পোস্টে নাহিদ আক্তার লিখেছেন, “NCP ও বাংগু চামচা মিডিয়া প্রথমে nudely উস্কানি দিবে। গোপালগঞ্জবাসী ক্ষেপে গিয়ে আক্রমণ করবে। গোপালগঞ্জ আক্রমণ করার প্লটের লেজিটিমেসি রচিত হবে। পুরোটাই রাষ্ট্রের স্পনসারড আর একটা মেয়েটিকুলাস ডিজাইন। না হয় গোপালগঞ্জে দাঁড়িয়ে এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সাহস রাষ্ট্রের স্পন্সার্ট ছাড়া কিভাবে হয়। আমরা তো আর বাংলাদেশের বো চো বুদ্ধিজীবী না তবুও কিছু তো বুঝি।”
লিংকডইন আইডিতে দেওয়া তথ্যেমতে নাহিদ আক্তার ১৯৯৯ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে ২০০৩ সালে বিবিএ সম্পন্ন করেন। ২০১০ সালে তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় পার্টি (জাপা)‘র মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর মালিকানাধীন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।