Image description

রাজশাহীতে কৃষিপণ্য কিনতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ১১ ব্যবসায়ী। পথে নাটোরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তাদের পাঁচজনই নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে তাদের মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাজিরা উপজেলার কাজিরহাটের ধুলট হাটায় নিহত পাঁচ ব্যবসায়ীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতদের স্বজনরা।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া অংশে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ১৪ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে জাজিরার পাঁচ ব্যবসায়ী রয়েছেন।

নিহতরা হলেন জাজিরার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাট এলাকার ভুসামাল ব্যবসায়ী সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে শাহিন বেপারী।

স্থানীয়রা জানান, নিহত পাঁচজনই দীর্ঘদিন ধরে কাজিরহাট ও আশপাশের এলাকায় ব্যবসা করতেন। ব্যবসায়িক কাজে রাজশাহীর তাহেরপুরে কৃষিপণ্য কিনতে তারা একসঙ্গে রওনা হয়েছিলেন। ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়াসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।

জানাজায় অংশ নিয়ে সেনেরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কাজী বলেন, একসঙ্গে পাঁচজনের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই কষ্টের। তারা সবাই এলাকার পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসার কাজেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু এভাবে লাশ হয়ে ফিরতে হবে, তা কেউ ভাবেনি।

কাজিরহাট বাজার কমিটির সভাপতি মোখলেস মাদবর এশিয়া পোস্টকে বলেন, তারা বাজারের পরিচিত মুখ ছিলেন। ব্যবসার কাজে একসঙ্গে গিয়ে এমন দুর্ঘটনায় পাঁচজনের প্রাণ চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাদের পরিবারের ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।

কাজিরহাট বাজারের ইজারাদার টিটু আকন বলেন, পাঁচজনের মরদেহ একসঙ্গে দেখে নিজেকে ঠিক রাখা কঠিন। যারা প্রতিদিন বাজারে আসতেন, আজ তাদেরই জানাজা পড়তে হচ্ছে। তাদের পরিবারের কান্না দেখে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাইনি।

জানাজা শেষে নিহত পাঁচ ব্যবসায়ীর মরদেহ তাদের নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।