Image description

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের ব্যবহার করে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, তখন সেই দমনপীড়নের পেছনে অনেকেই অর্থ জুগিয়েছিলেন। এ আলোচনায় উঠে এসেছে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার নাম। তিনি আওয়ামী লীগের বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির নেতা ছিলেন। তিনি শেখ হাসিনার অন্যতম অর্থ জোগানদাতা।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যবসা ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে শক্তিশালী যোগাযোগ গড়ে তোলেন আগরওয়ালা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর কন্যা সায়মা ওয়াজেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আগরওয়ালা নিজের অবস্থান ধরে রাখতে নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগ তৈরির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। জানা যায়, জুলাই হত্যাকান্ডের ঘটনায় হওয়া প্রায় এক ডজন মামলায় আগরওয়ালার নাম রয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর কারাগারে থাকার সময় দিলীপ কুমার আগরওয়ালা হাসপাতালের কেবিনে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেন। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবসা পরিচালনা নিয়েও দীর্ঘদিনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, খাঁটি হীরার নামে উন্নতমানের কাচের পণ্য বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুবাই ও সিঙ্গাপুরকেন্দ্রিক সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে আগরওয়ালার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার এবং ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও দুবাইয়ে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের অনুসন্ধানে আগরওয়ালার বিরুদ্ধে ১১২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৭৫৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।